নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বান কীভাবে তৈরি হল, তা নিয়ে তদন্তে নেমেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাথমিকভাবে তাঁদের অনুমান, হিমবাহ ও পাথরের বিশাল স্তরের ধস থেকেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হতে পারে। ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে এই ধসের পর লেন্দে খোলা নদীতে আচমকা বিপুল পরিমাণ জল, কাদা ও পাথর নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে সেই স্রোত ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে।
এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ১৫৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ ৭৫০ জনেরও বেশি। তাঁদের মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে বাড়ি, গাড়ি, সেতু এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো ভেসে যায়। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা।
বন্যার ভয়াবহতা বোঝা যায় জলস্তর বৃদ্ধির গতি থেকেই। হাইড্রোলজিক্যাল পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গালচিতে ত্রিশূলী নদীর জলস্তর মাত্র ৩০ মিনিটে প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়। মালেখুতেও একই সময়ে প্রায় ৭ মিটার জলস্তর বৃদ্ধির খবর পাওয়া গিয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এত দ্রুত জলস্তর বেড়ে যাওয়া সাধারণ বর্ষার বন্যার বৈশিষ্ট্য নয়। এর পিছনে বিপুল পরিমাণ জল একসঙ্গে নদীতে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
প্রাথমিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে, উঁচু পাহাড় থেকে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তর লেন্দে খোলা নদীতে আছড়ে পড়ে। এর ফলে নদীর জল আচমকা সরে গিয়ে কাদা, পাথর ও বিশাল বোল্ডার নিয়ে ভয়ঙ্কর স্রোত তৈরি হতে পারে।
তবে আরও একটি আশঙ্কা রয়েছে। ধসের ধ্বংসাবশেষ নদীর সরু অংশে আটকে গিয়ে সাময়িক বাঁধ তৈরি করে থাকতে পারে। এই ধরনের প্রাকৃতিক বাঁধের পিছনে দ্রুত জল জমতে থাকে। পরে বাঁধ ভেঙে গেলে দ্বিতীয় দফায় আরও ভয়াবহ বন্যা নেমে আসতে পারে। নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে এমন কোনও বাধা এখনও রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্ভাব্য দ্বিতীয় স্রোতের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ভূমিকাও তদন্ত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কাছাকাছি সিসমোমিটারে অস্বাভাবিক সংকেত ধরা পড়েছে। তবে সেই সংকেত সরাসরি ভূমিধসের কারণ ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এই ঘটনা হিমালয়ের পরিবর্তনশীল পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। হিমবাহ গলে যাওয়া, পাহাড়ের ঢাল অস্থিতিশীল হওয়া এবং হিমবাহ-হ্রদের বিস্তার ভবিষ্যতে এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আপাতত স্যাটেলাইট ছবি, ভূকম্পন সংক্রান্ত তথ্য এবং নদীর জলস্তর বিশ্লেষণ করে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।

