ভারতের বিমান হামলায় ৩১ নাগরিক নিহতের ঘটনায় প্রতিটি রক্তবিন্দুর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। গতকাল বুধবার রাতে জাতিদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, গত রাতে ভারতের বিমান হামলায় নিহতদের প্রতি ফোঁটা রক্তের বদলা নেওয়া হবে। তারা কাপুরুষ শত্রু, যারা নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালায় এবং নিজেকে শক্তিশালী ভাবে। আমরা গত রাতে প্রমাণ করেছি, পাকিস্তান জানে প্রতিরক্ষা করতে কীভাবে উপযুক্ত জবাব দিতে হয়। জাতি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সাহস ও শক্তিকে শ্রদ্ধা জানায়।খবর ডনের।
ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তানও। এতে ১৫ ভারতীয় নাগরিকের প্রাণহানি ও বেশ কয়েকজন আহত হন। পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ফলে দুই দেশের উত্তেজনা তীব্র উত্তেজনার মধ্যে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর এত ক্ষতি করেছে যে, তারা এ ক্ষত সহজে সারতে পারবে না। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শত্রুকে নতজানু করতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে। আল্লাহর কৃপায়, আমাদের বিমানগুলো আকাশে এমন ঝড় তুলেছিল যে, শত্রুরা চিৎকার করে উঠল। ভারতের গর্ব ছিল, এমন পাঁচটি যুদ্ধবিমান এখন কেবল ছাই ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
এর আগে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে গতকাল জরুরি ভিত্তিতে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (এনএসসি) জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বৈঠক থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও বেসামরিক লোকজনকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে সময়মতো ভারতের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে তারা।
এদিকে হামলায় নিহত স্বজনদের প্রতি গভীর শোক জানিয়েছে পাকিস্তান। ভারতের হামলাকে ‘উসকানিমূলক ও কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে ইসলামাবাদ বলেছে, যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এর সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে শেহবাজ শরিফ পাকিস্তানের সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সব দলের নেতৃবৃন্দ যে একসঙ্গে বসে দেশ রক্ষায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনÑ এই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এমনকি তিনি বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

