শ্যামনাথ লিখতে চায় কিন্তু ………

শ্যামনাথ লিখতে চায় কিন্তু প্রায় প্রতিটি বারেই কোন না কোন ইনসিডেন্টাল ঘটনা শুনে বা    স্বয়ংক্রিয়  নিঃশব্দ মাধ্যমে পড়ে মন খারাপ হয়ে যায়। কি লিখবে জড়, অথর্ব, ব্যাসহীন বিয়োজিত শ্যাম !
প্রতিটি ঘটনাই এখন ঘটছে মে নিয়মের ব্যাত্যয় ঘটিয়েই, প্রতিপার্শে, পারিপার্শ্বিকে, সারা দেশে, সারা মহাদেশে,সারাসৌর বিশ্বে, সারা মহাবিশ্বে! দুপুরের খাবার শেষ করে দ্বিতলে ( ডুপ্লেক্স) এসে। জূকারবার্গের অনবদ্য সার্কাসে হাত দিতেই এক নিউজ পোর্টালের খবর, পৃথিবী নাকি তার নিজ অক্ষে ২৪ ঘণ্টার ০.৫ মিলি সেকেন্ড কম ঘুরছে! এতে বিজ্ঞানী রা মহা দুশ্চিন্তায় এবং এর উত্তরনের চিন্তায় বিভোর! এবার শ্যাম পাগলের লেখার চেষ্টা শেষ।
শ্যামনাথের মনে পরে প্রায় দশক আগে সাধুদেব এসব সঙ্কেত দিয়েছিলেন, এমন মহামারী আসবে পৃথিবীর প্রায় লক্ষ কোটি মানুষের মৃত্যুর পর এর ঔষধ আবিষ্কার হবে, দূর্যোগ হবে মহাদূর্যোগ, ম্যানমেড এ্যন্ড ন্যাচারাল, এতে এই মনোময় মায়াবী গ্রহের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ হাপিস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা!!
শ্যামনাথের সাধুদেব দেখেই বলতেন এবং মহাশূন্য থেকে এখনও অবিরত বলে চলেছেন, অথচ শ্যাম পাগলা কিছুই শোনে না দেখতেও পায় না, একেবারে কালা বোবা অন্ধ।
নীচতলা হতে দুপুরের খাবার খেতে ডাকেন স্ত্রী শ্যামার বড়দিদি আর জামাই বাবু।
আহা, শ্যাম পাগলের কত্ত সুখ দোতলায় থাকে, নিজের তো প্রায় কিছুই নেই! শ্যামনাথের স্ত্রীর বড়জামাই বাবুর একমাত্র ছেলে বিদেশে পড়ালেখা করে ওখানেই। মনে পড়ে, প্রায় দুই দশক আগে ধানমন্ডির আট নম্বর লেকপাড়ের স্যান্ড ডিউন এর ডুপ্লেক্স এ উঠেই জামাইবাবুকে বলে বসে,” দাদা এতো দেখছি দুইতলা বাড়ী, আমার জন্ম দুইতলায় , আমি ঢাকা এলে এখানেই থাকবো, শ্যামপাগলের আবার নৃতাত্ত্বিক চাহিদা প্রবল!” বড় জামাইবাবু বলেন, হরতাল, আপনি এসে এখানেই থাকবেন। তারপর হতে,বাঁকা যতবার বাঁকা এসেছে দাপ্তরিক কাজে একা, অসুস্থতায় বা স্বপরিবারে নব্বুই+ সময় এই দুতলাতেই থেকেছে স্বখাদ্য।
পাগলের আবার কপাল ভালো,প্রায় সকলেই, ভাইবোন, আত্ত্বীয় স্বজন। পাগলের যে আসলে কোন চাহিদাই কম।
বসর দুই+ আগে দাপ্তরিক কাজে শ্যামনাথ ইউরোপে গিয়েছিল, ইটালিয়ান দের চাপ দিয়ে শ্যামনাথ তার ক্ষন অগ্রজ পঁয়ত্রিশ বছর জার্মানিতে থাকা সত্যনাথের ফ্রাঙ্কফুর্টে গিয়েছিল তার দিনের জন্য, দুই পুত্র আর বৌদি মধুবালার সেকি স্বপ্রাণ,আপ্যায়ন, আতিথেয়তা আর ভ্রমর! একদিন শপিং এ দাদা বৌদি সহ এক বাঙালি ভদ্রলোক স্বস্ত্রীক ক্ষন আলাপ, দাদা বৌদির বেশ ঘনিষ্ঠ। পরে , প্রায় দুই বছর পরে নির্বাক মাধ্যমে বন্ধুত্ব, বেশ মননসিদ্ধ, সঙস্কৃতিমনা এবং শুদ্ধস্বর. কম এর প্রতিষ্ঠাতা ও  প্রধান   সম্পাদক। আজই হঠাৎ করে বলে বসেন,” আপনি লেখা দেন শুদ্ধস্বর এ”।
নীচতলা থেকে জামাইবাবু আর দিদি থাকছেন খাবার জন্য।
সালাদ হিসেবে মুলা আছে, জামাইবাবু বলেন, এই মুলা দশটাকা কেজি। শ্যামনাথ বলে ন্যুনতম ত্রিশ টাকা কেজি দাম হওয়া উচিত ছিল মুলার, আর হয়েই বা লাভ কি চাষী বা গ্রোয়ার্সের, সেতো পাবে শূণ্যের কিছু বেশি। শ্যামনাথ বলে দাদা দেখেন এই যে দশ টাকার মুলা, আমার চাষী ভাই পেয়েছেন হয়তো দেড় কি দুই টাকা! কোন হিসাব নেই উৎপাদন আর মূল্য নিয়ন্ত্রণের! সারা দেশ কে যারা খাওয়াচ্ছেন তারাই প্রায় অর্ধভূক্ত থাকেন নিয়ত আর শ্রমের ন্যায্য মজুরি কোন দিনই পেলোনা!!
আর লিখতে ইচ্ছে করছে না শ্যামনাথের, লাথি মারতে ইচ্ছে করে, আগুন জ্বালিয়ে দিতে ইচ্ছে করে, সব জ্বালিয়ে দিতে ইচ্ছে করে!
লেখক, মাহবুবুল হক গামা,    কর্মক্ষম অবসরপ্রাপ্ত জ্বালানি কর্মী   ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.