ছোট্ট রাইসা মনির দাফন সম্পন্ন

‎চিরনিদ্রায় শায়িত হলো মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছোট্ট রাইসা মনি। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক এমন ঘটনায় শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রামবাসী। ঘটনার পর থেকে অনবরত চোখের পানি ঝরছে রাইসা মনির বাবা-মায়ের।

আজ ‎শুক্রবার সকাল ৯টায় উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে বাজড়া কবরস্থানে তার দাফন হয়। সন্তানের এমন মৃত্যুতে শোকে কাতর শাহাবুল-মিম দম্পতি।

‎‎প্রসঙ্গত, রাইসা মনির জন্মের দুই বছর আগে তাদের কোলজুড়ে আসে সিনথিয়া (১৩) ও সবার ছোট ছেলে রাফসান শেখ (৪)।

 

‎পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাইসা মনির বাবা-মায়ের ইচ্ছে ছিল ছেলে-মেয়েকে ভাল স্কুলে পড়ানোর। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। সেই লক্ষ্যে ভর্তি করেছিলেন মাইলস্টোনে। রাইসা মনি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তার বড় বোন সিনথিয়া।

‎১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘রাইসা মনির অকালমৃত্যুতে পুরো এলাকার মানুষ শোকে বিহ্বল। তার মরদেহ বাড়ি পৌঁছানোর পর হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এমন কোনো মানুষ নেই তার জন্য কাঁদেনি।’

 

‎রাইসা মনির বাবা শাহাবুল শেখবলেন, ‘মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের পরদিন ২২ জুলাই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। পরে নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করে আমার মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করা হয়। রাতেই মেয়ের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসি। বাড়ি পৌঁছাতে ভোর হয়ে যায়।’

‎উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থীর হতাহতের ঘটনা ঘটে।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.