ড.নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া’র কবিতা “অশ্রু দিয়ে কাব্য লিখে”

অশ্রু দিয়ে কাব্য লিখে
– ড. নেয়ামত  উল্যা  ভূঁইয়া
জলের ভারি আকাল এখন চরাচরে
স্থলের স্থুল কারবারিরা
জলের ঘরে বসত করে ।
জলের  পায়ে শক্ত  শিকল
জলের গোলায় রাহুর আগল
সোনার হরিণ কাতরা খানিক
জীবনদায়ী পানীয় জল।
জলাধারের গলায় বালির ফাঁস পড়েছে
চর জেগেছে
খালে বিলে বাস্তু-বসত বেসাত রাহুর
বিনা মেঘে বাজ পড়েছে।
শেওলা বনে মুখ লুকিয়ে প্রাণ শুকিয়ে
ছলাৎ ছলাৎ জলের কণা
কাতর চোখে দেখছে কেবল
সাপ-শ্বাপদের  নগ্ন থাবা
বিষের ফণা।
সরোবরের কাজলা চোখে
মহাজনের মরিচ বাটা
নদীর ভরা যৌবনে আজ
মারী-মড়ার অকাল ভাটা।
ওদিকটাতে জলের  টেপের নিজের বুকে
জ্বলছে চিতা;
গলির মোড়ের
টিপ-কলেরও
 জলের
ধারার
টিপটিপ
টিপ
ঠুনকো-
ফোঁটা
উবে
হাওয়া;
হায়
রে
|
জলের  কলের  হয়তো ভীষণ রাগ হয়েছে
অভিমানের  মরচে  জমে  সাত  জনমের
জং  ধরেছে।
খরার  তোড়ে  খাবি  খেয়ে মনে মনে  খুব ক্ষেপেছে;
নয়তো ঘাড়ে ভূত  চেপেছে।
শক্ত  হাতে  জলের  কলের  হাতল ধরে
হেস্কা  চাপে  যতোই চাপি,
পাতাল যেন  শুকনো চাতাল
পণ্ড  পেশির  ধাপাধাপি ।
জল ঢালে না এক-আধ ফোঁটা
মাথার  উপর  কাঠফাটা রোদ ঘর্ম ঝরা
সব পথিকের কণ্ঠে বিষম চৈতী খরা
জলকে এসে প্রাণ  সখিদের
জলকেলির মজার খেলা –
এ তল্লাটে  নেই  এ বেলা।
অথৈ  জলের  ঢেউয়ের  দোলা
কেবল  তোমার  দু’চোখ  ভরে,
নোনা  জলের  ঝর্ণাধারা
গড়িয়ে চলে দেশান্তরে।
বিরামবিহীন  ঝরো ঝরো ঝরে  ঝরে
শোক  বা  সুখে  নিরন্তরে—
তোমার  চোখের  অতল থেকে ভাসায় ভূতল জনান্তিকে,
নীল গ্রহটার সব সাগরে অশ্রু দিয়ে কাব্য লিখে ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.