অর্থমন্ত্রীর আনুকূল্যে বড় ঋণ খেলাপিরা ১০ বছরের জন্য হালাল: মেনন

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, অর্থমন্ত্রীর আনুকূল্যে বড় বড় ঋণ খেলাপিরা এবার ১০ বছরের জন্য হালাল হয়ে গেল। তার পরও আরও ছয় মাস তারা কিস্তি না দিয়ে থাকতে পারবে। ১০ বছরে ব্যাংক তাদের টিকিটি ছুঁতে পারবে না। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে হবে। আর যারা নিয়মিত কিস্তি দেবেন তাদের কপালে জুটবে ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে ছবি আর এক বছরের সুদের ১০ ভাগ। সুতরাং এখন থেকে সবাই ঋণখেলাপি হবে, এটাই হবে বাস্তবতা। ব্যাংকিং খাতের নতুন স্লোগান হবে আমরা সবাই ঋণখেলাপি হব, জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করব। ওয়ার্কার্স পার্টির এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে খেলাপিদের সুবিধা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তার সর্বশেষ এই প্রজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে ব্যাংক খাতের লুটপাটকেই অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করে দিল।

মেনন বলেন, যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা এভাবে লুট হয়ে যায় সেখানে পাটকল শ্রমিকদের মাত্র ৬৫ কোটি টাকা বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোরতর আপত্তি। সরকারি হিসাবেই যেখানে এক কেজি চাল উৎপাদন করতে ৩৬ টাকা খরচ হয়, সেখানে সরকারি চাল ক্রয়মূল্যও ৩৬ টাকা। অর্থাৎ কৃষককে সামান্য লাভও দিতে চায় না সরকার। আর এই সরকারি ক্রয়ের লাভের গুড় পিপড়ে অর্থাৎ চালকল মালিক, আড়তদার ও আমদানিকারকদের সিন্ডিকেট- খেয়ে নেয়। ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে কৃষকদের মূল্য ভর্তুকি দেওয়া যেত। কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে কৃষকের কাছেই রাখা যেত।
শুদ্ধস্বর/এন.হাসান

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.