‘ঐক্যফ্রন্ট নেতারা মাওলানাদের মতো ফতোয়া দিচ্ছেন’

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ফল নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা মাওলানাদের মতো ফতোয়া দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ঐক্যফ্রন্টের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে গৎবাঁধা কথা বলা বাদ দিয়ে বাস্তবতাকে মেনে নিন। শুধু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নন, ঐক্যফ্রন্টের কিছু নেতাও বিশেষ করে ড. কামাল হোসেনও নির্বাচন নিয়ে নানা কথা বলেছেন। বাংলাদেশে কোনো বিষয় নিয়ে মাওলানারা যেভাবে ফতোয়া দেন, আমি লক্ষ্য করেছি ঐক্যফ্রন্ট নেতারাও সেভাবে ফতোয়া দেয়া শুরু করেছেন।’

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন।

‘ট্রমালিংক : সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক সেবা প্রদানধর্মী স্বেচ্ছাসেবীমূলক কার্যক্রমের পাঁচ বছর’ শীর্ষক আলোচনা সভার প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

ট্রমালিংকের চেয়ারম্যান মৃদুল চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা) এ ই মো. মহিউদ্দীন ওসমানী, ডিএমপির ট্রাফিক দক্ষিণের জয়েন্ট কমিশনার বাসুদেব বণিক, বিআরটিএর প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে পারবে না। কারণ তিনি দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে সাজা ভোগ করছেন। তাকে মুক্ত করার একমাত্র পথ হচ্ছে আইনি পথ। তাকে যদি আদালত জামিন দেন তবে তিনি মুক্তি পেতে পারেন। সুতরাং তাকে মুক্তি দেয়ার এখতিয়ার সরকারের নেই।

বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাবেশ করতে গিয়ে অতীতে তারা হাঙ্গামা করেছে, মানুষের ওপর আক্রমণ করেছে। সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুমতি দেবে কি দেবে না, সেটা তারা দেখবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে তাদের উদ্দেশ্য কী।

সিটি নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ইভিএম মেশিনে যে ভোট হয়েছে এর মতো স্বচ্ছ ভোট বাংলাদেশের ইতিহাসে আর হয়নি। ইভিএম মেশিন প্রত্যেক দলের জন্য পোলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মিললে ভোট দেয়ার সুযোগ নেই। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ২৯ শতাংশ ভোট পড়েছে আর উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। এতে আমাদের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। এজন্য লজ্জা ঢাকতে যে কথা বলতে হয়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব সেই কথাই বলছেন।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, রাস্তায় গাড়ি ধাক্কা দিয়ে পথচারীদের ফেলে দেয়। আবার তার ওপর দিয়ে চাকা চালিয়ে দেয়া হয়। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এগুলো দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। সবাইকে সচেতন হতে হবে। স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক আইন শেখাতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমাইন আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে সড়কে চলাচলরত অন্য গাড়ির মালিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় সড়কেই পড়ে থাকেন। আহত ব্যক্তির রক্ত গাড়িতে লেগে যাবে বলে সড়কে চলাচলরত অন্য গাড়ির মালিকরা তাদের নিজেদের গাড়িতে তুলে নিতে চান না। তাদের কাছে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জীবনের চেয়ে গাড়ির মূল্য অনেক বেশি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.