হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করেছে। ডেইলি মেইল জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাস পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

সোমবার (৯ মার্চ) সাইপ্রাসে দেওয়া এক বক্তব্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, ফ্রান্স ও তার মিত্রদের নেতৃত্বে একটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক মিশন পরিচালিত হবে। এর লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন নিরাপদ রাখা। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

মাখোঁ আরও জানান—ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইউরোপীয় ও অ-ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি নজিরবিহীন নৌবহর মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে মোট আটটি ফ্রিগেট, দুটি হেলিকপ্টারবাহী জাহাজ এবং ফ্রান্সের বিমানবাহী রণতরী চার্লস ডি গল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হবে—এমন আশঙ্কায় বড় বড় উৎপাদনকারী দেশগুলো সরবরাহ কমাতে শুরু করায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্যারিসে জি-৭ দেশগুলোর জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কৌশলগত তেল মজুত বাজারে ছাড়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ও আরও দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইরানের বন্দরনগরী ‘বন্দর আব্বাস’-এ চালানো হামলার সময় এসব জাহাজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে জাহাজ থেকে আগুন ও ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কবে শেষ হবে সে বিষয়ে তিনি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন।

মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখন দশম দিনে গড়িয়েছে। গত মাসে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.