বিধ্বংসী হড়পা বানে তছনছ নেপাল। আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশের রাসুওয়া, নুওয়াকোট এবং ধাদিং জেলা বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এখনও নিখোঁজ নিরাপত্তা কর্মী থেকে বিদেশি পর্যটক। সেই তালিকায় রয়েছে ২৯০ জন ভারতীয়ও। জারি রয়েছে তল্লাশি ও উদ্ধারাভিযান। এই দুর্ঘটনার কারণ সন্ধানে অভিজ্ঞ ভূতাত্ত্বিকেরা। এবার ভারতীয় ভূকৌশলবিদ ব্রহ্মা চেল্লানি এই মহাপ্রলয়ের জন্য দুষলেন প্রতিবেশী চিনকেই।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রলয়ের জন্য চিনকে তীব্র সমালোচনা করেছেন চেল্লানি। তাঁর অভিযোগ, তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধস ও নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও বেজিংয়ের তরফে কোনও আগাম সতর্কবার্তা পাঠানো হয়নি। কাঠমাণ্ডুর কাছে আগে থেকে খবর থাকলে দ্রুত মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো। বাঁচানো সম্ভব হত অনেক প্রাণ। চেল্লানি জানান, মূল বিপর্যয়টি হিমবাহের প্রাকৃতিক ধসের কারণেই ঘটেছে। তবে তিব্বত অংশে চীনের নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং বিভিন্ন পরিকাঠামোগত পরিবর্তনই বন্যার তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে তোলার জন্য দায়ী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটকোশি নদীর উপনদী লেন্দেতে একটি তুষারধসের কারণে নদীপথ অবরুদ্ধ হয়। আর তারপরেই এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়। এরপর জলের প্রবল স্রোত চীন-নেপাল সীমান্তসংলগ্ন এলাকা রাসুয়াগাধীর তিমুরে ব্যাপক আঘাত হানে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে নেপালের বর্তমান উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে। তবে এলাকার পরিস্থিতি খারাপ থাকায় ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
জলবায়ু গবেষক বিনোদ প্রসাদ পারাজুলির মতে, কেউ বেঁচে থাকলেও তাঁদের খুঁজে বের করতে ড্রোন টিম এবং উচ্চ রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট ইমেজের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ১,৯৭৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। ভেঙে গিয়েছে ৩৮ কিলোমিটার রাস্তাও। জলবায়ু কর্মী পেমা ওয়াংমো লামা জানিয়েছেন, এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলিতে খাদ্য, পানীয় জল, জ্বালানি ও বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছনো এবং উদ্ধারকাজের জন্য শুধুমাত্র হেলিকপ্টারের উপরই ভরসা করতে হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনকে।

