কোনো নিবন্ধন ও এসএমএস ছাড়াই ফাইজারের টিকা পাচ্ছেন প্রভাবশালীদের পরিবারের সদস্য ও কর্মচারীরা। তাদের টিকা দিতে গিয়ে উপেক্ষিত হচ্ছে টিকা কেন্দ্রের নিয়মও।
কর্তৃপক্ষ বলছে, নিবন্ধনের সময় কোন ব্যক্তি যে কেন্দ্র বাছাই করবেন, তাকে সেই কেন্দ্র থেকেই টিকা নিতে হবে। তবে, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
বুধবার সকাল ৯টার আগেই প্রবাসীদের কাতারে উপস্থিত হতে থাকেন অনেকে। সঙ্গে নিবন্ধনের প্রমাণপত্র। গড়ে যেখানে ৪৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা মাসের বেতন, সেখানে কোয়ারেন্টাইনের ৭০ হাজার টাকা বাঁচাবে একটি ফাইজারের টিকা।
বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নজরুল ইসলাম খান জানালেন, এদিন দেয়া হবে ৪০০ ডোজ ফাইজারের টিকা।
এদের মধ্যে ৩০০ রেমিটেন্স যোদ্ধা আর বাকি ১০০ নিবন্ধিত ব্যক্তিকে দেয়া হবে। নিবন্ধিতদের মধ্যে যাদের কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ আছে, তাদের দেয়া হবে টিকা।
সেখানে দেখা গেল টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের সংসদ সদস্য এসেছেন, মা, স্ত্রী বোনসহ পরিবারের চারজনকে নিয়ে। তারা সবাই পেলেন ফাইজারের টিকা।
পাশে দাঁড়ানো সংরক্ষিত টিকা রুমে দেখা গেল এক দম্পতিকে, যাদেরকে পাঠিয়েছেন এক চিকিৎসক। তাদের নিবন্ধন-পত্রে আছে অন্য কেন্দ্রের নাম। এসএমএসও পাননি।
এসেছেন আরেক চিকিৎসকের বাসার দারোয়ান ও সাহায্যকারী। কোনো কাগজপত্র বা এসএমসের কোন বালাই নেই। এমনকি টিকা নেয়ার জন্য নিবন্ধনের প্রমাণ চাইলে, কেউ কেউ রাখঢাক ছাড়াই ব্যবহার করছেন নানা জনের নাম।
গত ৬ জুলাইয়ের এই সাতটি ফরমে দেখা যায়, টিকা কেন্দ্র শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট। আর টিকা নেওয়া হয়েছে বিএসএমএমইউতে। এই সাত জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের ছয় জনের পরিবারের কেউ না কেউ চিকিৎসক। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বেঁধে দেওয়া নিয়মে এক কেন্দ্রের কেউ অন্য কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবেন না।
এই মুহূর্তে দেশে ৪৫ লাখের মতো টিকা আছে। এরমধ্যে ফাইজারের টিকা এক লাখ ৬২০ ডোজ। কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরব প্রবাসীদের জন্য ফাইজারের টিকা নেওয়ার নিয়ম করেছে। কুয়েতে প্রবাসী ১৪ হাজার আর সৌদির ৫০ হাজারের মতো। এই হিসাবে দুই ডোজের লাখের উপরের ফাইজার টিকা কেবল রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্যই বরাদ্দের প্রস্তাব ছিলো। সুত্র। একাত্তর টিভি ।

