কান্না আমাদের খুবই সাধারণ একটা অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম। কান্না অনেক প্রকারের হয়। অনেক মানুষ চিৎকার করে কাঁদেন। আবার অনেক মানুষের কান্নার সময় গলা থেকে কোনও আওয়াজই হয় না। ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিইচ্ছায় হোক মানুষকে কাঁদতে হয়। মানুষ কাঁদে! কেন কাঁদে? চড়ুই সমান বুকে আকাশ সমান কষ্ট নিয়ে তো আর চলতে পারে না, তাই কাঁদে। বুকে চেপে বসা কষ্টের পাথর সরাতে কাঁদে। নিজেকে হাল্কা করার জন্য কাঁদে। হৃদয়ের মহাকম্পন কমানোর জন্য কাঁন্নায় তো একমাত্র মহা অবলম্বন। পৃথিবী বড়ই নিষ্ঠুর, আমরা মানুষ গুলোই না বড়ই স্বার্থপর। কেউ কারো দুঃখের অংশীদার হতে চায় না, কিংবা কেউ শেয়ার করতে চাইলেও এড়িয়ে চলি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুঃখ-কষ্ট গুলো যখন মহীরুহে পরিণত হয়, দুঃখের কষাঘাতে যখন বুকের পাঁজর ভাঙ্গার উপক্রম হয় তখন অঝোর ধারায় কেঁদে কেটে বুক ভাসায়। এতে ব্যাথা উপসম হোক বা না হোক, সাময়িক শীতলতা তো অনুভুত হয়! অশনিসংকেত মনে যখন ভয় জাগায়, না পাওয়ার বেদনা যখন মনে চেপে বসে, প্রিয়জনের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য যখন জীবনকে বিষাদময় করে তুলে, পারিবারিক অশান্তি যখন ধৈর্য্য চ্যুতির চরম পর্যায়ে পৌঁছাই, সামাজিক ভাবে যখন হেয় প্রতিপন্ন হই, কষ্ট করেও সাফল্য যখন অধরা থেকে যায়, আপনজনও যখন দূরে সরতে থাকে, তখন কান্নাকেই অবলম্বন করে বেঁচে থাকি। এই অশ্রুই তো নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখায়। অবহেলা, অবসাদ যখন বাঁচার পথ রুদ্ধ করে, অভিমান যখন বিতৃষ্ণার জন্ম দেয়, জীবনকে যখন তুচ্ছ মনে হয়, স্বপ্নগুলো যখন ফ্যাকাসে হয়ে যায়, তখন উচচ স্বরে সবার সামনে কাঁদতে ইচ্ছে হলেও লোক লজ্জার ভয়ে আড়াঁলে বা গোপনে কাঁদতে হয়। বুক ফাটলেও শক্ত সাজতে হয়। অভিনয় করে আর কতই বা জীবন চলানো যায়। তখন লুকিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে হয়। হৃদয় ভেঙ্গে যখন চৌচির হয়ে যায়, কটু কথায় যখন মন ভারী হয়ে যায়, দুষ্টু লোকের কুপ্ররোচনায় জীবন যখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে, পারিবারিক অশান্তিতে যখন সংসার ভাঙ্গার উপক্রম হয় তখন উচ্চ স্বরে সকলকে নালিশ জানাতে ইচ্ছে করলেও নীরবে সৃষ্টি কর্তাকে জানাতে হয়, অদৃষ্টেরর মালিক কিছু করুক বা না করুক, তবুও তার উপর ভরসা রাখতে হয়। তাতেও কাঁদতে হয়। চোখের জল ফেলতে হয়, মুছতে হয়। এই অশ্রু ফেলা- মুছার বেড়াজালে জড়িয়ে নিজের অস্থিত্বকে টিকিয়ে রাখতে হয়। আবার নিজেও যে নগণ্য মানুষ তাই ভেবে অবাক হতে হয়! একাকী ঘরের দরজা বন্ধ করে কাঁদি, বাথরুমে পানির ঝর্ণা ছেড়ে দিয়ে কাঁদি, বিছানায় শুয়ে মুখে বালিশ গুঁজে কাঁদি, অবুঝ মনকে যখন প্রবোধ দিয়েও ধরে রাখতে পারি না তখন ও কাঁদি। পরিবার পরিজন বিয়োগে কত রকম করেই না কাঁদি। কখনো উচ্চ স্বরে কাঁদি, কখনো চিৎকার করে কাঁদি, কখনো ফুঁপিয়ে কাঁদি, কখনো নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিই, কখনো বোবা কান্না করি। কান্নার রকমফের হলে ও মানুষ কাঁদে! কেঁদে কেটে পুনরায় বাঁচার স্বপ্ন দেখে। সুদিনের প্রতীক্ষায় থাকে। কেননা দুঃখের পড়েই তো সুখ আসে। মােদ্দাকথা, কান্না মােটেও অপরাধ নয় কিংবা লজ্জা পাওয়ার বিষয় নয় বরং খুবই স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়া। মানুষের মন খারাপ হলে বা ব্যথা পেলে কাঁদবে এটাই স্বাভাবিক। মানুষ বলেই না সে কাঁদতে পারে!

আবু জাফর শিহাব (এল এল বি)

