রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আজই দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। জবানবন্দি, আলামত এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে।
গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসায় ঘটে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড। পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় অভিযুক্তদের কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে।
পুলিশ জানায়, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল হত্যার দায় স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, ঘটনার আগে মাদক সেবন করেছিল। তদন্তকারীদের মতে, জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামতের মধ্যে মিল পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার নৃশংসতা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মামলাটির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।

