নিথর বিএনপি,স্থবির ঐক্যফ্রন্ট,বিব্রত আওয়ামীলীগ

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন অদ্ভুত এক সময় পার করছে , রাজনিতির এমন কুঁকড়ে কুণ্ঠিত হয়ে যাওয়া দেখে অবাকই লাগছে , বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস পর্যবেক্ষণ   করলে দেখা যায় সামরিক শাসনের মধ্যেও বিরোধী রাজনীতি গোপনে হলেও সক্রিয় ছিল ।বড় বড় দল গুলো থেকে ছোট দলেও তখন গোপন তৎপরতা চলতো , সেই সময় ৬০ বা ৭০ দশকের কিছু রাজনৈতিক নেতা জীবিত ছিলেন এবং সক্রিয় ছিলেন , তারাই রাজনীতিকে সঙ্কটময় মুহূর্তে বাঁচিয়ে রাখতেন । এই সময়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তাদের নেত্রী কারাগারে আজ প্রায় দুই বছর হতে চলেছে ,জেলে যাওয়ার পর মনে হয়েছিলো আইনি পথে উনাকে মুক্ত করতে না পারলে তারা রাজপথে আন্দোলন করবে , কিন্তু এ পর্যন্ত তাদের   অফিসে বসে সাংবাদিকদের সামনে বিলাপ করা ছাড়া আন্দোলন তো দূরের কথা আর কিছুতেই দেখা যায় নি ।  মাঝে মধ্যে অনুমতি সাপেক্ষে হলের ভেতর আয়েশি আলোচনা অনুষ্ঠানে সুন্দর পোশাক পড়ে নেতারা কর্মীদের সামনে হাজির হন । টেলিভিশনে পত্রপত্রিকায় তাদের নিউজ প্রকাশিত হয় , মনে হয় এতেই তারা খুশী , তাদের নেত্রী যে জেলে আছেন আইনি পথে তার মুক্তি হবে না , এটা নিশ্চিত জেনেও তারা ক্রমশই নিয়তির ওপর সব কিছু ছেড়ে দিয়ে নিথর হয়ে বসে আছেন ।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একটি ফ্রন্ট গঠিত হয়েছিলো ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে , এই ফ্রন্টের মূলশক্তি বিএনপি হলেও এর নেতা ছিলেন ডক্টর কামাল হোসেন । এই প্রখ্যাত আইনবিদ কি চান তা এখনও স্পষ্ট নয় । এই ফ্রন্টের বিএনপি সহ অন্যান্য দলের নেতা কর্মীরা এই নেতার প্রতি আস্থা কোন ক্রমেই রাখতে পারছেন না , না রাখার অনেক কারণও আছে ,৩০ শে ডিসেম্বরের পর তার ভুমিকা যা প্রত্যাশিত ছিল তা দলের অন্যান্য শরিক দল দেখতে পায়নি , সম্প্রতি তার একটি ভুমিকা নিয়েও সমালোচনা আছে , জেল হাসপাতালে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে কামাল হোসেনর নেতৃত্বে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল । কামাল হোসেনের নিজদলের সাধারণ সম্পাদক ডঃ রেজা কিবরিয়া ,জেএসডি নেতা আসম আব্দুর রব সহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাথে দেখা করে পারমিশন ও নিয়েছিলেন , এখন শোনা যাচ্ছে কামাল হোসেন অসুস্থ তাই তিনি যেতে পারবেন না , তার ফলে ঐক্যফন্টের নেতাদের খালেদা জিয়াকে আর দেখতে যাওয়া হয়নি , বিএনপি  সহ অন্যান্য শরীক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন আসতেই পারে ডক্টর কামাল অসুস্থ হলে তার নিজের অফিসে কিভাবে আসেন ? সব মিলিয়ে ঐক্যফ্রন্ট এখন স্থবির বা মৃতপ্রায় , এর আর কোন ভবিষ্যৎ আগামীতে আছে কি না তা আগামী দিনেই প্রমানিত হবে ।

ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগও বিব্রত অবস্থায় আছে,    শুদ্ধি অভিযানে তাদের নিজদলের বাঘা বাঘা নেতারা ধরা পড়ছেন , প্রতিদিন তাদের ছাত্র ও যুব শাখার নেতারা পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের জালে আটকা পরছেন , প্রশ্ন উঠছে  বড় বড় দুর্নীতিবাজ , ব্যাঙ্ক

লুটেরা , শেয়ার মার্কেট লুটপাটকারীদের কি হবে , আওয়ামীলীগের নেতরা বলেছেন অপেক্ষা করেন তাদেরও ধরা হবে , মানুষ অপেক্ষা  করছে কবে তাদের ধরা হবে , এটা নিয়েও তারা বিব্রতকর অবস্থায় আছেন , তাদের না ধরা হলে শুদ্ধি অভিযানের প্রতি জনগনের আস্থা থাকবেন না । সম্প্রতি রাশেদ খান মেননের নির্বাচন নিয়ে একটি বক্তব্যও আওয়ামীলীগকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে , যদিও মেনন তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন , তারপরও তার বক্তব্যটি দেশেবিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয় ।

সব মিলিয়ে সরকার বা বিরোধী দল কেউ সুবিধাজনক অবস্থায় নেই , হতাশা, স্থবিরতা আর সিধান্তহীনতা গ্রাস করছে মানুষের চিন্তা চেতনা আর রাজনীতিকে ।  সহসাই এর থেকে উত্তরণ ঘটবে কি না তা কেউ জানে না ।

হাবিব বাবুল , রাজনীতি বিশ্লেষক এবং প্রধান সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডট কম ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.