কাদের সিদ্দিকীর প্রস্থান এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যৎ

আজ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে কাদের সিদ্দিকী বেরিয়ে গেলেন বা সম্পর্কছেদ করলেন , কাদের সিদ্দিকী  আগেই বলেছিলেন তিনি আর ফ্রন্টে থাকছেন না । কারন হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ফ্রন্টের নিষ্ক্রিয়তা, একটি নিষ্ক্রিয় জোটে থেকে কোন লাভ নেই  এটা তিনি বুঝে গেছেন ।   , যেখানে কোন রাজনীতি নেই বা কোন লক্ষ্যও নেই  সেই জোটের  রাজনৈতিক মূল্যও নেই, জোটের নিষ্ক্রিয়তা এটাই প্রমান করে  । নির্বাচনের আগে নির্বাচনেের আগে ফ্রন্টের নেতারা যেভাবে হুংকার দিয়েছিলেন যে নির্বাচনে অনিয়ম হলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন , নির্বাচনের পর দেখা গেলো সবই ছিল ফাঁকা বুলি । নির্বাচনের পর ফ্রন্টের মাত্র একটি বা দুটি সভা হয়েছে সেখানে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় নি , বা আন্দোলন নিয়ে কোন কথাবার্তা হয়নি । নিছক বসতে হবে তাই তারা বসেছিলেন এক বা দু বার । জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরীক দল বিএনপি , তাদের শক্তির উপর নির্ভর করেই অন্যান্যরা আবর্তিত হয়েছে নির্বাচনের আগে । বিএনপির ভোটই ছিল তাদের ভোট , সেই বিএনপিরই যখন  আন্দোলনের প্রতি অনীহা রয়েছে  তখন ঐক্যফ্রন্টের নিজেদের কিছু করার নেই বিএনপিকে বাদ দিয়ে ।ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য শরীক দল গুলোর সেরকম কোন সাংগঠনিক ভিত্তি বা জনসমর্থন নেই যে তারা নিজেরাই কিছু করতে পারে  । তাই বিএনপি যখন নীরব অন্যান্য শরীকদল গুলোও নীরব , এটাই স্বাভাবিক ।

কাদের সিদ্দিকীর প্রস্থানের পর ফ্রন্টের অন্যান্য দল বা বিএনপি কোন প্রতিক্রিয়া দেখান নি , যেন এটাই স্বাভাবিক । নির্বাচন শেষ, এখন জোটের  প্রয়োজনীয়তাও শেষ ।নির্বাচন যেভাবেই হয়েছে তা মেনে নিয়েছেন বিএনপি এবং শরীকদল কামাল হোসেনের গণফোরাম । তারা সংসদে গিয়েছেন এবং বক্তব্য রাখছেন , যেন সবই স্বাভাবিক ।  এরকম অবস্থায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আর কোন প্রয়োজনয়িতা আপাতত আছে বলে মনে হয় না ।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে জোটটির ভবিষ্যৎ কি , আমার মনে হয় আপাতত   আর কোন ভবিষ্যৎ  নেই । এখন জোট আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত না করলেও এই জোট রাজনীতিতে আর কোন ভুমিকা পালন করতে পারবে না যদি বিএনপি জোটকে আবার সক্রিয় না করে । কিন্তু বিএনপির রাজনীতির গতিপথও পরিবর্তন হচ্ছে তারা ২০ দল বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কারও সাথেই আর  রাজনীতি করতে চাইছে না । তারা দেখেছে এই পথে তাদের কোন প্রাপ্তি নেই । তারা নিজেদের মত করে চলতে চাইছে , এবং দলকে সংগঠিত করছে । এটা বুঝেতে পেরে এল ডিপির কর্নেল অলি নিজেই একটি জোট করেছেন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার জন্য । সব মিলিয়ে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলগুলোর রাজনীতিতে টিকে থাকা এখন খুব কঠিন হয়ে পরেছে , কারন পরিস্থিতি । পরিস্থিতি এরকম যে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুলো এখন পরোক্ষ রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে পরেছে এবং তাদের সমর্থন ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে । এরকম অবস্থায় ক্ষমতার বাইরে থেকে রাজনীতি করা খুব সহজ নয় । এটা উপলদ্ধি করে বিএনপি আন্দোলন করে তাদের শক্তির অপচয় করতে চাইছে না , তারা তাদের শক্তিকে সংহত করতে চাইছে যাতে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কখনও অনুকুলে আসলে তারা এই শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে । তবে রাজনীতিতে কোন পরিস্থতিই চূড়ান্ত নয় , মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে যায় সেরকম কিছু আগামীতে ঘটলে ফ্রন্ট হয়তো আবার সক্রিয় হতে পারে ।

হাবিব বাবুল , প্রধান সম্পাদক

শুদ্ধস্বর ডটকম

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.