কাল ভোরে ইস্রাফিল যদি দেয় শিঙ্গায় ফুৎকার,
ঝুরঝুরে শুকনো উইএর মাটির ন্যায়
সকল দালানকোঠা স্মৃতিসৌধ আকাশমিনার
চোখের পলকে যদি ধ্বংস হয়ে যায়;
পাপীতাপী বান্দারা আছি যারা এই দুনিয়ায়
আমরা তখন গিয়ে দাঁড়াবো কোথায়?
বিশ্বব্রহ্মান্ড দুলবে গ্রাইন্ডিং মেশিনের মতো
হেল্টারস্কেল্টার এদিক ওদিক দিকভ্রান্ত মানুষেরা ছুটতে রবে
উম্মত্ত পতঙ্গ যেমন।
থাকবে না পূর্ব-পশ্চিম কিংবা উত্তর-দক্ষিণ,
একেকটা ঝাঁকুনি হবে রিখটার স্কেলের মাপে হাজার মাত্রার,
উত্তপ্ত লাভার স্রোতে ঢেকে যাবে জল ও জমিন।
তখন চোখের সামনে সুউচ্চ হিমালয় পর্বত
বাতাসে উড়তে রবে ধুনাতুলাবৎ,
বিশাল প্রস্তররাশি আকাশে উৎক্ষিপ্ত হবে বুদ্বুদের ন্যায়,
সব কিছু পরিণত হয়ে যাবে ভস্ম ও মিহিন ধুলায়।
মাটি আর মাটি থাকবে না
গলিত কাঁচের মতো বয়ে যাবে এদিক সেদিক।
গাছপালা নদি নালা ফসলের ক্ষেত
সবের বিলুপ্তি ঘটবে জীবজন্তু গবাদি সমেত।
সাইক্লোনগতিতে বইবে লেলিহান অগ্নিপ্রবাহ
কোন কিছু অবিকল থাকবে না আর,
এমনকি বাতাসও দুমড়ে মুচড়ে হবে একাকার
যেন হিরোশিমা নাগাসাকি বিকিনি অ্যাটোল।
মৃত মানুষেরা দল বেঁধে উঠে আসবে হুড়মুড় করে
তারা আর থাকবে না কবরের অন্ধকার ঘরে,
ঘাড়ে ব’য়ে অতিকায় পাপ-পূণ্য হিসাবের খাতা
‘ইয়া নফসি’ ‘ইয়া নফসি’ বলে কানফাটা ভয়ার্ত স্বরে
সবাই ছুটতে রবে উর্দ্ধশ্বাসে হাশরের ময়দান পানে,
তাদের হাড্ডিগুড্ডি আবর্জনা সব কিছুটা সঙ্গে যাবে
কিছুটা ছড়িয়ে পড়বে এদিক সেদিক সবখানে।
কাল ভোরে সত্যিই কেয়ামত যদি হয়ে যায়,
আমরা যারা তখনো জীবিত থাকবো
তাদের কী ব্যবস্থা হবে জানবার আছে কি উপায়?
আটশতাধিক কোটি খলবলে জীবন্ত মানুষ
নারী শিশু বৃদ্ধ রোগি প্রসুতি ও গর্ভবতী মা,
আমরা কি মৃত্যু ও কবরের স্বাদ পাবো না?

সামসুদ্দিন আহমেদ পেয়ারা

