শুধু দাম্পত্য জীবনের স্রোত নিয়ে নারীর অবস্থান বা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব না। নারী পুরুষের সমতায় বিবাহ সমাচার, সম্পর্কের বিষয়টি সর্বজনীন প্রসঙ্গ। যৌন হয়রানির দায়, অধিকার, সন্মান সহ অন্যান্য বিষয়গুলি সম ভাবে বিভিন্ন ধরনের লেখা পর্যালোচনা করব।
পাশ্চাত্যের দেশগুলো লিভ টুগেদার করছে, কিন্তু বিয়ে করলে ৫০%শেষ হয়ে যায় ডিভোর্সে।আর প্রাচ্যে ৫০% ধুঁকে ধুঁকে সংসার করতে বাধ্য হয়, কিছু প্রথার বিরুদ্ধে এসে ডিভোর্স নেয় এবং মানসিক চাপ, বিষন্নতা ঘিরেই আবর্তিত হয় নারীর জীবন।
আমাদের সমাজে ডিভোর্সের পরবর্তী
সময় নারীর জন্য কষ্টকর, সন্তানদের প্রতি বাবার দায়িত্ব পালনের ইচ্ছাটা তুলনামূলক কম! পুরুষের সচ্ছলতা থাকলেও আমাদের সমাজে জটিল কাজ গুলো নারীর ঘারে সবসময় দায়িত্ব বর্তায়, যদিও পুরুষের সমতায় অর্ধেক অংশ নেওয়া উচিত_____বাস্তব
অবস্থায়! তা কখনো হয়নি, নারী যদি বিবেচক না হতো তাহলে, সংসার, সন্তান, দায়িত্ব, অচলাবস্থা সৃষ্টি হতো। এই সময়ে_ নারীর জীবন মহাসমুদ্রে নিক্ষেপিত হয়ে থাকে। অথচ পূরুষের জন্য সমাজে আরো একটি পথ তৈরি হয়। এখানে নারী একজন ভিকটিম ছাড়া কিছুই নয়।
নারীর জীবন চিরায়ত বেড়াজালে আবদ্ধ, যাকে সংসারের অজুহাতে মাতৃত্বের দায়িত্ব দিয়ে সব প্রতিভা, ক্ষমতাগুলো একটু একটু করে নষ্ট করে ফেলে, কর্ম জীবন শুরু করার আগে তাকে সংসারের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে করে তুলে গৃহিণী, এবং সম্পর্কের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে নারী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় তার যোগ্যতা।
একটি ছেলে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি খোঁজে, পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন সহযোগিতা করে,যাতে সে কষ্ট করে পড়ার বা যোগ্যতার ফলাফল পায়। ক্যারিয়ার শুরু করেন।
অন্যদিকে দেখা যায়, একই সাথে পড়া শেষ করে ঠিকই, কিন্তু মেয়েদের __
ক্ষেত্রেই অন্য নিয়ম! সন্ধান চলে…. সুপাত্রের।
আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহার হয়, বেশি হয় নারীর এডুকেশন নিয়ে, সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক নারী পুরুষের নির্যাতন সহ্য করে শুধুমাত্র সন্তানদের জন্য! ওদের কি হবে?
আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজে পরিবার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সংস্থা যা টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব কেবল নারীর
ঘানিটানা জীবন, যেখানে সংসারের বাজার, রান্না করা, বাচ্চা পালন, আরো দায়িত্ব জীবনের স্রোতের যে মন
বা মনোযোগ তা হারিয়ে ক্লান্তি, অতৃপ্তি, আর্থ সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সমাজে অবক্ষয় ধংস করে রাখছে নারীর ব্যাক্তি জীবন। শুধুমাত্র সন্তানদের নিয়ে আলাদা জীবন, অভিযোগ , অবিবেচক স্বামী অসহায় নারী কে উদ্ধার তো করে না, বরং অচেনা অন্ধকার এ ঠেলে দিয়ে থাকে।
এভাবেই মানবাধিকার ভঙ্গ করে;
কারন একজন উপার্জনক্ষম পূরুষের সংসার করতে দরকার একজন নারী,
যে যৌন সঙ্গি হবে, সন্তান ধারণ করবে
ভাত ও রান্না করবে। এই সব ছাড়া আর কোন দরকার নেই। এভাবেই আমাদের সমাজে পরিবারের পূরুষ সদস্য তৈরি করা হয়। আদিম যুগের অবসান এখনো হয়নি। এখানে এখনো
একটি মেয়ে “রেপ ” হলে তাকেই জেরার মুখে পড়তে হয়!
সমাজে অবক্ষয় রোধে পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরী। পূরুষ অত্যন্ত স্বার্থপর হয়ে সমাজের সকল সুযোগ সুবিধা একাই ভোগ করছে। নারীদের জীবনের চারপাশে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন বাধানিষেধ, এমন মোহ জাল তার ভেদ করতে নারী দাসত্বের দড়জা খুলে বেরিয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। সাধারণ অর্থে মেয়েরা ঘরে
থাকে, পুরুষ বাইরে কাজ করে । এই সমাজে তাদের কাজ ভিন্ন, নারী পুরুষ
একই সঙ্গে পড়াশোনা করে কিন্তু ফাক বা পার্থক্য মেয়েদের শিক্ষা গ্ৰহন ও তার যোগ্যতার মধ্যে।
তাদের পড়াশোনা কৌতূহল, পছন্দ, বিষয়, চাহিদা, যৌন অনুভূতি, ভালো লাগা মন্দ লাগা,ভয় সাহসিকতা, রুচি, ঢং, আনন্দ,সইবার ক্ষমতা সবে ভিন্নতা
রয়েছে।
মানুষ জন্ম নেয় স্বাধীন ভাবে মৃত্যুও হয় স্বাধীন ভাবে, কিন্তু আমাদের সমাজে নারীর স্বাধীনতা নেই। নারীর জীবন মহাসমুদ্রে নিক্ষেপিত না হলে নারীর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না। দাম্পত্য জীবনে একজন নারী কি পায়
শুধু হাহাকার! সমাজ সংস্কৃতি বাঁচাতে গেলে নারী কে মানুষ হিসেবে বিবেচিত
করতে হবে।
আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের বিশেষ করে ছেলে বাচ্চাদের
তাদের পরিবারের সদস্যদের বিশেষ মানসিক শিক্ষা প্রদান করা উচিত।জানি তা বেশ কঠিন কাজ কিন্তু বারবার চেষ্টা করার হাল ছাড়া যাবে না
সব কিছু মিটিয়ে ফেলা যায় কিন্তু পারিবারিকভাবে শিক্ষা ভুলে যাওয়া বেশ কঠিন।
জেঁগে ওঠো বাংলাদেশ।

সুলতানা ফিরদৌসী

