মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বিশ্ব নেত্রী। আপনি জাতির পিতার সুযোগ্য কণ্যা। যে মহান নেতা একটি মানচিত্র, একটি দেশ উপহার দিতে পারে তার কণ্যা একটি সুন্দর পৃথিবীর উপমা হতে পারে, সেই বিশ্বাসেই আপনার প্রতি দাবী রেখে আমার এই আবেদন।
পৃথিবীর করোনা মহা মারীর আলোকে সময় এসেছে দেশ শাসনের পরিকল্পনা মানবিক ও বাস্তব মুখি চিন্তায় নিজেদের প্রস্তুত করা আর সেই আঙ্গিকে আপনার নিকট বিনম্র শ্রদ্ধা রেখে আমার এই আবেদন।
আপনার নিকট থেকে ঘোষণা চাই, আর কখনো হবে না ক্রয় যুদ্ধের মারণাস্ত্র, হবে ক্রয় ক্ষুধার্থ মানুষের ক্ষুধানিবারণের সামগ্রী, হবে ক্রয় চিকিৎসা সামগ্রী । হবে না ট্যাংক, যুদ্ধ বিমান, মিসাইল টরপেডো, সাব মেরিন, এ্যাসেলার, এল, এম জি, এফ এম জি, ষ্টেনগান মেশিনগান ইত্যাদি মানুষ হত্যার অস্ত্র ক্রয়।
কেউ না কেউ শুরু করলেই, শুরু হবে বিশ্বশান্তি।
দেশের শান্তি বজায় রাখতে যে সামরিক সরাঞ্জাম প্রয়োজন শুধু তাহাই ক্রয় হউক। এ ছাড়া সামরিক খাতে বন্ধ করে দেওয়া হউক সকল ব্যয়। তবে ব্যয় হবে সামরিক বাহিনীর প্রতিটি সদস্যর জন্য তাদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে হবে মর্ডান টেকনোলজিতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, গবেষণা, হায়ার ষ্টাডি ইত্যাদিতে। তাদের মাধ্যমে করতে হবে বাধ্যতামূলক সকল নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা।
১৮ বৎসর হওয়ার পর থেকে দুই, এক, অথবা হউক না সে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ যা হবে বাধ্যতামূলক প্রত্যেক নাগরিকের । যাদের দেশের যে কোনো দূর্যোগে বোনাফাইট প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, সেবক, নার্স, সাহায্য কর্মী হিসাবে রাখতে পারেন দেশের অতন্দ্র প্রহরী হিসাবে । প্রত্যেক নাগরিকের হউক সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতা মুলক। যা ইউভার্সিটিতে যাওয়ার আগের পূর্বশর্ত হিসাবে কাজ করবে। এতে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সকল জ্ঞানার্জন ও মানবিক ও মানসিক প্রশিক্ষন দিয়ে অজ্ঞতার আধাঁর হতে মুক্তি সাধন সহজ হবে। আজ আমরা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর চোখের সান্মে স্পষ্ট ভেসে উঠছে আমাদের জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কতো মূর্খতা নিয়ে বাস করছে। নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নেই বিন্দু মাত্র সচেতনতা ।
আমরা কিসের উন্নয়নের গর্ব করি? যাদের নিজের স্বাস্থ্য স্বচেতনা নেই আর যাই হউক সে জাতিকে শিক্ষিত বলা যায় না। মানুষের ব্যক্তি গুণাবলির নাম শিক্ষা, যা আমি আমার প্রতিটি লেখায় লিখে থাকি। আমি চাই সেই শিক্ষা যার জন্য প্রয়োজন, সিভিল প্রশিক্ষণ সে ছয় মাস, এক বৎসর বা হউক না কেনো জার্মানির মত দুই বৎসর। আর সেই সময়টা আপনাকেই আপনার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বের করতে হবে।
যে দেশ সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে মাত্র নয় মাসের প্রশিক্ষণে দেশ স্বাধীন করতে পারে সেই জনগোষ্ঠী নিয়ে প্রয়োজন নেই অযথা সহস্র কোটি টাকা বহির্বিশ্বের আক্রমণের ভয়ে অস্ত্র তৈরিকারী দেশ গুলোকে লাভোবান করা।
আমরা শান্তিপ্রিয় বাঙালি জাতি, আমাদের প্রয়োজন নেই, অসভ্যতার পাল্লায় আমাদের জড়ানো।
আজ আমাদের দেশের বাঙ্গালীকে নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে শান্তি মিশনে পৃথিবীর বৃহত্তর U.N. কন্টিগেন্স, যাতে সার্বিক ভূমিকা রাখছে বাঙালিরা। আমাদের ম্যান পাওয়ার আছে, আমরাই শাসন করব শান্তি মিশনে সমস্ত পৃথিবী। দৃষ্টান্ত রাখব মানবতার।
দেশের জন্য সামরিক খাতের অর্থে তৈরি করব সুশিক্ষিত, কর্মঠ জনশক্তি। যেখানে থাকবে না অভাব খাদ্যে, চিকিৎসায়, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির।
কৃষি সরাঞ্জাম , যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাসস্থান গড়ে উঠবে মানবতার দৃষ্টান্ত হয়ে। মানুষ পাবে বিচার ব্যবস্থায় সঠিক বিচার। যাতে সমবন্টন নীতি পাবে অগ্রাধিকার, শিক্ষাখাতে থাকবে না দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি। সঠিক শিক্ষা নিয়ে বেড়ে উঠবে নতুন প্রজন্ম।
মায়েদুল ইসলাম তালুকদার , জার্মান প্রবাসী কবি এবং সমাজকর্মী ।

