সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি ‘একা এবং কয়েকজন’ এখন বড় একা, আবু আলম শহীদ খান

শান্তিনিকেতনের শ্যামবাটি ক্যানালের পেছনে ফুলডাঙায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি ‘একা এবং কয়েকজন’ এখন বড় একা। রুক্ষ লালমাটিতে কেবলি স্মৃতির দীর্ঘশ্বাস।
আদি বাসভূমি ফরিদপুর ছেড়ে কলকাতার ‘রিফিউজি’ সুনীল বাড়ি করলেন ফুলডাঙায়। ২১ কাঠা জমির একপাশে ফুলের বাগান, পুকুর। গরু, হাঁসও। আছে আম, সফেদা, বেল, লিচু, নারিকেল, কামরাঙা, বাতাবি লেবু, আতা গাছ। আছে তেজ পাতা আর দারুচিনি গাছ।

কলকাতা থেকে ঘনঘনই আসতেন। দোতালার একটি ঘরে নীরবে চলত লেখালেখি। বিকেলে নীচে নেমে খোলা বারান্দায় আরাম কেদারায় বসে দেদার আড্ডায় যোগ দিতেন।

আড্ডার সঙ্গে ফ্রি ছিল খাওয়া-দাওয়া। বৌদি (স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়) মাছ ভাজা এনে দিতেন! সঙ্গে চা, বেগুনি। এ ভাবেই ‘একা এবং কয়েকজন’কে নিয়ে বীরভূমের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল সুনীলের।

‘আলোর ভুবন’ নামে একটি বইয়ের ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন, “আমি জন্মসূত্রে না হলেও ভূমি সূত্রে বীরভূমের… মাত্র কয়েক বছর আগে শান্তিনিকেতনের অদূরে এক খণ্ড জমি কিনেছি। ভারতের মাটির সঙ্গে তাতেই আমার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

প্রতি বছর বসন্ত উৎসবের আগের দিনই শিল্পী যোগেন চৌধুরীর রতনপল্লির বাড়িতে একটি বসন্ত উৎসবের আয়োজন হত। হাজির থাকতেন সুনীল।

‘একা এবং কয়েকজন’ – আড্ডার পাশাপাশি শুধহত গানও। প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মোহন সিংহ খাঙ্গুরা স্মৃতি চারণ করেছেন, “প্রায় দিন বিকেলে তাঁর বাড়ি পৌঁছে যেতাম। গানের আড্ডায় গলা মেলাতেন সুনীলদাও।” গান শুনতে ডেকে পাঠাতেন স্থানীয় বাউল শ্যামচাঁদ দাসকেও। গান শুনে খুশি হয়ে টাকাও উপহার দিতেন। শ্যামচাঁদও বলেন, “একবার গানের শেষে টাকার বদলে বই উপহার চেয়েছিলাম। ভীষণ খুশি হয়ে তখনই সই করে নিজের বই দিলেন!”

কী হবে এই ‘একা এবং কয়েকজনে’র?
বাড়ির দীর্ঘদিনের কেয়ারটেকার দীনবন্ধু জানালেন বৌদি নিয়মিত আসেন। স্থাপন করেছেন সুনীলের ভাস্কর্য।

সুনীল শেষবার শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১২। দিন সাতেক ছিলেন। বয়সের ভারে উঠতে পারেননি প্রিয় দোতলার ঘরে। লেখালেখির কাজ সেরেছিলেন নীচের ঘরেই।

দীনবন্ধুর আক্ষেপ, “ফেরার সময় আবার আসব বলে গাড়িতে চাপলেন। আর ফিরলেন না।”

আর ফিরবে না আমাদের খুব প্রিয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে চিরকাল। শান্তিনিকেতন সফররত বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব আবু  আলম শহীদ খানের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে লেখাটি নেয়া হয়েছে ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.