তুমি কি নীল শাড়ি পরে আছো? মোবাইলে মেসেজটি দেখেই চমকে উঠলো তিতলি। সত্যিই তো সে নীল শাড়ি ই পড়ে আছে। কিন্তু ছেলেটা জানলো কিভাবে! আজকে অবশ্য বিকালেও এই শাড়িটা পরেই বাইরে গিয়েছিলো তিতলি বান্ধবীর বাসায়, তখন হয়তো দেখেছে ছেলেটা। কয়দিন যাবৎ ছেলেটা তাকে অনুসরণ করছে। কলেজের গেটে কিংবা গলির মাথায় চায়ের দোকানে কিংবা বাসার সামনে যেখানে যায় সেখানেই দেখা যায়। এমনকি প্রথম দুই-একদিন তিতলির রিক্সার পেছনে পেছনেও এসেছে। ভয় পেয়েছিলো তিতলি কিন্তু সে ভয় কেটেও গেছে। ছেলেটাকে ভালো করে খেয়াল করে দেখেছে আজে বাজে ছেলেদের মতো লাগেনি তার কাছে। নাম্বার পেলো কোথায়, সেটাও জানা নেই তিতলির। এর আগেও দুইবার মেসেজ দিয়েছে। তিতলি কোন উত্তর দেয়নি। আপত্তিকর কিছু করলে হয়তো বড়ো ভাইকে বলতো। ছেলেটা নামও বলেনি তার। এইসব ভাবতে ভাবতেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলে চিরুনি চালায়।
ড্রেসিং টেবিলটার উপরে রাখা মোবাইলে আবার মেসেজের আওয়াজ পায় তিতলি। তোমার চুল অনেক লম্বা। দারুন মানিয়েছে তোমাকে। মেসেজটি পড়ে সাথে সাথেই জানালা দিয়ে বাইরে তাকায় তিতলি। এইবার নিশ্চিত ছেলেটা তাকে বাইরে থেকে দেখছে। কিন্তু রাত ৮টা বাজে। বাইরের অন্ধকারে কেউ থাকলেও দেখতে পারার কথা না তিতলিকে। তারপরও বারবার উঁকি দিয়ে এদিক সেদিক তাকাচ্ছে তিতলি। সামনের মাঠে অন্ধকার কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। এর মধ্যেই আরেকটা মেসেজের আওয়াজ। জানালার কাছ থেকে সরে এসে মোবাইলটা হাতে নেয় তিতলি। ম্যাডাম, আপনার রুমে ওই জানালাটা ছাড়াও আরেকটা জানালা আছে। ওই জানালাটা তো কোন দোষ করেনি। এইবার তিতলি হেসে ফেললো। লজ্জা পেলো। আসলেই তো আরেকটা জানালা ছিলো রাস্তার ধারে। ওইটার কথা মনে পড়েনি তার।
কি করবে তিতলি! ওই জানালা দিয়ে দেখবে! ছেলেটা নিশ্চয়ই রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। তিতলি যাবেনা। কিন্তু রাস্তা থেকে তো তাকে এইভাবে দেখতে পারার কথা না। নিশ্চিত হতে এগিয়ে যায় জানালার কাছে। নাহ, রাস্তায় আলোতে দেখা যাচ্ছে কেউ নেই। তারপরও কয়েকবার দেখে এদিক ওদিক, ছেলেটাকে দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ মনে হলো সামনের বাসার তিন তলার ছাদে কেউ একজন অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে মোবাইলের হাল্কা আলো জ্বলছে। নিজের মুখের দিকে মোবাইলের টর্চ জ্বালালো সে। আরেহ! সেই ছেলেটাই তো। তার দিকে ফিরে আছে। চট করে জানালা থেকে সরে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিলো তিতলি। সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে সে। ছেলেটা কি চায়? সে কি তিতলিকে ভালোবাসে? আবারো মেসেজ আসার শব্দ। হাতে থাকা মোবাইলটার মেসেজ বক্সে যায়- তুমি না। অবশ্যই তুমি না! তোমাকে পাবার আকাঙ্ক্ষা হয়েছে আমার আমৃত্যু জীবনসঙ্গী। অজানা অনুভূতির মুখোমুখি তিতলি। কেমন লাগছে সে নিজেও বুঝতে পারছেনা। একটা প্রজাপতি উড়ে এলো। তিতলির ডান পাশে দেয়ালে বসে নিশ্চিন্তে। চোখ বন্ধ হয়ে এলো তিতলির। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি তার।

লেখক- ফায়জুল আরেফীন
প্রচ্ছদ এঁকেছেন – সাবিনা চৌধুরী

