সাবেক ৪ মন্ত্রী রিমান্ডে

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, আনিসুল হক, দীপু মনি ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাদেক খানের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার শুনানি শেষে এ রিমান্ড আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন রেজার আদালত।

এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে ওবায়দুল ইসলাম গুলিতে নিহতের মামলায় হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, দীপু মনিকে চারদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে পিটিশন জমা দেন। তবে তাদের আইনজীবীরা শুনানি করেননি। পরে আদালত তাদের চারদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলায় অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৪ আগস্ট বিকাল ৫টার দিকে যাত্রাবাড়ির কাজলা পেট্রলপাম্পের সামনে আওয়ামী লীগের নেতারাসহ ১৪ দলের নেতাকর্মীরা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে হাজার হাজার জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে ওবায়দুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৫৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের স্বজন মো. আলী।

অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় মো. সুজন নামের এক ব্যক্তি গুলিতে নিহতের মামলায় আনিসুল হকের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) তার সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আনিসুল হকের তিনদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে মো. সুজন নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বসিলায় মিরাজুল ইসলাম অর্ণব নিহতের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পিবিআই-এর পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সাদেক খানকে আদালতে হাজির করে তার সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। তবে সাদেক খানের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

তিনি কিছু বলবেন কি না জানতে চান আদালত। তখন সাদেক খান বলেন, ‘আমি ওইখানে ছিলাম না। আর গুলি পাব কোথায়।?’ এ সময় তাকে থামিয়ে দেন এক আইনজীবী। তখন সাদেক খান বলেন, ‘আমাকে তো আদালত বলতে বলেছেন।’

পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় গত ১৯ জুলাই অংশ নেন মিরাজুল ইসলাম অর্ণব। পরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.