তাইওয়ান প্রণালীতে যুদ্ধ কী অনিবার্য

অ্যাডভোকেট আনসার খান :বর্তমান বিশ্বের যেসব অঞ্চলকে সামরিক সংঘাত প্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়,তার মধ্যে এইসময়ের সবচেয়ে সামরিক উত্তেজনাপূর্ণ “হটস্পট” অঞ্চল হলো তাইওয়ান প্রণালী।

তাইওয়ান-গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের একটি বিচ্ছিন্ন ও বিদ্রোহী স্ব-শাসিত প্রদেশ হিসেবে পরিচিত, যদিও তাইওয়ানীরা নিজেদেরকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মনে করে।এর রাষ্ট্রীয় নাম হলো”রিপাবলিক অব চায়না(আরওসি)।ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা কুওমিনটাং(কেএমটি)১৯৪৯-সাল পর্যন্ত চীন শাসন করেছিলো।১৯৪৯-সালে মাও সে তুং এর নেতৃত্বে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে জয়যুক্ত হলে তখনকার শাসক চিয়াং কাইশেক তাঁর দলবল নিয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্হিত তাইওয়ান দ্বীপে পালিয়ে গিয়ে সেখানে রিপাবলিক অব চায়না নামে শাসন অব্যাহত রাখে।গত ত্রিশ বছরধরে তাইওয়ান আইনের শাসন,মানবাধিকার ও একটি বিকাশমান অর্থনীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটি বহুদলীয় গণতন্ত্র তৈরির চেষ্টা করে চলেছে।তাইওয়ানের একটি সংবিধান,একটি সামরিক বাহিনী এবং গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত একজন রাষ্ট্রপ্রধান আছেন।বিশ্বের ১৫টি দেশ তাইওয়ানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।২০১৬-সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাই ইং-ওয়েন সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উন্নত করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।যুক্তরাষ্ট্র থেকে আধুনিক সমরাস্ত্র ক্রয় করেছেন এবং আগামী পাঁচ বছরে অতিরিক্ত নয় বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অবশ্য চীনের তুলনায় তাইওয়ানের সামরিক ব্যয় অতি নগণ্য।কেননা,বেইজিংয়ের বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যয় আরএমবি১.৩৫ ট্রিলিয়ন(২৯০ বিলিয়ন ডলার)-যা আগের বছরের তুলনায় ৬.৮ শতাংশ বেশি।চীনের সামরিক সক্ষমতা বিবেচনায়”প্রয়োজনে তাইওয়ান দখলের ক্ষমতা চীনের আছে”-বলেছেন পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক ও প্রাক্তন ডিন জিয়া কিংগু।

চীন অবশ্য ওই দ্বীপ তথা তাইওয়ানকে গণচীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে।তাই এটিকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূতকরণের পক্ষে চীন সরকার।চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন-তিনি শান্তিপূর্ণ পথে তাইওয়ানের পুনর্মিলন করতে চান।কিন্তু চীনের সঙ্গে পূন:একীকরণের পথে প্রধান বাধা হলো”তাইওয়ানের স্বাধীনতার দাবি।”তাই-“শান্তিপূর্ণ পথে একীকরণ সম্ভব না হলে যুদ্ধই হবে শেষ অবলম্বন”যোগ করেন মি:শি।

তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন ইতোমধ্যে বলে দিয়েছেন তাইপে বেইজিংয়ের চাপের কাছে মাথা নত করবে না।”চীন আমাদের জন্য যে পথ বেঁধেছে তা নিতে কেউ তাইওয়ানকে বাধ্য করতে পারবে না”-বলেন ওয়েন।গণতান্ত্রিক এই দ্বীপের ভবিষ্যত তার ২৫-মিলিয়ন মানুষের দ্বারা নির্ধারিত হবে,কোনো বিদেশি শক্তির দ্বারা নয়।যেকোনো সময় “তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণা” করা হতে পারে”- যোগ করেছেন তিনি।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রয়োজনে তাইওয়ান দখলের জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করতে অস্বীকার করেছেন।তিনি বলেছেন চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে- “পুনর্মিলন অনিবার্য।” তবে তাঁর মূল লক্ষ্য হলো সামরিক বিকল্প হিসেবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ড গণচীনের সঙ্গে একীকরণ করা।কিন্তু যদি তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় তবে চীন সামরিক হামলার মাধ্যমে তাইওয়ান দখল করে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করবে।বিগত প্রায় সত্তর বছর যাবৎ তাইওয়ানীরা চীনের একটি যুদ্ধের হুমকির ভীতির মধ্যে বসবাস করে আসছে।তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে সামরিক এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্রতা পেয়েছে,দ্বীপের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে চীনা যুদ্ধ বিমানের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। চীন টানা চারদিনে তাইওয়ানের বিমান প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে ১৫০টিরও বেশী সামরিক জেট পাঠিয়েছিলো-যা এযাবৎকালের মধ্যে একটি রেকর্ড সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।তবে এই অনুপ্রবেশ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো-তাইওয়ানকে ভয় দেখানোর জন্যই অনুপ্রবেশের ঘটনা।চীন মনস্তাত্ত্বিক ভয় সৃষ্টি করে তাইওয়ানীয়দের চীনের প্রতি নতজানু করার জন্যই এমনটি করে থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক জার্মান মার্শাল ফান্ডের এশিয়া প্রোগ্রামের পরিচালক বনি গ্লেসার বলেছেন-“এটি বিমানের সংখ্যার দিক থেকে উদ্বেগজনক ছিলো।” এশিয়া প্যাসিফিকের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ওরিয়ানা স্কাইলার মাস্ত্রো বলেছেন এটি একটি “আগ্রাসনের চিহ্ন”-চীনা সরকারের একটি বার্তা যে এটি তার বোমারু বিমান ও যোদ্ধাদের দিয়ে তাইওয়ানকে আঘাত করতে পারে।”এটি জাতীয় ঐক্যের নিজস্ব লক্ষ্য অর্জনের জন্য সামরিক উপায়ে আরও বেশি নির্ভর করার চীনের অভিপ্রায়কেও ইঙ্গিত করে”-যোগ করেন মি:মাস্ত্রো।তবে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যেকার বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় যুদ্ধের আশংকার বিষয়টি অস্বীকার করেননি বিশেষজ্ঞরা।

তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে দুই বৃহৎ শক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান পরাশক্তির প্রতিদ্বন্ধিতার মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।তাইওয়ানের ঘনিষ্ট মিত্র চীনের প্রতিপক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুশিয়ারী দিয়ে বলেছেন তাইওয়ানকে চীনের যেকোনো হামলা থেকে রক্ষা করতে তাঁর দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।এদিকে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সাথে ভার্চুয়াল সামিটে তাইওয়ানের ক্ষেত্রে ” আগুন নিয়ে খেলার”বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি।

তাই এটি বলা সঙ্গত হবে যে স্ব-শাসিত দ্বীপটি দুটি পরাশক্তির মধ্যে গভীর বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্ধিতার কেন্দ্রস্হলে চলে গেছে,-সামরিক উত্তেজনা প্রজ্বলিত করার এবং আঞ্চলিক শৃঙ্খলার পুননির্মাণের সম্ভাবনাসহ।বিশেষজ্ঞরা বলছেন-১৯৯৬-সালে তৃতীয় তাইওয়ান প্রণালী সংকটের পরে বর্তমানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে।তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কুও-চেং বর্তমান উত্তেজনাকে”-“চীনের সাথে ৪০-বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সামরিক উত্তেজনা হিসেবে”বর্ণনা করেছেন।বিদ্যমান প্রেক্ষিত বিবেচনায় তাইওয়ান প্রণালী একটি সংঘর্ষের মুখোমুখি হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।আর যদি”এই সংকট যুদ্ধে পরিণত হয় তবে এটি হবে”বিশ্বে দেখা সবচেয়ে বড়,সবচেয়ে প্রভাবশালী যুদ্ধ”-বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রিম্যান স্পোগলি ইন্সটিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর সেন্টার ফেলো মাস্ত্রো।

বিশেষকরে,তাইওয়ানে চীনের সামরিক হস্তক্ষেপ মারাত্মক পরিণতির কারণ হতে পারে।ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত অবস্থার প্রেক্ষিত বিবেচনায় নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ এবং তাইওয়ানের ভূখণ্ড রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকরা।এমনিতেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিশ্বরাজনীতিতে আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারের একটি প্রতিদ্বন্দ্ধিতা দৃশ্যমান আছে।দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে রয়েছে দেশ দুটির মধ্যে কৌশলগত বিরোধ।অন্যদিকে এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে তাড়িয়ে দিয়ে চীন এশিয়ায় তার একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়।কারণ চীন মনে করে বিশ্বব্যবস্হায় যুক্তরাষ্ট্রের একক কর্তৃত্ব খর্ব করে চীনকে প্রতিস্হাপন করার জন্য সর্বাগ্রে এশিয়ায় চীনকে একক পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা অপরিহার্য।আবার যুক্তরাষ্ট্রও তার পরাশক্তির কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এশিয়ায় প্রভূত্ব বজায় রাখতে ওই অঞ্চলের মিত্রদেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।মোটকথা ওই অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য দুই বৃহৎ শক্তি আটঘাট বেঁধে নেমেছে এবং বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে নতুন মেরুকরণের আলামত দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।এ- অবস্থায় তাইওয়ানকে দেশ দুটির জন্য একটি “টেস্টকেছ” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।যেটি জিতবে সেটিই হবে ভবিষ্যত বিশ্বের নিয়ন্ত্রক-এমনটি মনে করেন বিশ্লেষকরা।এইদিক বিবেচনায় এটি বলা যায় যে চীন বা যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান প্রশ্নে কেউ কাউকে একটুও ছাড় দিবে বলে মনে হয় না।তাই এটি বলা যায় তাইওয়ানের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার অজুহাত দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।আর যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অর্থ দাঁড়ায় ন্যাটো ও এর মিত্র দেশগুলোর অংশগ্রহণ।এক্ষেত্রে যুদ্ধ এক ভয়াবহ অবস্থার দিকে ধাবিত হতে পারে-যা গোটা বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দেখা দিতে পারে।এমনকি যুদ্ধটি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে।তবে বড়ধরণের যুদ্ধ আশংকা তৈরির পরিস্থিতি এখনো তেমনটি পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

একটি যুদ্ধ অবশ্যই একটি বড় বিপদ ডেকে আনবে।এটি মানুষকে দুর্দশা ও যন্ত্রণার মধ্যে নিমজ্জিত করবে-যা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করবে,বিশ্ব অর্থনীতিকে আঘাত করবে।তাই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন-একটি আক্রমণ একটি “সম্ভাব্য বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত” হবে।অন্যদিকে,জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সতর্ক করে বলেছেন এটি হবে”অর্থনৈতিক আত্মহত্যার”শামিল।”তাইওয়ানে চীনের সামরিক হস্তক্ষেপ-“চীনের জন্য ভিয়েতনাম হতে পারে”-বলেছেন জেপিমর্গানের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমন।”আমি মনে করি এটি করা চীনাদের পক্ষে খুব বেদনাদায়ক হবে”-বলেন মি:ডিমন।

তাইওয়ান নিয়ে দুটি বৃহৎ শক্তির হুমকি পাল্টা হুমকির পরিণতি শেষ পর্যন্ত কোনো দিকে মোড় নিতে পারে সেটি, কী যুদ্ধের দিকে মোড় নিবে,নাকি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হবে-তা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।তবে এটি বলা যায় যে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় রাখতে হলে কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ তাইওয়ান প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখতেই হবে। অন্যদিকে চীনের জন্য তাইওয়ান একটি প্রেসটিজ ও শক্তি প্রদর্শনের ইস্যু।চীন বরাবরই দাবি করে আসছে তাইওয়ান তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।অবিচ্ছেদ্য ওই অংশ যদি সত্যিকার ভাবে স্বাধীন হয়ে যায় এবং তার প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র যদি তাইওয়ানে সামরিক ঘাঁটি স্হাপন ও আধিপত্য কায়েম করে,তবে সেটি হবে চীনের জন্য বড় পরাজয়।আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পরাশক্তি হওয়ার চীনা স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিতে পারে তাইওয়ান তার হাত ছাড়া হয়ে গেলে। এমন অবস্থায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কেউ কাউকে ছাড় দিতে পারে,তা ভাবা যায় না।তাই হয়তো অদূর ভবিষ্যতে সীমিত পর্যায়ের একটি যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে তাইওয়ানকে ঘিরে।

লেখক:আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক। 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.