যন্ত্রণাক্লিষ্ট এক প্রাণের আর্তি -এস.আই.তানভী

পালাবো না, যাবো আর কোথা?

ভারত-চীন সীমান্তে

অভেদ্য সীমানা প্রাচীর আর নির্দয় সব প্রহরী প্রাণ,

স্থল মাইন পুঁতে রেখেছে আপন দেশমাতা অং সাং সুচি।

মরতে মরতে এখানে এসেছি বাঁচতে- অর্ধ ধর্ষিত হয়ে,

তুমিও শরীরটা চাচ্ছো, তোমাকে রুখবার শক্তি আমার নেই।

 

ওরা আমাকে ধরতে পারেনি,

বোরকা আর কামিজের ব্যাকপার্ট

বার্মার সেনারা ছিড়ে নিয়েছে শুধু, দ্যাখো দ্যাখো-

পিছনের কাপড় নেই, তবুও সম্ভ্রম খানিকে বাঁচিয়ে এনেছি।

 

শত শত বাবার সাথে আমার

বাবাকেও জ্বালিয়ে দিয়েছে,

মা’কে তিন দিন ধরে বেঁধে রেখে, অনেক মায়ের সাথে

নগ্ন করে কী রক্তাক্ত কাম খেলা খেললো! তারপর-

অতি নারকীয় যন্ত্রণায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন;

ভাই- বোনেরাও একইভাবে মিশে গেছে ছাঁই হয়ে

মৃত্তিকার ধুলোয় আর স্বামী?

তার শরীরের টুকরো হিসেব করতে পারি নি;

একটা মেয়ে ছিলো,

সোনা মণি বছর সাতেকের হিরক টুকরো,

না, তাকেও বাঁচাতে পারি নি,

অনেক শিশুর লাশের উপর হামাগুড়ি দিয়ে,

রক্তে বুক ভিজিয়ে নাফ নদী এসেছি-

আর কিছুই মনে পড়ে না,

চোখ খুলে দেখলাম তোমাকে।

কী যেন খেতে দিলে একটু আগে

আর এখন খেতে চাইছো আমাকে।

বলো, আমি কি বেঁচে আছি? বেঁচে আছি?

সব তো হারিয়েছি, কি লাভ বেঁচে থেকে?

যখন- রক্ত দিয়ে রোজ লাল হয় পৃথিবী,

মানুষ হয় হায়েনা থেকেও হিংস্র।

আর বাঁচতে চাই না কোন শর্তে,

অনতিবিলম্বে মেরে ফেলো

আমি শীতল মাটির নিচেই থাকতে চাই শান্তিতে—–।

tanvie

এস.আই.তানভী

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.