বাংলাদেশের পথশিশুরা ক্রিকেট খেলতে লন্ডন যাচ্ছে

বাংলাদেশের লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (লিডো) ৮ পথশিশুকে কেডস ও কিপিং গ্লাভস উপহার দিয়েছেন তামিম ইকবাল। ইংল্যান্ডে হতে যাওয়া ‘স্ট্রিট চাইল্ড ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ’ খেলতে আগামী ২৮ এপ্রিল দেশ ছাড়বে সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুরা।

৩০ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত লন্ডনে হবে পথশিশুদের নিয়ে বিশ্বকাপ। লন্ডনের স্ট্রিট চাইল্ড ইউনাইটেড আয়োজিত এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সহ ১০ দেশের ৮০ জন পথশিশুর অংশ নেওয়ার কথা। টুর্নামেন্টের জন্য প্রতিটি দেশ থেকে চারজন মেয়ে ও চারজন ছেলেকে নির্বাচন করা হয়েছে। বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত ৮ পথশিশু- আবুল কাশেম, মোহাম্মদ রুবেল, রাসেল ইসলাম রুমেল, নিজাম হোসেন, স্বপ্না আক্তার, সানিয়া মির্জা, জেসমিন আক্তার ও আরজু রহমান দেখেছে বাংলাদেশের জাতীয় দলের অনুশীলন।

সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুরা ঘুরে ঘুরে দেখেছে বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম। আর বাড়তি পাওয়া হিসেবে তারা কিছুক্ষণ সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছে তামিমের সঙ্গে। সেই পাওয়াটা আরও স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে তাদের তামিমের উপহারে। বাংলাদেশি ওপেনার শিশুদের ‘সারপ্রাইজ’ দিয়েছেন প্রত্যেকে কেডস উপহার দিয়ে। সঙ্গে একজোড়া কিপিং গ্লাভসও দিয়েছেন তিনি।

তামিমের কাছ থেকে উপহার পেয়ে বেজায় খুশি স্বপ্না-নিজামরা। বাংলা ট্রিবিউনকে স্বপ্না বলেছে, ‘তামিম ভাইয়াকে এত কাছ থেকে দেখব, কখনও ভাবিনি। উনি আমাকে অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক কথা বলেছেন, উপহার দিয়েছেন। আমরা তার কথায় অনুপ্রাণিত। আশা করি ইংল্যান্ডে ভালো করতে পারব।’

উইকেটরক্ষক নিজাম হোসেনও দারুণ খুশি বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম দেখে, ‘ড্রেসিং রুমে ঢুকতে পারব, কল্পনাতেও ছিল না। মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি। তামিম ভাইয়ের উপহার আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে বিশ্বমঞ্চে ভালো খেলতে। বিশেষ করে আমাকে উনি গ্লাভসটা উপহার দিয়েছেন। আমি তার অনুপ্রেরণা নিয়ে ইংল্যান্ডে ভালো খেলতে চাই।’

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলা ট্রিবিউনে ‘৮ পথশিশুর বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণে বাধা পাসপোর্ট!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম এই শিশুদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর সই করা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট অধিদপ্তর বরাবর এক চিঠিতে এই ৮ শিশুর পাসপোর্ট ইস্যু করতে লিডো কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

অবশেষে পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা শেষে হাসি ফোটে স্বপ্না-নিজামদের মুখে। এবার বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম ও শেরে বাংলা স্টেডিয়াম ঘুরে দেখার সুযোগে তাদের সেই হাসিটা আরও চওড়া হয়েছে তামিমের উপহারে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.