করোনা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পরামর্শক কমিটির ৫ সুপারিশ

দেশে আবারও দেখা দিয়েছে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন সাড়ে ৯ হাজার ব্যক্তি। ক্রমবর্ধমান এ সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫টি সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

বুধবার সন্ধ্যায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান- আইইডিসিআর থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির এই সুপারিশের তথ্য জানানো হয়।

সুপারিশে বলা হয়:

১. কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীরা লক্ষণ প্রকাশের ১০ দিন পর্যন্ত আইসোলেশনে থাকবেন। এছাড়া কোভিড-১৯ নিশ্চিত রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন এমন ব্যক্তি যাদের কোন উপসর্গ নেই, তাদের কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজন নেই, তবে তাদেরকে টাইট মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে।

২. বিমানবন্দরসহ সকল পোর্ট অব এন্ট্রিতে সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নজরদারি বৃদ্ধির জন্য কমিটি সুপারিশ করছে।

৩. সকল সরকারি হাসপাতালে সার্বক্ষণিক কোভিড-১৯ ও নন-কোভিড সকল রোগীর জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

৪. মন্ত্রী পরিষদ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবহণ মালিক সমিতি, দোকান মালিক সমিতি, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সকলকে সম্পৃক্ত করে পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

৫. জাতীয় পরামর্শক কমিটি জনগণকে মাস্ক পরিধান নিশ্চিতকরণে সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণের প্রস্তাব করে। এছাড়া জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণকে সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধকরণের সুপারিশ করা হয়।

উল্লেখ্য, দেশে প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ১১ শতাংশে। গেল ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ৯ হাজার আর মারা গেছেন ১২ জন। সারা দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৪২ হাজার ২৯৪ জন। আর মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ হাজার ১৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.