পরিযায়ী শ্রমিক-সহ ভিন্ রাজ্যে আটকে পড়া অন্যান্যদের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে রেল। কিন্তু যাত্রীদের সেই ট্রেনে চাপতে হবে গাঁটের কড়ি গুনেই। রেলমন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশ ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল আগেই। এই আবহে এ বার পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি । শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে কংগ্রেস টাকা দেবে বলে ঘোষণা করেছেন সনিয়া। পাশাপাশি বিশেষ ট্রেনের যাত্রীদের থেকে ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকেও বিঁধেছেন তিনি। তাঁর মতে, ‘‘শ্রমিকরাই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।’’ তাঁদের ‘দেশের আর্থিক বৃদ্ধির দূত’ বলেও ব্যাখ্যা করেছেন সোনিয়া ।
সোমবার এক বিবৃতিতে তীব্র শ্লেষে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন সোনিয়া, তিনি বলেছেন, “বিদেশের মাটিতে আটকে পড়া ভারতীয়দের বিনা পয়সায় বিমানে চড়িয়ে দেশে আনার ক্ষেত্রে সরকার তার দায়িত্ববোধ খুঁজে পায়। গুজরাতে একটি প্রকাশ্য কর্মসূচিতে পরিবহণ ও খাবারের জন্য ১০০ কোটি টাকা খরচ করতে পারে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর করোনা ফান্ডে ১৫১ কোটি টাকা দেওয়ার মতো উদারতা দেখাতে পারে রেলমন্ত্রক।’’ অথচ এমন চরম দুর্দশার সময়ে দেশের চালিকাশক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওই শ্রমিকদের কেন ট্রেন ভাড়া দিতে হবে? সেই প্রশ্ন তুলেছেন সোনিয়া ।
সোনিয়ার অভিযোগ, লকডাউনের জন্য চার ঘণ্টার নোটিস পর্যন্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের দেওয়া হয়নি। তার জেরেই এমন একটা ভয়াবহ অবস্থার সাক্ষী হতে হচ্ছে গোটা দেশকে, যা স্বাধীনতার পর প্রথম বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, টাকা, খাবার, ওষুধ বা যানবাহন ছাড়াই বহু পরিযায়ী শ্রমিক শত শত কিলোমিটার হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন। বাড়ি ও প্রিয় জনের কাছে পৌঁছনই তাঁদের এক মাত্র উদ্দেশ্য ছিল। সোনিয়া আরও অভিযোগ করেছেন, আজও দেশের বহু অংশে এখনও পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর মতে, ওই সব শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে চান। কিন্তু তাঁদের কাছে অর্থ নেই। সনিয়া মনে করছেন, এমন সঙ্কটের মুহূর্তে ওই সব শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে কেন্দ্রীয় সরকার ও রেলমন্ত্রকের ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিরক্তিকর। তিনি অভিযোগ করেছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্য করা নিয়ে কংগ্রেস বার বার দাবি তুললেও তা এড়িয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ও রেল মন্ত্রণালয় ।সুত্র,আনন্দবাজার পত্রিকা ।
শুদ্ধস্বর/আইপি

