ঢাকা- ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আবারো তিক্ত হতে যাচ্ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। মার্কিন ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট থেকে ১১ জন বাংলাদেশিকে মানিলন্ডারিং তথা অর্থপাচারের দায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, বাংলাদেশী কিছু ব্যবসায়ী মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্রে পাচ মিলিন ডলার বা তারও বেশী বিনিয়োগ করেছে। তাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্র হলো, রিয়েল এস্টেট, রেস্টুরেন্ট, গ্যাস স্টেশন এবং ক্যাসিনো।
বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা অপ্রদর্শিত এসব অর্থ মানি লন্ডরিংয়ের মাধ্যমে পাচার করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারী ডিপার্টমেন্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গত এক বছর ধরে ডজন খানেক বাংলাদেশী ব্যবসায়ীর উপরে নজর রাখছে যারা অর্থনৈতিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সুত্র মতে, প্রথম ব্যাচে ১১ জনের উপরে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে জানা গেছে। তবে পরবর্তীতে সংখ্যা আরো বাড়বে এবং সেটা ৭০ জনের মতো বলে জানা গেছে। সম্প্রতি মার্কিন গ্লোবাল এন্টি কোরাপশন বিভাগের সমন্বয়কারী রিচার্ড নেফিউয়ের বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিশেষ বার্তা দেয়া হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। উনার সফরকালীন সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন সহ একাধিক অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাক্ষাত করার মা্ধ্যমে এ বিষয়টি জানা গেছে। উল্লেখ্য যে, রিচার্ড নেফিউ বিশ্বাস করেন যে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতার মাধ্যমে অর্থ পাচারের প্রবনতা এবং সেটি বন্ধ করার জন্য একটি সমাধানের উপায়। দুর্নীতি দমন সংস্থা হল একটি বিশেষ লিশ সংস্থা যা রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং সাধারণ দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে নজরদারী করে। এটি আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং এর কিছু সাংবিধানিক ভিত্তি রয়েছে। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কারনে একটি দেশ বা দেশের কিছু ব্যক্তির প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এগুলো হলো, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কুটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক নিষেধাজ্ঞা, ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা, পরিবেশ বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা। পুরো প্রক্রিয়াটি ম্যাগনিটস্কি ধারার আওতায় দেয়া হয়। ২০২১ সালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে মার্কিন রাষ্ট্রপতির অঙ্গীকারই হলো ম্যাগনিটস্কি ধারা। ২০ ডিসেম্বর ২০২১ মার্কিন রাষ্ট্রপতি জোসেফ বাইডেন এটি অনুমোদন করেন। এ আইনের ফলে কোন ব্যক্তির অর্থনৈতিক অপরাধের প্রমান পাওয়া গেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। (ব্লিটজ পত্রিকায় ৭ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রকাশিত অনিতা মাথুরের প্রতিবেদনের ভাষান্তর)

