আসু আরামের ইত্তেফাক (ঐক্য) ও পাজেল  প্রক্রিয়া 

কোথা থেকে শুরু করবো? বেশি আগে না গিয়ে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় থাকি। শরু হলো ধান দিয়ে, ধানকে ঢেকে দিলো বালিশ, বালিশকে ঢেকে দিলো ভিপি নুরু, ভিপি নুরুর কাহিনীর পরেই পুলিশের ভ্যানে বিস্ফোরণ!  শুধু স্বরণ করার জন্য  বলছি, ২০০৮ সালে সেই কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সরকার পেলাম । সেই সরকার আমলের পাঁচটি বছর একটানা এমন কিছু ঘটেছে যে একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে ফুরসত পাওয়া যেতনা সেই ঘটনা চাঁপা পরে যেত আরেকটি নতুন ঘটনার ডামাডোলে! সেটা সেই শেয়ারবাজার বা বিশ্বজিতের ঘটনা যাই বলুন। সেই সময় বাজারে আলাপই হতো এরপরে কি ?

মালিবাগে পুলিশের ভ্যানে বিস্ফোরণ! ঘটনাটি ছোট্ট, কিন্তু এর পিছনের মনোবিজ্ঞানটি মোটেও ছোটো বলা যাবে কি? পুলিশের ভাষ্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল জনমনে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য এ ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে! বিস্ফোরিত বোমাটি সাধারণ ককটেলের চাইত শক্তিশালী ছিলো এবং প্রাথমিক ধারণা বোমাটি গাড়ির ভিতরেই রাখা ছিলো। যদি তাই হয় , তাহলে ভাববার বিষয় এবং সামনে মহা বিপদই অপেক্ষা করছে বলে প্রতীয়মান হয়।

কেন এই মহা বিপদ শব্দটি বললাম। লক্ষ্য করুণ, ডিজিটাল এই যুগে আমার/আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও অনেক কিছু হাতের কাছে চলে আসে যা কিনা অনিচ্ছা স্বতেও দেখা বা জানা হয়। সেই সুত্রে ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকগুলো আলেম ওলামায়ের ওয়াজ দেখা হয়েছে। সেই ওয়াজ গুলোতে যা দেখলাম আর শুনলাম তাতে শুধুই অবাক হলাম, মাঝে মাঝে শুধু মনে ঘৃণাই জমেছে। এখানে প্রাসঙ্গিক বলেই বলছি, গত দুদিন পূর্বেই ইত্তেকাফ এ বসা নিয়ে মুসুল্লিদের মাঝে মারামারির ফলাফল ১৫ জন জখম। ইতিপূর্বে দীর্ঘদিনের এক এস্তেমার ভাগাভাগিতে দুই গ্রুপে মারামারির ফলাফল  হত্যা!  অথচ মজার বিষয় হলো সবাই সেই একই কোরআনের দোহাই দিয়ে সব করছে। ইউটিউবে ওয়াজ গুলো দেখে যা বুঝলাম বা শুনলাম সেখানে মুসলিমদের মাঝে শুধুই দন্দ আর ভাগাভাগি । ওয়াজ মাহফিলের নামে প্রকাশ্যে নাম ধরে ধরে সেটা আস্তিক/নাস্তিক  বাছবিচার নাই স্পষ্টতই গিবত্ গাওয়া ! আর একে অপরকে কাফেরের সার্টিফিকেট দেওয়ার দহরম মহরম চলছে। ব্যঙ্গচিত্র করা যেন ওয়াজের প্রধান মাশলা! এই নানাবিধ বিষয়ের সাথে সব চাইতে যেটা বেশি চর্চা হয় , সেটা হলো গিয়ে নারী বিদ্বেষী কথাবার্তা! এমন কোনো মাওলানা বা ওয়াজকর নাই যিনি এই বিষয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে কথা না বলেন ! আর নারী বিষয়ে মাশলা দেবার সময় এত নিচু মানের ভাষা প্রয়োগ সাথে আবার সুরে সুরে জোর করে ওয়াদা নেওয়া যেমন , ঠিক কিনা ? জোরে বলেন , সুবাহান আল্লাহ্ ইত্যাদি । কোরআন এর তাফছিরের খবর নাই , কেবল কবরের ভয় দেখানো আর ইহ্ দুনিয়া কিছুই না সেটাই প্রমাণ করা !  হাজারো উদহারণ দেওয়া যাবে , একটু ইউটিউবে ঘুরে আসলেই তার শত প্রমাণ পেয়ে যাবেন। মাঝে একবার পত্রিকার পাতায় দেখলাম , সরকার নিজ উদ্যোগে সম্ভবত ১৫ জন তথা কথিত ওয়াজকর আলেম ওলামার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সেটা সেই খবর পর্যন্তই , আর কোনো খবর নাই।

বলছিলাম আসু আরাম , ইত্তেফাক বা ঐক্যের কথা। এই ঐক্যের কথায় আসার আগে পত্রিকা বা টিভির খবরের কথা বলা প্রয়োজন আর সেটা রহিঙ্গা ইসু। খবরেই জানলাম প্রায় ৩৯ টির মত জঙ্গি গ্রুপ রহিঙ্গা ক্যাম্পে ততপর আছে। এদেরকে আবার পেট্রনাইজ বা উদ্ভুত করছে কিছু ইসলামের নামে সংগঠন । একথা দের্থহীনভাবে বলা যায়, এই সংগঠন গুলো শুধু তাদের স্বার্থকে প্রলম্বিত করার জন্যেই সেখানে হানা দিয়েচ্ছে। তাদের স্বার্থ সেই একটাই যেটা কিনা এই বাংলা হবে আফগান! ইসলামিক স্টেট করা , শরিয়া আইন চালু করা, সর্বোপরি একটি কট্টর ইসলামিক রাষ্ট্র তৈরি করা ! তারা একটি গণতান্ত্রিক সরকার বহাল থাকা অবস্থায়ও কোনো লুকোচুরি না করে প্রকাশ্যেই ওয়াজ মাহফিলের নামে বা ইসলামের জলসা নামে এই কথাগুলো প্রচার করেই যাচ্ছে।

লক্ষ্যণীয় যে দুদিন পূর্বেই ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদের সরকারের দ্বিতীয় দফায় আগমন ঘটলো। প্রথমবার এসে যতটা না বেপরোয়া ছিলো এবার যেন তার দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই সেই কট্টরদের হাবভাব প্রকাশ শুরু করেছে। গো-নিধন করা হচ্ছে, সুতরাং খতম কর বলেই ইতিমধ্যেই কয়েকটি খুনোখুনির ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। এমনকি সংখ্যালঘু মুসল্লিমদের মাথায় টুপি, বেশ টুপি খুলিয়ে শ্রীরামের ভজন মুখ দিয়ে পড়াচ্ছে, গায়ের জোরে। কট্টর মনোভাব সব ধর্মেই একই হয়। এই দর্শন যে ক্ষতিকর তা আলাদা করে প্রমাণের প্রয়োজন আছে কি ? সেটা বর্তমান ভারতের দিকেই তাকালে পরিচয় পাওয়া যাবে ।

তাই বলছিলাম, দেশের রাজনীতিকে শুদ্ধতায় না আনতে পারলে ভবিষ্যতে কারওরই ক্ষমা হবে না। আসু আরামের ফরমুলায় আমাদের সব রাজনীতি দলগুলো ( এখন অব্দি  শুধু বামদলগুলো বাদে) এই সব কট্টরবাদি ইসলামিক দলগুলোর কাছে যেভাবে দিনে দিনে নিজেকে জড়িয়ে ফেলছে, আর তাদের দেওয়া ফরমুলা শিক্ষা থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই যেভাবে প্রসার হচ্ছে, এতে করে এই যুদ্ধ জয়ী স্বাধীন দেশকে একদিন ভুগতে হবে। এই কট্টর মানসিকতার ইসলামিক দলগুলোকে দেশের দুই বৃহত্তর দল যত বেশি জড়াবে ততই অমঙ্গলের হিসেব বড় হতে বাধ্য হবেই। সুতরাং রাজনীতির মূল ভিত্তি সঠিক গণতন্ত্রের দিকেই বেশি করে ধাবিত হোন , তবেই এই জংলাবাস থেকে বেড় হয়ে আসতে পারবেন। কট্টরদের সাথে ( দুই দলের জন্যেই প্রযোজ্য) সমঝোতা করে হয়তো আসু আরাম বা ক্ষণীকের আরাম মিলবে তবে ভবিষ্যতে এরাই দুধ কলায় বড় হয়ে ছোবল দিবেই দিবে।

আবার ভারতের নির্বাচনের কথায় আসি। ভারতে নির্বাচনে এবার যা ফলাফল দেখলাম , তাতে বামদের ভরাডুবি বলতেই হবে। লক্ষ্যণীয় যে, আমাদের দেশের মত ভারতেও এখন দুইদলের চাঁপায় সব পিষ্ট হচ্ছে। এত বৃহত্ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতেও এখন কেবলি বিজিপি আর কংগ্রেসে, ঠিক যেমনটি আমাদের দেশেও আওয়ামী লীগ আর বিএনপি !  একথা জোর গলায় বলা যায়, দুটি দেশেই এখন দুই দলের চাঁপায় বাকি সব পাজেল হয়ে যাচ্ছে। যার ফলাফল ভারতে বামদের ভরাডুবি আর আমাদের দেশে বামদেরতো আরো বারোটা বেজেই আছে। ৪৭ এ যেভাবে ধর্মভিত্তিকতায় দেশ ভাগ হয়েছে, তারপরেও সেই  সময় বামদের ভুমিকা পশ্চিমা বঙ্গে সঠিক না থাকলে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কি ঘটতে পারতো ? সেটা নিয়ে বিশদ আকারে লেখার ইচ্ছা রইলো । তাই সাধারণ জনগণকেই গভীরভাবে ভাবতে হবে, ভবিষ্যতে কি রাজনৈতিক ভাবে শুধুমাত্র দুইদলের কাছেই আরো পাজেল বা পঙ্গু হবো না এর প্রতিকারে সঠিক পথ নিয়ে ভাববো?

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার

সহকারী সম্পাদক,শুদ্ধস্বর ডটকম  

 

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.