গনশত্রুরা যে দেশে চীর সম্মানিত।

আইএমএফের মতে, বাংলাদেশ ২০১৬ সালের দ্বিতীয় দ্রুততম ক্রমবর্ধমান প্রধান অর্থনীতির একটি দেশ। ২০০৪ সালের পর থেকে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ গড়ে ৬.৫%হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩১,৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮৬ শতাংশ(২০১৮)।এখন প্রশ্ন হচ্ছে দেশের এই বিপুল উন্নায়নে কারা অবদান রেখে চলেছে,এই চোখ ধাধানো হিসাব নিকাশের পেছনের লোকগুলো কারা? আর কারা, এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দেয় না,কারা এই গনশত্রু!

প্রবাসী শ্রমিকঃ
বাংলাদেশের প্রায় ১কোটি ২০ লাখেরও বেশী শ্রমিক বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশে কর্মরত আছেন।তারা বছরে প্রায় ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে প্রেরন করেন। গত ১০ বছরে প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে ১৩১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স প্রেরণ করেছে। অথচ প্রবাসী শ্রমীকদের জন্য কি এমন আশানুরুপ সুবিধা দিতে পেরেছে বাংলাদেশ?প্রবাসে দূতাবাস গুলোর সকল ক্ষেত্রে সর্বচ্চো খারাপ ব্যাবহার ও অসহযোগিতা করে।নারী শ্রমিক দের মধপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে কোন রকম নিরপ্তা ছারা, আজ তারা দলে দলে নির্যাতিত হয়ে ফিরে আসছে। প্রবাসে বিশেষকরে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক মারাগেলে লাশ পঠানো নিয়ে চলে তালবাহানা। নেই কোন স্বাস্থ বিমা,ঝুকির মধ্যে জীবন হাতে নিয়ে কাজ করতেহয়। পরি সংখানে দেখা গেছে,২০১৬ সালে মোট ২ হাজার ৯৮৫ জন প্রবাসি শ্রমিকের লাশ এসেছে, যা গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রবাসি দের কপালে জোটে বিমান বন্দরে হয়রানি, তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল আর উপহাস। এইতো প্রবাসী শ্রমিক দের বাংলাদেশের কাছ থেকে পাওনা।

গার্মন্টস শিল্প শ্রমিকঃ
২০০৪ সালের এক হিসাব অনুযায়ী এ শিল্পের সাথে প্রায় ১৮ লক্ষ শ্রমিক জরিত,যার ৮০ ভাগই নারী। আমাদের রপ্তানী আয়ের ৭৭শতাংশ আসে এ খাত থেকে।দৈনিক প্রথম আলোর হিসাব অনুযায়ী গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ২ হাজার ৮১২ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। সরকারের পক্ষথেকে এই শিল্পের নুনতম মুজুরী ৩০০০টাকা বলা হলেও যার সবটাই প্রায় কাগুজে। এই শিল্প মুলত টিকে আছে দাশ প্রথার মত শ্রমিক খাটিয়ে। মালিকেরা টাকার পাহাড় গড়ে তুল্লেও শ্রমিকদের দেখার কেও নেই। নারী শ্রমিকেরা নিয়মিত লালসার শিকার। ঈদে-পার্বনে নেই ছুটির নিশ্চয়তা। প্রতি ঈদে কোন না কোন ফেক্টরির মালিক শ্রমিকদের টাকা মেরেদেয়। রানা প্লাজা আর তাজরিন ফ্যশনের কথা আর নাই বল্লাম।

কৃষি শ্রমিকঃ
বাংলাদেশে সবচেয়ে অবহেলিত আজ কৃষক সমাজ। শহুরে লোকেরা “চাষা” শব্দটিকে একরকম গালি হিসাবে ব্যাবহার করে। অথচ আবহমান কাল থেকে এরাই আমাদের খাদ্যের নিশ্চয়তা দিয়ে আসছে। জনসংখ্যার আধিক্য থাকলেও বাংলাদেশ এদের কারনে খাদ্যে প্রায় সয়ংসম্পূর্ন। চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ পৃথিবীতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। আমাদের শ্রমশক্তির ৬০শতাংশ কৃষির সাথে জড়িত। জিডিপিতে কৃষির আবদান প্রায় ১৪.১০শতাংশ।

গনশত্রুকারা ও তাদের অবস্থাঃ
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর রির্পোট মতে সবেচেয়ে বেশি দুর্নীতি হওয়া দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ২০০১-২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর শীর্ষ অবস্থানে ছিল। আর ২০১৮ সালেএসে বাংলাদেশের অবস্থান১৩ তম।
সবাই মিলে দেশটাকে যখন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তখন কারা এই গনশত্রুর দল যারা এভাবে দেশটাকে পিছন দিকে খামচে ধরে ক্ষতবিক্ষত করছে। কাদের জন্য আমরা পরছিনা উন্নত সু্ন্দর সমৃদ্ধ জীবন নিয়ে মাথা উচুকরে সম্মানের সাথে বেচে থাকতে। সহজ উত্তর-ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ী। সরকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক,শেয়ারবাজার কি না ধ্বংশ করেছে এরা। ঘুষ, লুটপাট দূর্নিতিকে জাতীয়করন করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল সাহেব আবশেষে ঘুষকে স্পিড মানি বলে বৈধতা দিয়ে গেলেন। সত্যি অদ্ভুদ দেশ বাংলাদেশ, দেশ গড়ার কারিগরেরা এখানে চীর অবহেলিত আর গনশত্রুরা এখানে চীর সম্মানিত।

59787716_648900022223624_2184530854779289600_n

নাজিব আল সাকিব , ভিয়েনা,অষ্ট্রিয়া

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.