সঞ্চয়পত্র করমুক্ত রাখা উচিৎ

প্রস্তাবিত বাজেট সার্বিকভাবে উন্নয়নমুখী, ব্যবসাবান্ধব; কিন্তু ভোক্তাবান্ধব নয়। বিশেষ করে মধ্যবিত্তবান্ধব কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ধনিক শ্রেণিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গরিব বা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কিছু আছে; কিন্তু তা অপ্রতুল। আর মধ্যবিত্তদের হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। মধ্যবিত্তদের সঞ্চয়ের নিরাপদ স্থানে হাত দেওয়া হয়েছে, করমুক্ত আয়সীমা বাড়েনি। গুঁড়া দুধের মতো পণ্যের দাম বাড়ানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কিছু জিনিসে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে ঠিকই; কিন্তু তাও অপ্রতুল।

বাজেট শুধু সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, আমরা কী ধরনের রাষ্ট্র ও সমাজ চাই তার দীর্ঘমেয়াদি হাতিয়ার। আমরা সোনার বাংলা গড়তে চাই। সোনার বাংলা গড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল। উনার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে পৌঁছে দিয়েছেন। বর্তমানে আমাদের জাতীয় আয় দুই হাজার ডলারের কাছাকাছি। কিন্তু আমাদের আয় বৈষম্য, শিক্ষিত বেকার বাড়ছে। এটা চিন্তার বিষয়। বাজেটে যে ব্যয় ও আয়ের পরিকল্পনা সেটা অনেকাংশে নির্ভর করে বাস্তবায়নের ওপর। তাই বাজেট বাস্তবায়নে আমাদের জোর দিতে হবে। ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ শতাংশের মতো। সেটা এখন বেড়ে ৮ শতাংশ হয়েছে। শিগগিরই আমাদের জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্ক ছোঁবে। কিন্তু এটা কত দ্রুত ছোঁবে তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।

আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন ঠিকভাবে হচ্ছে না। আমরা কাজের মান ঠিক রাখতে পারছি না। সময়মতো প্রকল্প শেষ করতে পারছি না। ফলে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। মেঘনা ও গোমতী সেতু নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে শেষ হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বেঁচে গেছে। এগুলো নির্মাণে যদি আরো তিন বছর সময় লাগত তাহলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেত। বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে জোর দেওয়া উচিত। বাজেটে এসব বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে।

সঞ্চয়পত্র সাধারণত নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা কেনে। যদিও অভিযোগ আছে, ধনীরাও এতে বিনিয়োগ করে। এর পরও সঞ্চয়পত্র শুধু বিনিয়োগের নিরাপদ স্থানই নয়, এটি সামাজিক নিরাপত্তার অংশ। অথচ এতে উেস কর বাড়ানো হয়েছে। এতে মধ্যবিত্তদের জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা কাম্য নয়। একটা সময় ছিল যখন এখাতে কোনো কর ছিল না। এটাকে ট্যাক্স ফ্রি বা করমুক্ত রাখা উচিত।

আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভ্যাটমুক্ত ছিল; কিন্তু এখন কিছু জিনিসে ভ্যাট বেড়েছে। গুঁড়া দুধের মতো পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এটা তো বাচ্চাদের খাবার। দুই বছরের পর বাচ্চারা মায়ের দুধ খায় না। তখন গুঁড়া দুধই ভরসা। বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। আবার ভোজ্য তেলের দাম বাড়বে। এটা বরং অলিভওয়েলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা যেতে পারে। কারণ এটি বড়লোকরা ব্যবহার করে।

তবে প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক আছে। এর সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন। এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতে প্রণোদনা, রপ্তানি প্রণোদনা, রেমিট্যান্সে প্রণোদনা ইতিবাচক। বরং আমি বলব, এসবে প্রণোদনা আরো বাড়ানো উচিত। তা ছাড়া দেশি শিল্প সুরক্ষায় বাজেটে নজর দেওয়া হয়েছে। এটিও ভালো উদ্যোগ।

লেখক : সভাপতি, কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ

সংবাদ সূত্রঃকালের কণ্ঠ

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.