পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধে কতটা অসুবিধায় পড়বে ভারতীয় বিমান ?

পাকিস্তানের উপর দিয়ে না গেলে উত্তর ভারত থেকে পশ্চিমের দিকে বিমানগুলোকে আরব সাগরের উপর দিয়ে যেতে হবে। আর এটিই প্রধান বিকল্প পথ। তবে আরব সাগর দিয়ে ঘুরে যেতে হলে বাড়তি জ্বালানি খরচ হবে বিমানগুলোর। এর ফলে যাত্রার খরচও আগের চেয়ে বেড়ে যাবে।

 

ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। পাল্টা জবাবে পাকিস্তানও ভারতীয় বিমানসংস্থাগুলোর জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। বিমান চলাচলের জন্য পাকিস্তানের আকাশ ব্যবহার করতে না দেয়ার ফলে ভারতের বিমান চলাচলে বেশ কিছু সমস্যা হতে পারে। বাড়তে পারে বিমান ভাড়াও।

দিল্লিসহ উত্তর ভারতের যেকোনো শহর থেকে পশ্চিমের কোনো দেশে যেতে সাধারণত পাকিস্তানের আকাশ ব্যবহার করা হয়। ওই পথে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ও স্পাইসজেটের মতো সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল করে।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তান আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়ার কথা ঘোষণা করতেই এ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করতে না পারলে উত্তর আমেরিকা, ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও পশ্চিম এশিয়ার দিকে বিমান চলাচলে অসুবিধা হবে। বিকল্প পথে যাত্রার সময়ও হবে দীর্ঘ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পাকিস্তানের উপর দিয়ে না গেলে উত্তর ভারত থেকে পশ্চিমের দিকে বিমানগুলোকে আরব সাগরের উপর দিয়ে যেতে হবে। আর এটিই প্রধান বিকল্প পথ। তবে আরব সাগর দিয়ে ঘুরে যেতে হলে বাড়তি জ্বালানি খরচ হবে বিমানগুলোর। এর ফলে যাত্রার খরচও আগের চেয়ে বেড়ে যাবে। মনে করা হচ্ছে, পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের ফলে ভারতে বিমান ভাড়া আট থেকে ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে চলেছে। এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আগামী দিনে ভাড়া আরো বাড়তে পারে।

এছাড়াও আরো কয়েকটি বিকল্প পথ খোলা রয়েছে ভারতীয় সংস্থাগুলোর। এক সিনিয়র পাইলট ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিমানগুলো বিকল্প পথ ধরলে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বেশি সময় লাগবে। তবে বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন রকম বিকল্প পথ খুঁজে নিতে পারে। এই সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলেই যাত্রার সময় সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে।

তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়। বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে হলে বিমানগুলোতে আরো বেশি জ্বালানি রাখতে হবে। ফলে সার্বিকভাবে বিমানের ভারসাম্য বজায় রাখতে হয় যাত্রী সংখ্যা, নয়তো জিনিসপত্রের ওজন কমাতে হবে। যাত্রী সংখ্যা কমিয়ে দিতে হলে বিমান সংস্থাগুলোর আয় কমবে এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।

ভারতের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়া নতুন নয়। এর আগেও এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ইসলামাবাদ। ২০১৯ সালে বালাকোটে ভারতের বিমান হামলার পর পাকিস্তান কয়েক মাসের জন্য আকাশসীমা বন্ধ রেখেছিল। পরে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়েছিল।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.