পৃথিবীতে নাকি সবচেয়ে ভারী পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ। সন্তানের মৃত্যু মায়ের বুকে কতখানি ভার তৈরি করে সেই অনুভূতি প্রকাশের ভাষা নেই বলেই বোধ হয় প্রবাদে শুধু পিতার কথা বলা হয়েছে। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হওয়ায় মৃত আর আহতদের নিয়ে আহাজারি ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা নিশ্চয়ই কারও নেই। দুঃখের ভার স্বজনরা বহন করবেন এটা সত্য, কিন্তু এই দুঃখের দায় কি কেউ নেবে না? কারণ বিমান দুর্ঘটনা এটাই প্রথম নয় এবং সম্ভবত শেষও নয়। এসব থেকে শিক্ষা না নিলে, সতর্কতা অবলম্বন না করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যাবে না। দায়হীন দুর্ঘটনা এবং মৃত্যু তো ভবিষ্যৎ বিপদের শঙ্কা কাটাবে না। ইতিমধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গুজবও ছড়িয়েছে অনেক। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে নানা বিতর্ক মানুষের মধ্যে বিক্ষোভেরও নানা উপাদান সরবরাহ করেছে। বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংস্থার তথ্যের মধ্যেও পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। সমন্বয়হীনতা সন্দেহ বাড়ায়, গুজবের জমিন তৈরি করে। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ক্যাম্পাসের ভবনের ওপর প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে ৩১ জনের মৃত্যু এবং ১৬৫ জন আহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা আগেই ৩২ জন উল্লেখ করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন শিশুশিক্ষার্থী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সংখ্যা ৩২ জন এবং চিকিৎসাধীন ৫১ জন। দুর্ঘটনার পর ছুটে গিয়েছেন বাবা-মা। যারা তাদের সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় পেয়েছেন তারা সেই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে আহত সন্তানের তালিকাতেও যখন তার সন্তানের নাম নেই তখন বাবা মায়েরা খুঁজতে গিয়েছেন সন্তানকে নয়, সন্তানের লাশ। এর চেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা আর কী হতে পারে?
ছোট্ট শিশু সাদ-এর কথাটাই ভাবা যাক! দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাদের বাবা-মা এই হাসপাতাল, অই হাসপাতাল ঘুরে সন্তানের সন্ধান না পেয়ে শেষে খুঁজতে গিয়েছিলেন মর্গে। সন্তানের হাতের লাল ঘড়ি দেখে শনাক্ত করেন সন্তানকে নয়, সন্তানের লাশ। প্রতিদিন সকালে অফিসে যাওয়ার সময় সাদকে ওর বাবা স্কুলে নিয়ে যেতেন। বেলা একটার সময় ক্লাস শেষ হতো। ক্লাস শেষ হলে দেড়টার সময় কোচিং শুরু হতো। এই ৩০ মিনিটের বিরতিতে দুপুরের খাবার খেয়ে নিত শিশুরা। যখন বিমান বিধ্বস্ত হয়, তখন শিশুরা দুপুরের খাবার খাচ্ছিল। সাদের বাবা কথা বলেন কান্না, যন্ত্রণা আর ক্ষোভ নিয়ে। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের কাছে তিনি বলেন, ‘এভাবে যদি প্রশিক্ষণ বিমান না উড়ত, তাহলে আমার সন্তান আজ মারা যেত না, কারও সন্তানকে মরতে হতো না। আমার ছেলের গল্প লেখার দরকার নেই। যদি রিপোর্ট করেন, তাহলে কারা দায়ী, তাদের কথা লেখেন। তাদের বিচারের আওতায় আনার ব্যবস্থা করেন। তাহলে বুঝব, আপনারা কিছু করেছেন।’ এমন দাবি সব বাবা-মায়ের। দুর্ঘটনার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছিল, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান। সেটি নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সেদিন বেলা ১টা ৬ মিনিটে ঢাকার কুর্মিটোলার বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয়। এরপর ১টা ১৮ মিনিটে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। যদি স্কুলের ওপর বিধ্বস্ত না হতো তাহলে হয়তো এত শিশুর প্রাণহানি হতো না। কিন্তু যদি লোকালয়ের অন্য কোনো স্থানে, বাজারে, কোনো ভবনে, সড়কে কিংবা বিমানবন্দরের ওপর বিধ্বস্ত হতো তাহলে কী হতো? এই প্রশ্ন তো থেকেই গেল।
বাংলাদেশের বিমানবাহিনী খুব বড় নয়। কিন্তু দুর্ঘটনা একেবারে কমও নয়। তথ্য বলে ৩৪ বছরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৩২টি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত বিমান বাহিনীর বেশিরভাগ দুর্ঘটনা প্রশিক্ষণ চলাকালেই ঘটে, বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাগুলো পিটি-৬, ইয়াক-১৩০, এল-৩৯ বা এফ-৭ টাইপ বিমানের ক্ষেত্রে বেশি দেখা গেছে। প্রায় প্রতি দুর্ঘটনাতেই ফ্লাইট ক্যাডেট এবং স্কোয়াড্রন লিডারদের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্ঘটনাগুলোর বাইরে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় ছিল সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। ২৯ এপ্রিলের সেই ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রামে বিমান ঘাঁটিতেই ৪৪টি বিমান বিধ্বস্ত হয়। তবে সব কিছু ছাপিয়ে উত্তরার দুর্ঘটনা এ তালিকায় বিরল ও ভয়াবহ সংযোজন, যেখানে যুদ্ধবিমান সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্কুল কর্মচারী নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত সব বড় বিমান দুর্ঘটনার তালিকায় হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। ৯ মে ২০২৪ ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান, কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বিধ্বস্ত; স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ নিহত হন। ২৩ নভেম্বর ২০১৮ এফ-৭ বিজি যুদ্ধবিমান, টাঙ্গাইলে রকেট ফায়ারিং অনুশীলনের সময় বিধ্বস্ত হয় এবং পাইলট নিহত হন। ১ জুলাই ২০১৮ কে-৮ডব্লিউ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হন। ২ জানুয়ারি ২০১৮ মিল এমআই-১৭ হেলিকপ্টার, শ্রীমঙ্গলে বিধ্বস্ত, কুয়েতি সামরিক কর্মকর্তাসহ সবাই নিহত হন। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ দুটি ইয়াক-১৩০ কক্সবাজারে বিধ্বস্ত হয়। পাইলট বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। ১১ জুলাই ২০১৭ ইয়াক-১৩০ চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত, পাইলটরা ইজেক্ট করেন এবং বেঁচে যান। ২১ জুলাই ২০১৫ এমআই-১৭১এসএইচ হেলিকপ্টার, মিরসরাইয়ে জরুরি অবতরণকালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২৯ জুন ২০১৫ এফ-৭এমবি যুদ্ধবিমান, পতেঙ্গা উপকূলে বিধ্বস্ত, ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট তাহমিদ নিহত হন। ১৩ মে ২০১৫ এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার, শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়, ১ প্রশিক্ষক নিহত হন। ৩০ এপ্রিল ২০১৪ পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ২০ মে ২০১৩ এল-৩৯ প্রশিক্ষণ বিমান, যশোরে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৪ জুলাই ২০১৩ এ-৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ৮ এপ্রিল ২০১২ এল-৩৯ অ্যালবাট্রস জেট ট্রেনার, মধুপুরে বিধ্বস্ত হয় এবং ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট রেজা শরীফ নিহত হন। ২০ ডিসেম্বর ২০১০ পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান, বরিশালে বিধ্বস্ত হয়ে দুই স্কোয়াড্রন লিডার নিহত হন। ২০১০ এফ-৭এমবি যুদ্ধবিমান, পতেঙ্গায় বিধ্বস্ত হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১০ পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান, কর্ণফুলী নদীতে বিধ্বস্ত হয়। ২২ অক্টোবর ২০০৯ পিটি-৬ ট্রেনার বিমান, বগুড়া সদরে বিধ্বস্ত হয়।
১৬ জুন ২০০৯- এফটি-৬ যুদ্ধবিমান, চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিধ্বস্ত হয়। ৮ এপ্রিল ২০০৮ এফ-৭এমবি যুদ্ধবিমান, টাঙ্গাইলের পাহাড়িয়া গ্রামে বিধ্বস্ত হয় এবং স্কোয়াড্রন লিডার মোরশেদ নিহত হন। ৯ এপ্রিল ২০০৭ পিটি-৬ ট্রেনিং বিমান, যশোরে বিধ্বস্ত হয় এবং ফ্লাইট ক্যাডেট ফয়সাল মাহমুদ নিহত হন। ২৪ এপ্রিল ২০০৬ পিটি-৬, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহে বিধ্বস্ত হয় এবং ফ্লাইট ক্যাডেট তানজুল ইসলাম নিহত হন। ৭ জুন ২০০৫ এফ-৭এমবি যুদ্ধবিমান, উত্তরায় বহুতল ভবনের সঙ্গে সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ২০০৩ পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ১৫ নভেম্বর ২০০৩ পাইপার সেসনা এস-২ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ এফটি-৭বি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ১৯ অক্টোবর ২০০২ এমআই-১৭-২০০ হেলিকপ্টার, কক্সবাজার উখিয়ায় বিধ্বস্ত হয়ে ৪ জন নিহত হন। ৩০ জুলাই ২০০২ এ-৫সি যুদ্ধবিমান, চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত হয়ে ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট আদনান নিহত হন। ৭ জানুয়ারি ২০০১ এফটি-৭বি ট্রেনার যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয় এবং স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ মহসিন নিহত হন। ১৭ নভেম্বর ১৯৯৮ এ-৫সি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ২৬ অক্টোবর ১৯৯৮ এফ-৭এমবি বিধ্বস্ত হয়। ৮ মে ১৯৯৬ একটি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ১৯৯৪ একটি এফ-৭ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ১৯৯৩ দুটি পিটি-৬ ট্রেনিং বিমানের মধ্যে সংঘর্ষে তিন পাইলট নিহত হন। ১৯৯৩ একটি এফটি-৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয় এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কুদ্দুস নিহত হন। ৩০ এপ্রিল ১৯৯১ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ৪০টি এফ-৬ এবং ৪টি মিল-৮ হেলিকপ্টার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এসব রেকর্ড দেখে শুধু অতীত জানা নয় বরং ভবিষ্যতের পথনির্দেশ করাটাই মুখ্য।
দুর্ঘটনার পর সাধারণ মানুষের ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া আমাদের দেশের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মানুষ স্বেচ্ছায়, কারও নির্দেশ বা অনুমতির অপেক্ষা না করেই উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে এমনকি নিজেদের জীবনকে বিপন্ন করে হলেও। কিন্তু তাদের সহায়তা কীভাবে কাজে লাগানো যায় সে ব্যাপারে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীদের শিক্ষা থাকা দরকার। যে মানুষ বিবেকের টানে সহায়তা করতে এসেছে সে অবজ্ঞা সহ্য করতে পারে না। অন্যদিকে মানুষের বিপদে সহায়তার হাত না বাড়িয়ে আত্মপ্রচারের উৎকট প্রদর্শনীও দেখা যাচ্ছে। লাঠিপেটা করে দর্শনার্থী সরানো আর ভিড় করা কাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কোনোটাই তো কাম্য নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল শিক্ষা বিভাগের সমন্বয়হীনতা। ফলে ছাত্র অসন্তোষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। এসব এড়ানো কি কঠিন ছিল? সেনাবাহিনীর যেসব সদস্য উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন তাদের অনেকের মধ্যে বেদনার সঙ্গে হতাশার সুর লক্ষ করা গেছে। যদি প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রপাতি থাকত তাহলে আরও কয়েকটা প্রাণ বাঁচাতে পারতেন, এই আক্ষেপ করেছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের সংখ্যা, সক্ষমতা এবং আহতদের পরিবহন নিয়েও অনেক দুর্বলতা দৃশ্যমান হয়েছে। হাহাকার করে বা বিদেশ থেকে ডাক্তার, বিশেষজ্ঞ এনে আর কতদিন আমরা দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা করব। যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেসব যেন গুরুত্ব পায় এটাও মানুষের চাওয়া। ঢাকার মানুষ দেখে একের পর এক উড়োজাহাজ উড়ে যায় মাথার ওপর দিয়ে। রানওয়ের এত কাছে স্কুল করা কি উচিত? ঢাকা শহরে প্রায় ২ কোটি মানুষের বাস। প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ রকম জনবহুল শহরে যুদ্ধবিমান নিয়ে প্রশিক্ষণ কেন করা হয়? একটা নামকরা স্কুলে কোচিং করানো, শিক্ষার্থীর আইডি কার্ডে রক্তের গ্রুপ না থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যেখানে মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্তদের সন্তানরাই পড়েন সেই স্কুলে, উপস্থিতি, নিহত, আহতদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় হবে কেন? একটি বেদনাময় ঘটনা আমাদের কত দুর্বলতা উন্মোচন করে দেয়, কত ভুল দেখিয়ে দিয়ে যায় কিন্তু শিক্ষা নেই কি? যারা রাষ্ট্রের কর্র্তৃত্ব করেন তারা কতটুকু দায়িত্ব অনুভব করেন? সমালোচনার মুখ বন্ধ করার চাইতে দুর্বলতা দূর করা প্রধান কাজ হওয়া দরকার। কিন্তু বারবার অপূরণীয় ক্ষতিও কর্তাদের হুঁশ ফেরায় না, দুঃখ এবং ক্রোধ এ কারণেই।
রাজেকুজ্জামান রতন
রাজনৈতিক সংগঠক ও কলাম লেখক ।

