যখন বাংলাদেশে ছিলাম তখন প্রতিদিন সকালে চা’য়ের কাপ হাতে নিয়ে পত্রিকায় চোখ বুলাতাম। পড়তাম, মনে মনে বা বন্ধু বান্ধবের সাথে প্রতিক্রিয়া বিনিময় করতাম। মাঝে মধ্যে চিঠি লিখে বা বিবৃতি দিয়ে পত্রিকায় প্রেরণ করতাম। যখন বিশ্ববিদ্যালয় হলে থাকতাম, তখন এক সাথে অনেকগুলো পত্রিকা পড়ার সুযোগ হতো। সেটা ছিল হলের রিডিং রুমে। অনেকগুলো পত্রিকা এক সাথে পড়ার খুব ইচ্ছে হলেও তা ছিল ব্যায়বহুল। ফলে নিজের রুমে রাখা সম্ভব হতো না। যদিও তখন রাখার মতো সাধ্য ছিল, কিন্তু বিলাসিতাও মনে হতো। কারন ডাকসুর জিএস জিয়াউদ্দিন বাবলুর সুর্যসেন হলের রুমে প্রায় প্রতিদিন সকালে যাওয়া হতো এক সময়। উনার রুমে অনেকগুলো পত্রিকা কমপ্লিমেন্টারি দেয়া হতো। সেখানে বসে দুজনে পত্রিকা পড়ে এক সাথে মধুর কেন্টিনে যেতাম নাস্তা খেতে। সেটাও চলেছিল প্রায় বছরখানেক। এছাড়া পরবর্তীতে প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় মন্ত্রীদের বাসায় গেলেই অনেকগুলো পত্রিকা পড়ার সুযোগ পাওয়া যেত।
এখন সকাল দুপর সন্ধ্যা বা রাত দুপর যখন ইচ্ছে মনে হয় তখনই অনলাইনে যে কোন পত্রিকা খুলে চোখ বুলিয়ে নিতে পারি। বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে। আবার একটি নিউজ পড়ে প্রতিক্রিয়া হলে বন্ধুদের ডেকে এনে কাচারী ঘরে বসার দরকার হয় না। ফেসবুকে কিছু বন্ধুকে সব সময়ই পাওয়া যায় যাদের সাথে প্রতিক্রিয়া বিনিময় করা যায়। কেউ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন, কেউ নিরব থাকেন, হয়তো মুচকি হাসেন বা রাগ করেন, কিন্তু কিছু বলেন না। ঠিক আটাশ বছর আগে যখন কাচারী ঘরে বসতাম সেরকমই। কেউ কেউ বলতেন, কেউ কেউ চুপচাপ চা পান করতেন!
আজ সকালে অফিসে আসার পথে এবং অফিসে বসে পত্রিকার হেড লাইনে দেখলাম মাননীিয় মন্ত্রী বলছেন ২০২১ সালে পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে। খুব ভাল লাগল জেনে। অপর খবরটি হলো, সকাল ৯টায় অফিসে ঢুকে ৪০ মিনিট থাকতেই হবে সরকারী কর্মচারীদের। মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে নয়টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অবশ্যই অফিসে থাকতে হবে। সকালে অফিসে আসার সময় বিভিন্ন অজুহাতে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মনে পড়লো, যখন উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম, অনেক সময়ই সকালে অফিসে যেয়ে রুটিন করে প্রত্যেক অফিসারের রুমে গিয়ে চেক করতাম তারা অফিসে আছেন কিনা! যারা জানেন না তাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে একটি উপজেলায় প্রায় পঁচিশটির মত সরকারী ১ম শ্রেনীর অফিসার থাকার কথা। যাইহোক, আমি শুধু সকালেই যেতাম তা নয়, মাঝে মাঝে ভর দুপুরেও চেক করতাম। আমি নিজেও সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারতাম না, এখনো যে পারি তাও না। কিন্তু যেহেতু আমি একটি দায়িত্বে ছিলাম, ফলে ভাবতাম, আমি যদি সময়মত না যাই, অন্যেরাও যাবে না। ফলে বাধ্য হয়ে যেতে হতো। যদিও একজন জনপ্রতিনিধি যখন যেখানে থাকেন সেখানেই তার অফিস।
আরো কিছু হেডলাইন পড়লাম। যেমন, ‘কাদেরের কথা শুনলে ফখরুলের হাসি পায়’! ‘ডেঙ্গু জ্বরে মায়ের মৃত্যু, ছেলে হাসপাতালে’! ‘রাতে মায়ের বুকে, পরের দিন লাশ হয়ে খালে’! ‘নৌকায় আটকে রেখে ধর্ষনের অভিযোগ’! ইত্যাদি নানা বিষয় খুবই উদ্বেগজনক খবর। ডিটেইলসে না যাই। শুধু মনে হয়, যারা দেশ পরিচালনা করছেন তাদের মধ্যে যদি একাউন্টিবিলিটি থাকে, যদি সবাইকে কারো না কারো কাছে জবাবদিহিতার ব্যবস্হা থাকে, আর সেই জবাবদিহিতায় যদি যথাযথ শাস্তির ব্যবস্হা থাকে তাহলে অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সবচেয়ে বেশী দৃষ্টি আকর্ষন করলো যে নিউজটা সেটা হলো, ইনু ভাইয়ের একটি বক্তব্য। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি ইঁদুরের মতো সরকারের সব উন্নয়নকে খেয়ে ফেলছে’!


