পরিবেশগতঃ আত্ন-লড়াইয়ের পাঠ,,,,,,,,,,,,, শরীফ আকন্দ

পরিবেশগতঃ আত্ন-লড়াইয়ের পাঠ,,,,,,,,,,,,, শরীফ আকন্দ বাবুই পাখিরে ডাকিয়া বলিছে চড়াই,কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহাসুখে অট্টলিকা পরে,তুমি কত কষ্ট পাও রোদ-বৃষ্টি ঝড়ে; বাবুই হাসিয়া কহে সন্দেহ কি তাই? কষ্ট পাই তবু থাকি নিজের বাসার,পাকা হোক তবু ভাই পরের বাসা, নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর বাসা।। কবি রজনী কান্ত সেন এর কবিতার মাধ্যমে ছোটবেলায় আমাদের শিক্ষকরা স্কুলের পাশে তালগাছ কিংবা নারিকেল গাছে বাবুই পাখির বাসা দেখে সততা ও নৈতিকতার শিক্ষা এবং আত্ন লড়াইয়ের পাঠ দিতেন।মনে পড়ে, ছোট বেলায় আমাদের বাড়িতে নারিকেল গাছে বাবুই পাখি বাসা বাঁধত (এখনও আছে) অবাক হয়ে তাঁকিয়ে থাকতাম তাঁর শিল্পগুনের দিকে।কল্পনার কত যে ছবি আঁকতাম তাঁর কোন ইয়াত্তা নেই।বাবুই পাখির শিল্পগুনের পিছনে বিরাট একটা কাহিনী আছেঃ বাবুই পাখির যখন প্রজনন মৌসুম আসে তখন পুরুষ বাবুই একের পর এক বাসা গড়তে থাকে তাঁর প্রেমিকা( স্ত্রী) পাখিটিকে খুশি করতে।বাসা গড়া শেষ হলে গানের সুরে তাঁর প্রেমিকাকে আহবান করে।তাঁর ডাকে কাছে এসে সঙ্গ বা মিলন ঘটায় প্রেমিকা বাবুই পাখি।তারপর তাঁদের বাসায় ডিম আসে,বাচ্চা ফুটে।তাঁদের স্বপ্নের সংসার শুরু হয়।মানব জাতির সংসারের সঙ্গে কতই না মিল!! কিন্তু কি নির্মম পরিহাস বাবুই পাখিরা বাসা বাঁধতে পারছে না,তাঁদের পূর্ণতার প্রেম বা শিল্পগুন হারিয়ে যাচ্ছে অতলে।বাধ্য হয়ে বাসা বাঁধছে কলা গাছে এর জন্য দায়ি মানবকূল।তাই কোন ঐতিহাসিক কাব্যও রচনা হয় না রজনীকান্ত সেন এর মত কাব্য। হয় শুধু অশ্লীল কাব্য রচনা।তাঁর বিশেষায়িত কোনও অর্থও নেই।।। তাই আসুন বাবুই পাখির শিল্পগুন রক্ষার্থে আমাদেরকে নারিকেল বা তালগাছ রোপন করি।এটাই আমাদের পরিবেশগত ও অস্তিত্বের আত্ন-লড়াইয়ে পথ।।
লেখক, সাবেক ছাত্রনেতা এবং পরিবেশ আন্দোলন কর্মী ।
 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.