গত ১লা জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬টায় শান্তিনিকেতনের ‘লিপিকা’ প্রেক্ষাগৃহে বিশ্বভারতীর উদ্যোগে বাংলাদেশ ভবনের তত্ত্বাবধানে নজরুল স্মরণ অনুষ্ঠিত হল। দুই পর্বের এই অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে ছিল নজরুল বিষয়ক আলোচনা এবং দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ।মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কলকাতাস্থ উপদূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত জনাব তৌফিক হাসান, মূল বক্তা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক সুমিতা চক্রবর্তী, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, বাংলাদেশ ভবনের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় । অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে ঋগ্বেদীয় স্তোত্রগীতি পরিবেশন করেন সঙ্গীত ভবনের অধ্যাপক প্রশান্ত ঘোষ ও ছাত্রীবৃন্দ। অধ্যাপক মুখোপাধ্যায় তার স্বাগত ভাষণে বলেন, খুব সম্ভবত এই প্রথম বিশ্বভারতীতে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সরকারীভাবে এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে । আগামীদিনে বাংলাদেশ ভবন যাতে একটি বিদ্যায়তনিক কেন্দ্রে পরিনত হতে পারে সে বিষয়ে আমরা সদা সচেষ্ট রয়েছি। উপরাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান বলেন, অতীতের অনগ্রসর মুসলমান সমাজ নজরুলের লেখনীতে উজ্জীবিত হয়েছিল, শুরু হয়েছিল নবজাগরন ।উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী তার ভাষণে বলেন, নজরুল মানবতাদের প্রথম বাণী শুনেছিলেন কবি জয়দেবের কাছে থেকে – ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ ।অধ্যাপক সুমিতা চক্রবর্তীর আলোচ্য বিষয় ছিল- ‘নজরুল ইসলাম : আন্তর্জাতিক’।তিনি নজরুলের আন্তর্জাতিক চেতনার উল্লেখ ব্যাখ্যা করেন। দ্বিতীয় পর্বে নজরুলের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে গাঁথা কথায়-কবিতায়-গানে ‘আমারে দেবনা ভুলিতে’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে কলকাতার নজরুল চর্চা কেন্দ্র ‘ছায়ানট’। ছায়ানটের কর্ণধার সোমঋতা মল্লিকের সুললিত কন্ঠে নজরুল গীতি ও বাচিক শিল্পী স্বর্ণাভ রায়ের শ্রুতিমধুর আবৃত্তিতে সমগ্র অনুষ্ঠানটি মনোগ্রাহী হয়ে ওঠে ও দর্শকদের অকুন্ঠ প্রশংসা অর্জন করে । সভা শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শ্রী কেশব চন্দ্র সিনহা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সৌমিত্র কুমার চক্রবর্তী।
শুদ্ধস্বর/এইচ বি

