
আজ সন্তানের ক্ষুধা ও মা বাবা পরিবারের কষ্টের কাছে জীবন মরণের বাজি!
যে গার্মেন্টস কোম্পানি গুলোতে আজ জীবন বাজি রেখে কর্মীরা শত মাইল হেটে কর্মস্থলে যেতে প্রস্তুত, ট্রাকে, ভেনে, নৌকা লন্চে,বোটবুটি,নছিমন করিমনে পর্যন্ত সাতরায়ে যে খানে জীবনের তাগিদে মানুষ ছোটে সেখানে আর যাই হউক এটাই সত্য যে “মৃত্যুর চাইতে ক্ষুধা বড়”।
পরিবারের এক জনের চাইতে যখন বাকি সংসারে ফেলে আসা আর পাঁচ জন অনাহারের চিত্র চোখে ভাসে তখন কোনো ভয়ই মানুষকে তার গন্তব্য থেকে দুরে সরায়ে রাখতে পারে না। আজ গন্তব্য একটাই ক্ষুধা নিবারণ।
গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির ওডার বন্ধ হলে শ্রমিকের অর্থ যোগান আসবে কোথা থেকে আজ সেই বিষয়টি ভাবত হবে। সামাজিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বেষ্টনী যে দেশে তৈরী করা হয়নি সে দেশকে নিয়ে আমরা উন্নয়ন কোনো দেশের সাথে তুলনা করতে পারি না।
ঠিক এমনই একটা পরিস্থিতি আসতে পারে তাই এর আগে আমি আমার দেশের অর্থ নীতির উপর কিছু লেখা লিখে ছিলাম কিন্তু কেহই কর্ণপাত করনি তাই আজ আবার লিখছি।
যেমনটা ছিল হঠাৎ করে সকল সরকারি চাকরি জীবীদের বেতন দ্বীগুণ বৃদ্ধি। আমার উপদেশ ছিল
এভাবে বেতন বৃদ্ধি না করে, যার দশ হাজার বৃদ্ধি তার পাঁচ হাজার করা হউক, যার ২০ হাজার তার দশ হাজার করা হউক, এভাবে যার দুই হাজার তার এক হাজার করে বাকী অংশ এক হাজার, যার বিশ তার দশ হাজার, যার দশ তার পাঁচ হাজার সিকিউরিটি ফান্ডে রাখার ব্যাবস্থা করা হউক কিন্তু দূর্ভাগা বসত আমার লেখার কেউ গুরুত্ব দেয়নি কিন্তু সময় এসেছে এমন ধরণের কর্মসূচি হাতে নিয়ে রিফর্ম করার।
একদম সহজ বিষয় সামাজিক অর্থনৈতিক বেষ্টনী তৈরি করা। জানিনা শ্রম মন্ত্রী বা লুবানা হক আমার লেখাটি পড়বে কি না, তবে আমার বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টি নিশ্চয়ই আমলে নেবেন। তাই আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে ধিরে ধিরে দেশের সকল কর্মজীবী মানুষের সামাজি ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া।
সরকারী বা বেসরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মজীবী মানুষের বেতন থেকে কর্তন করা হউক যে কোনো একটা অংশ সে ১০% বা ২০% সে যাই হউক এর একটা অংশ সরকারি সিকিউরিটি ফান্ডে জমা রাখা বাধ্যতামূলক করা । যা যে কোনো রাষ্ট্রিয় জরুরী অবস্থায় বড় ধরণের সহায়ক হিসাবে কাজ করবে।
তাই প্রয়োজন মালিক শ্রমিকের সমণয়ে একটা সঠিক শ্রম নীতি প্রণয়ন করা।
কোনো গার্মেন্টস শ্রমিক যদি এই নীতিতে আসে তার আগামীতে ১০০০ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধির ৫০০টাকা যদি সিকিউরিটি ফান্ডে নেওয়া হয় তবে মাসে ৫০০ টাকা হিসাবে বৎসরে ৬০০০ হাজার, ১০ বৎসরে সুদ আসলে কম পক্ষে ৮০,০০০ হয়ে যায় ২০ বৎসরে প্রায় ২৫০০০০ দুই লাখ পঞ্চাশ হাজারে দ্বাড়ায়। অনুরূপ ৫০০টাকার কাছে ১০০০ কর্তনে দ্বারায় ২০ বৎসরে ৫০০,০০০টাকা ২০০০ টাকায় ২০ বৎসর ১০০,০০০ টাকা। ৪০০০ টাকায় ২৫,০০০০০ পঁচিশ লাখ টাকা।
এই অর্থ কোম্পানি বা সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে কাজে লাগাতে পারে, অনুরূপ কর্মীরাও কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি যত্নশীল হতে বাধ্য তার জমানো অর্থ ফিরে পেতে।
তার ছাড়াও শ্রমিক কোনো ভাংচুর বা অকারেন্স করতে শত বার চিন্তা করবে কারণ এই অর্থ বাজেয়াপ্ত হওয়ার সর্ত থাকবে প্রতিষ্ঠান বিরোধী কর্মকান্ডে । অন্যদিকে মালিক পক্ষ্য শত বার চিন্তা করবে কর্মী ছাটাই করতে গেলে গুণতে হবে শ্রমিকের এই ইনভেস্টমেন্ট অর্থাৎ বড় অংকের টাকা।
জার্মানিতে এমনটা হিসাবে কেউ দশ বৎসর পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করলে গুণতে হয় দশ মাসের বেতন, বিশ বৎসরে ২০ মাসের বেতন ত্রিশ বৎসরে ৩০ মাসের বেতন, যা শ্রমিক বিষয়ক আদালত সীমিত সময়ে নিষ্পত্তি করে থাকে। অর্থাৎ ৩০০০ হাজার ইউরো মাসিক বেতন হলে ৩০ বসরে ৯০,০০০ ইউরো গুণতে হবে কোনো হের ফের ছাড়াই । আর আদালতের দেরি হওয়া মানে কোম্পানি বা সরকারকে গুণতে হবে শ্রমিকের সংসার চালানোর খরচ।
যেহেতু আমার দেশ মধ্যম আয়ের দেশ সেহেতু আমাদের শুধু নামে মাত্র উন্নয়নের গুণগান গেয়ে মিথ্যার জগৎ এ বাস না করে সত্যিকারের উন্নয়নশীল কর্মসূচি গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক বলে আমি মনে করি।
আজ যে মহা সংন্কটে দেশ করোনায় যদি সমাজের
এমন অর্থনৈতিক ষ্টাকচার থাকতো তবে বৎসর ভরা ঘরে রেখে শ্রমিক পালতে সরকার বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোর বেগ পেতে হতো না কিন্তু যেহেতু আমাদের তেমন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কোনো সিস্টেম গড়ে ওঠেনি সে হেতু অন্য যে কোনো উপায় সরকার ও শ্রমিকের সীমিত।
আমেরিকার সরকারও হিমসিম খেয়ে বাধ্য হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠা খুলে দিতে। কারণ কোম্পানি ও সরকার বসে রেখে বিশাল শ্রমবাজার ধংস হতে দিতে রাজি নয় কারণ অর্থনৈতিক ভারসাম্যতা ছাড়া দেশ পরিচালনা করা সন্ভব নয়।
তাই সময় এসেছে সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচি হাতে নেওয়ার। দেশের এই সঙ্কটময় মূহুর্তে মাননীয় জননেত্রী শেখ হাসিনা, আমার প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। সেই সাথে বিনীত অনুরোধ থাকবে আপনারা শ্রমিক, মালিক,জনসাধারণ প্রত্যেকেই নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতরের সাথে বিবেচনায় নেবেন।
আপনার কোনো কিছু হয়ে গেলে আপনার পরিবারকে কে দেখবে বিষয়টি হাজার বার চিন্তা করে সামাজিক নিরাপত্তার বজায় রাখবেন। আপনাদের সকলের মঙ্গল কামনা করছি। বিপদে সাবধানতা অবলম্বন করুণ। জয় বাংলা জয় হউক মেহনতী মানুষের।
ময়েদুল ইসলাম তালুকদার
জার্মান প্রবাসী কবি এবং সমাজ কর্মী ।

