“নিউইয়র্কের চিঠি ” “মানুষ মানুষের জন্য” এই স্লোগানকেই নিজের জীবন ও কর্মে ব্রত করে নিয়েছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী কাজী ফৌজিয়া ! নিয়তির চরাই উৎরাই মেনে ও মানিয়ে নিয়ে নয় যুদ্ধ ও জয়ে এগিয়েছেন সম্মুখে। আপোষহীন এই পথ চলার ঘটনা গুলোকেই কাজী ফৌজিয়া লিখেছেন তার “নিউইয়র্কের চিঠি” বইটিতে। বিগত বছর গুলোতে newsnextbd.com ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করে নিউইয়র্কের চিঠি । লেখক তার ব্যক্তি ও কর্ম জীবনের ঘটনা প্রবাহ বলেন চিঠির বয়ানে কোন এক অধরা বন্ধুকে ! যে বন্ধুর কোন নাম নেই, ছবি নেই ! আছে শুধু লেখকের বলে যাওয়া। সেই সকল চিঠি হতে বাছাইকৃত মোট ৩১ টি চিঠি স্থান পেয়েছে বইটিতে । লেখিক তার প্রতিটি চিঠিতেই সম্ভাষণ ও বিদায় জানিয়েছেন বন্ধুকে, দেশ ও দেশের মাটির প্রতি পরম মমতা ও ভালোবাসায়। মূল কথায় লিখে গেছেন, সমসাময়িক কোন এক সত্য ঘটনা। “নিউইয়র্কের চিঠি”তে বেশীরভাগ লেখাই আমেরিকার জীবন, সামাজ অর্থনীতি ও রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত অভিবাসীদের কথা। তাদের সমস্যার চিত্র, বাস্তবতা। “নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো” স্বভাবী হলেও, পেশাগত ভাবেই কাজী ফৌজিয়া অভিবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংগঠন ড্রাম এর কর্মকর্তা ও সংগঠক। একজন মাঠের লোক হয়ে তিনি দেখেছেন পরবাসের সমস্যা গুলো। মানুষের কষ্টগুলোকে উপলব্ধি করেছেন, খুঁজেছেন সমাধান। সিনেমার গানের দৃশ্যে পেঁজা তুলোর মত বরফ পড়া রোমাঞ্চকর হলেও বাস্তবতা তাকে ভাবিয়েছে, পথে কাজ করা দেশী মানুষগুলোকে নিয়ে।

বন্ধুকে লিখেন তিনি, জানান চতুর ফাঁদপাতা শিকারির মত প্রশাসন কত নাটকীয়তায় ফাঁসায় অভিবাসীদের। স্বপ্নের বিপরীতে বাস্তবতার নগ্নচিত্র উঠে আসে তার ধারালো কলমের খোঁচায়। তার বলে যাওয়া নির্জলা সত্য হয়ত বুকে বিঁধে অনেকের, হয়ত আঘাত করে বহু বহুরূপীদের। সীমান্তে, কিংবা নদীতে যখন ভেসে আসে কোন স্বপ্নবাজ দেশী তরুনের লাশ, কাজী ফৌজিয়া তখন ছুঁটে যান লাশ শনাক্ত করতে। কর্তব্য পালন করেন পরিবার পরিজন খুঁজে পেতে, দায়িত্ব নেন সেই মৃত দেহ দেশে পাঠাতে। লেখিকা তার বইটি উৎসর্গ করেছেন, “হিদয় ও নাইমের মত অসংখ্য সীমান্ত অতিক্রম করা অভিবাসীকে, যারা রুটি রুজির সন্ধানে সীমান্ত-অতিক্রম-করতে গিয়ে জীবন হারিয়েছেন।” নিউ ইয়র্কের চিঠি প্রকাশ করেছে, আগামী প্রকাশনী। প্রকাশক, জনাব ওসমান গনি প্রচ্ছদ করেছেন, শফিক শাহীন বইটির মুল্য ৪০০ টাকা। বইমেলা ছাড়াও বইটি পাওয়া যাবে সকল অনলাইন বই বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ও লাইব্রেরী গুলোতে। ঠোঁট কাঁটা মানুষটির ঠোঁট ফুলিয়ে অভিমানে বন্ধুকে চিঠি লেখা অব্যহত থাকুক। তার কথায় ও কাজে প্রতিফলিত হোক, “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।” “নিউইয়র্কের চিঠি” পাঠক প্রিয়তা পাক।
বিএস/শুদ্ধস্বর ডটকম ।

