বিশ শতকের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৬৮ সাল এক বিস্ফোরক অধ্যায়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, রাজপথ ও শিল্পাঞ্চলে তখন যে ছাত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল, তা শুধু শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার কিংবা তরুণদের ক্ষোভের প্রকাশ ছিল না; বরং প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থা, পুঁজিবাদী সমাজ, সাম্রাজ্যবাদ, যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর প্রজন্মের বিদ্রোহ। প্যারিস থেকে বার্লিন, রোম থেকে লন্ডন—বিভিন্ন শহরে তরুণেরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, রাষ্ট্র কার স্বার্থ রক্ষা করে, বিশ্ববিদ্যালয় কাদের জন্য এবং মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রকৃত অর্থ কী ? সেই আন্দোলন ইউরোপের রাজনীতিতে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
১৯৬৮ সালের ছাত্র আন্দোলনকে বুঝতে হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের পরিস্থিতির দিকে ফিরে তাকাতে হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপ পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছিল, নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটছিল এবং প্রযুক্তি ও শিল্পায়ন সমাজকে দ্রুত পরিবর্তন করছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজে বৈষম্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ, কর্মক্ষেত্রে কর্তৃত্ববাদ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ মানুষের সীমিত অংশগ্রহণ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্ম পুরোনো প্রজন্মের রাজনৈতিক আপস ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রশ্ন করতে শুরু করে।
এই প্রজন্মের রাজনৈতিক চেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের কাছে ভিয়েতনাম ছিল শুধু একটি দেশের যুদ্ধ নয়; এটি সাম্রাজ্যবাদ, জাতীয় মুক্তি এবং পরাশক্তির আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক। একই সময়ে আফ্রিকা ও এশিয়ার উপনিবেশবিরোধী আন্দোলন, কিউবার বিপ্লব এবং লাতিন আমেরিকার বিপ্লবী রাজনীতিও ইউরোপের তরুণদের অনুপ্রাণিত করছিল। অন্যদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার আমলাতান্ত্রিকতা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন নিয়ে বামপন্থীদের মধ্যেও প্রশ্ন ছিল। ফলে প্রচলিত পুঁজিবাদী ব্যবস্থা কিংবা সোভিয়েত মডেল—কোনোটিকেই বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করতে রাজি ছিলেন না অনেক তরুণ বুদ্ধিজীবী ও ছাত্রনেতা।
এই আন্দোলনের আন্তর্জাতিক চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ ঘটে ১৯৬৮ সালের ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম বার্লিনে। সেখানকার টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ভিয়েতনাম কংগ্রেসে ১৪টি দেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেন। সম্মেলনটির আয়োজন করেছিল পশ্চিম জার্মানির সোশ্যালিস্ট জার্মান স্টুডেন্ট লিগ বা এসডিএস। পরবর্তী বিক্ষোভে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নেন। যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা ভিয়েতনামের সংগ্রামকে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ হিসেবে দেখেছিলেন।
পশ্চিম জার্মানির ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন রুডি ডুচকে। মার্কসবাদী চিন্তায় প্রভাবিত এই তরুণ নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃত্ববাদ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং পশ্চিম জার্মানির রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করতেন। তাঁর কাছে ছাত্র আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংস্কার আদায় করা নয়; বরং সমাজের ক্ষমতাকাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা। বার্লিনের আন্তর্জাতিক ভিয়েতনাম কংগ্রেসে তাঁর ভূমিকা তাঁকে ইউরোপের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত করে।
এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ রাজনৈতিক কর্মী তারিক আলী, যিনি অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ছিলেন। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ বামপন্থী কর্মী ট্রটস্কিপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের কেন্দ্রে ছিল আন্তর্জাতিকতাবাদ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা এবং বিপ্লবী সমাজতন্ত্র। বার্লিনের অভিজ্ঞতা তাঁকে ব্রিটেনে আরও বৃহত্তর যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে। ১৯৬৮ সালের ১৭ মার্চ লন্ডনের গ্রসভেনর স্কোয়ারে মার্কিন দূতাবাসের সামনে ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। তারিক আলী এই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত সংগঠক হিসেবে সামনে আসেন।
আন্তর্জাতিক ভিয়েতনাম কংগ্রেসে ফ্রান্স থেকে অংশ নিয়েছিলেন ট্রটস্কিপন্থী নেতা আলাঁ ক্রিভিন ও দানিয়েল বেনসাইদ এবং নৈরাজ্যবাদী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত দানিয়েল কন-বঁদি। ব্রিটেন থেকে তারিক আলীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বামপন্থী লেখক রবিন ব্ল্যাকবার্ন। মার্কিন ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন বার্নাডিন ডর্ন। আন্তর্জাতিক ট্রটস্কিপন্থী আন্দোলনের বিশিষ্ট তাত্ত্বিক আর্নেস্ট ম্যান্ডেলও এই সম্মেলনে যুক্ত ছিলেন। তবে তাঁদের সবাই একই রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন না। মার্কসবাদী, ট্রটস্কিপন্থী, নৈরাজ্যবাদী এবং নতুন বামপন্থী বিভিন্ন ধারার কর্মীরা ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধিতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থানের ভিত্তিতে একত্রিত হয়েছিলেন। এই বৈচিত্র্যই ষাটের দশকের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
১৯৬৮ সালের ছাত্র আন্দোলনের সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায় রচিত হয় ফ্রান্সে। মে মাসে প্যারিসের নঁতের বিশ্ববিদ্যালয় ও সোরবোনকে কেন্দ্র করে ছাত্র অসন্তোষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরোধিতা, শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা, পুলিশের দমন-পীড়ন এবং বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা আন্দোলনকে তীব্র করে তোলে। দানিয়েল কন-বঁদি এই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর সঙ্গে আলাঁ গেইসমারসহ আরও অনেক ছাত্র ও শিক্ষক আন্দোলন সংগঠিত করেন। তবে ফরাসি ছাত্র আন্দোলনের কোনো একক নেতা ছিলেন না; বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক ধারার সংগঠকেরা এতে ভূমিকা রেখেছিলেন।
ছাত্রদের আন্দোলন দ্রুত শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। দেশজুড়ে ব্যাপক ধর্মঘটে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক অংশ নেন। বিভিন্ন কারখানা ও কর্মস্থলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রদের স্বাধীনতা ও কর্তৃত্ববিরোধী দাবি শ্রমিকদের মজুরি, কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নের সঙ্গে মিলিত হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গলের সরকার গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে মনে হয়েছিল, আন্দোলন প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার উৎখাত হয়নি। নির্বাচনে দ্য গলের সমর্থকেরা শক্ত অবস্থান ফিরে পান এবং আন্দোলন ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসে। তবু ফরাসি সমাজ ও রাজনীতিতে মে ১৯৬৮-এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ইতালিতেও ১৯৬৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় দখল, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং কর্তৃত্ববিরোধী প্রতিবাদ তীব্র হয়ে ওঠে। রোম বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলন বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। পরবর্তী সময়ে ছাত্রদের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং ইতালির নতুন বামপন্থী রাজনীতি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ব্রিটেনেও ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক প্রতিবাদ এবং সামাজিক সংস্কারের দাবি রাজনৈতিক বিতর্ককে প্রভাবিত করে। যদিও প্রতিটি দেশের আন্দোলনের চরিত্র ও পরিণতি এক ছিল না, তবু আন্তর্জাতিক সংহতি এবং প্রচলিত কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা ছিল তাদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
ইউরোপের ১৯৬৮ সালের আন্দোলনকে শুধু ছাত্রবিদ্রোহ হিসেবে দেখলে এর বৃহত্তর ঐতিহাসিক তাৎপর্য বোঝা যায় না। এটি ছিল একটি প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আত্মপ্রকাশ। আন্দোলনকারীরা নারী-পুরুষের সমতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র এবং কর্মক্ষেত্রে মর্যাদার প্রশ্ন সামনে এনেছিলেন। তাঁরা প্রশ্ন করেছিলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন যদি মানুষের স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তবে সেই উন্নয়নের অর্থ কী? একই সঙ্গে আন্দোলনের ভেতরেই কৌশল, নেতৃত্ব, সংগঠন এবং বিপ্লবের পথ নিয়ে মতভেদ ছিল। কেউ সংসদীয় গণতন্ত্রের সংস্কার চেয়েছেন, কেউ বিপ্লবী সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছেন, আবার কেউ ব্যক্তিস্বাধীনতা ও কর্তৃত্ববিরোধী সমাজের ধারণাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
এই আন্দোলনের সব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ফ্রান্সে সরকার টিকে যায়, পশ্চিম জার্মানিতে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, ব্রিটেনেও বিপ্লব ঘটেনি। কিন্তু আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার, সামাজিক মূল্যবোধ, নারী অধিকার, পরিবেশবাদ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিতর্ককে শক্তিশালী করে। অনেক আন্দোলনকর্মী পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা, গবেষণা, রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অন্যদিকে, আন্দোলনের কিছু অংশে চরমপন্থা ও সহিংসতার প্রবণতাও দেখা দেয়, যা বৃহত্তর সমাজে বিতর্ক সৃষ্টি করে।
১৯৬৮ সালের ইউরোপ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ছাত্রসমাজ কেবল ভবিষ্যতের নাগরিক নয়; বর্তমানের রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও প্রশ্ন করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে ছাত্র আন্দোলনের স্থায়ী সাফল্য নির্ভর করে শুধু প্রতিবাদের তীব্রতার ওপর নয়, বরং জনসমর্থন, সংগঠন, সুস্পষ্ট কর্মসূচি এবং সমাজের অন্যান্য শ্রেণির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর। তারিক আলী, রুডি ডুচকে, দানিয়েল কন-বঁদি, আলাঁ ক্রিভিন ও দানিয়েল বেনসাইদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এই ইতিহাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে।
আজকের ইউরোপে যখন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, আবাসনসংকট, অভিবাসন, গণতন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিতর্ক ও প্রতিবাদ দেখা যায়, তখন ১৯৬৮ সালের ইতিহাস আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। সেই সময়ের আন্দোলন বর্তমানের জন্য কোনো সরল নকশা নয়; বরং এটি একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা—সমাজের গভীর অসন্তোষকে ভাষা দেওয়া, ভিন্ন মতের মানুষের মধ্যে সংহতি গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। ১৯৬৮-এর বিদ্রোহের স্থায়ী উত্তরাধিকার হয়তো কোনো একক মতাদর্শের বিজয় নয়, বরং কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করার সাহস এবং আরও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন দেখার অধিকার।
হাবিব বাবুল
প্রধান সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম, ফ্রাঙ্কফুর্ট, জার্মানি

