রাজধানীসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। এ মাসের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৯২ জন। কিন্তু ২৯ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩৫ জনে।
অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতি মিনিটেই একজন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ থাকলেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকা বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের প্রায় সব জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন জেলায় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৬১ জন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ৩০ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশের হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৩৬৯ জন। এর মধ্যে চলতি মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ১৮২ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ১০ হাজার ৯৫৩ জন।
হঠাৎ করে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে জায়গা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে শয্যা খালি নেই দোহাই দিয়ে রোগীদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে ফেরত না দিলেও, সেখানে শয্যার অভাবে রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে ওয়ার্ডের ফ্লোর, বারান্দা, গলিপথ এমনকি সিঁড়ি কোটাতে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে মোট আক্রান্ত এক হাজার ৩৩৫ জনের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২২১, মিটফোর্ড হাসপাতালে ১০৫, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৪৮, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৬১, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৪২, বারডেম হাসপাতালে ১৭, বিএসএমএমইউতে ২৬, পুলিশ হাসপাতাল, রাজারবাগে ৩৩, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৩, বিজিবি হাসপাতাল, পিলখানায় ২ এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৯০ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২৬৫ জন ভর্তি হন। ঢাকা শহর ছাড়া ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১০৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৫ জন, খুলনা বিভাগে ৫৬জন, রংপুর বিভাগে ২০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৬জন, সিলেট বিভাগে ৫৫ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার বাইরে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৮৪৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অবশ্য অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেনও।
শুদ্ধস্বর/এন

