নারীর হাত, লায়লা আহমেদ সেলিনা

 

একজন গুণী গাছপ্রেমিকের নাম না বললেই নয়,
তাহলে বিবেকের কাছে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হবো। বনসাই সহ নানান গাছের প্রতি দূর্বলতা তিনি “রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মনির উদ্দিন আহমেদ সাহেব ” তিনি ঢাকা দোহারের চরকুশাই গ্রামের।বসবাস ঢাকা নিজালয়ে।
বাংলাদেশে চেরি গাছ নাই বললেই চলে,যদিও কয়েকটি আছে অভিজাত এলাকায়।
চেরি গাছ হাতেগোনা হয়তো শৌখিন ব্যক্তির পুষ্পবনে ছাঁদ জুড়ে অনিন্দ্য সুন্দরে মোহিত।
জাপানিরা এ ফুলের আশায় বসন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করে, অল্প শীতে কুঁড়ি থেকে গুটি, বসন্ত এলেই নানারকম ফোটে গুচ্ছবদ্ধ সাদা গোলাপি ও লাল রঙে। ফুলের সৌন্দর্য বাহারে জাপানিদের ও ভ্রমণ পিপাসুদের চোখ ধাঁধিয়ে যায়।
চেরি ফুলের মনোহারিতা অবর্ণনীয়!
বাংলাদেশে চেরি গাছ দুর্লভ! তবে গাছপ্রেমিরা কিন্তু পিছিয়ে নেই। তেমনি গাছপ্রেমি মনিরের
ছাদবাগানে বনসাই সহ নানারকম গাছ,তিনি চেরি ফুল গাছ জোগাড় করে,টবের ওপরে নারীর হাতের আদলে কারুকাজ করে চেরি গাছ রোপিত করেছেন তাঁরই ছাদবাগানে।
বিশ্বাস নারীদের ধৈর্যের বাঁধ সহজে ভাঙে না,আর নারীর হাত ও শক্ত শক্তিশালী। চেরি গাছটি যতই বড়ো হোক না কেন?
নারী হাতের আঁজলে শক্ত হাতে ঠিকই আঁকড়িয়ে ধরে রাখবে।
মনির সাহেবের শিল্পকর্ম অদ্ভুত, চেরি ফুল গাছের নারীর হাতটা তাঁরই হাতে গড়া।
তিনি কোন কিছু ফেলতে চাননা ফেলনা পুরোনো জিনিস দিয়ে অবাক করার মতো জিনিস তৈরি করেন।
শুধু তাকিয়ে দেখার মতো ছাদবাগানে চেরি ফুল গাছে নারীর হাত শিল্পকর্ম প্রমাণ।
হয়তো একদিন দেখা যাবে কাটছাঁট করে রূপের জৌলুস বাড়িয়ে বনসাইয়ের চিন্তা ভাবনা করছেন,চেরি ফুল গাছকে নিয়ে।গাছপ্রেমীরা মনে হয় এমনই হয় সারাক্ষণ তাঁর মাথার মধ্যে গাছ নিয়ে ভাবনারা কিলবিল করে।
যতটুকু জেনেছি সোসাইটির অন্যান্য সদস্যরা ওয়ার্কসপের সময় তাদের গাছের কাজ মনির ভাইয়ের হাতে না করাতে পারলে তাদের কী যেন অসমাপ্ত থেকে যায়।তাঁর লেন্ডঙ্কেক এর কাজ অসাধারণ! আমি আরও জেনেছি বাংলাদেশে তাঁর মতো লেন্ডঙ্কেপ এর কাজ এখনো কেউ করতে পারেনি, অসাধারণ মুগ্ধ হওয়া তাঁর হাতের কাজ।
তাঁর বউ একজন ধৈর্যশীল মহিলা,না হলে মনির সাহেব এতদূর এগুতে পারতেন না।
ঘরের কোন জিনিস চোখে পড়লেই ততক্ষণ অপেক্ষা করার মতো লোক তিনি নয়,
সেটা তাঁর চাই!
বউকে পটাতে উস্তাদ এই গাছ প্রেমিক। বউ নেওয়ার সময় দেখে ফেললেই এটা ওটা বলে বুঝিয়ে দেয়।
কিছু খোয়া গেলে মনির সাবকে প্রশ্ন করলে সরাসরি না বলে ফেলেন, এমন ভাব দেখান তখন তাকে সন্দেহ করা দুষ্কর।
বউ ছাদবাগানে গিয়ে দেখে ফেললেই, বউকে বলে তোমাকে এরকম দশটা কিনে দিবো,বউ শান্ত নাহলে বলে, রেডি হও তোমাকে হীরার আংটি কিনে দিবো, তাঁর ওয়াদা ততক্ষণে ভুলে গিলে খেয়ে ফেলছে। তাঁর কুঞ্জবনের কাজ সেরে যখন বাসায় ঢুকেন তখন অনেক রাত
আসলে নারীদের হাত না থাকলে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না।গাছপ্রেমিক তাঁর বউকে কতো ভালবাসে নারীর হাত অনেক কিছু বুঝায়। সত্যি নারীর হাত শক্ত বাঁধন!

শুদ্ধস্বর/বিটি

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.