টিকার চালান সময়মতো না পেলে নতুন করে ভাবতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পরবর্তী চালান সময়মতো না পাওয়া গেলে টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

সোমবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সম্প্রসারিত ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা কর্মসূচি আমরা এখনও চালিয়ে যাচ্ছি। এই মাসে টিকার যে চালান আসার কথা ছিল সেই টিকা আমরা পাইনি। সেটা যথাযথ পাওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যে সংখ্যায় টিকা পাওয়ার কথা তা যদি আমরা পেয়ে যাই তাহলে আমাদের যে কার্যক্রম চলছে তা ব্যাহত হবে না। আর যদি টিকা না পাই তাহলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে চিন্তা করতে হবে।

সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি সরকার করলেও সম্প্রতি খবর আসে যে দেশের নিজস্ব চাহিদার কথা বিবেচনা করে ভারত টিকা রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে শুরু করে পরবর্তী ছয় মাসে সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ৫০ লাখ করে তিন কোটি টিকা পাওয়ার কথা বাংলাদেশের।

প্রথম চালানে ৫০ লাখ টিকা এলেও দ্বিতীয় চালানে ২০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বাংলাদেশ পেয়েছে। ফলে ঘাটতি থাকছে।

এর বাইরে ভারত সরকার দুই দফায় ৩২ লাখ ডোজ টিকা উপহার দিয়েছে বাংলাদেশকে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছে এক কোটি ২ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড টিকা। আর এ পর্যন্ত ৫২ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

এই ৫২ লাখের সবাই টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে, যা এপ্রিলের শুরুতে দেওয়া শুরু হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোমবার জানান, টিকার জন্য ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে সেখান থেকেও খুব শিগগিরই টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। ওখান থেকেও এখন টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। মে-জুনের আগে কোভেক্সের টিকাও দিতে পারছে না।

জাহিদ মালেক বলেন, সরকার অন্যান্য উৎস থেকেও টিকা সংগ্রহের চেষ্টা করে যাচ্ছে। সেখান থেকে আশ্বাস পেলে সরকার ইতিবাচকভাবে তা গ্রহণ করবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.