এখনই মিতব্যয়ী হোন

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোন বাঁধাধরা নিয়মে চলে না করোনাভাইরাস। বরং নতুন অদৃশ্য এই শত্রু বেশ রহস্যময়। তার চালচলনে ধাঁধা গোলকধাঁধা অনেক বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংযোগে বা কাছাকাছি এলে করোনাভাইরাস অন্যের দেহে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। কোভিড–১৯ কীভাবে সংক্রমিত হয়, সেই বিষয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা অন্যান্য শ্বাসনালি সংক্রমণের ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ার মতো এই ভাইরাস হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান সময়ে প্রত্যেকটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্পণ্য না করে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার করাই ‘মিতব্যয়ীতা’। “মিতব্যয়ীতা” যা ধনী-গরিব সব শ্রেনীর মানুষের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোভিড–১৯ চলাকালিন সময়ে নিত্য দিনের খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করুন। বিলাসিতা, অপচয়, লোক দেখানো, সোস্যাল মিডিয়ায় চেকিং এর সময় এখন না….. অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি উৎপাদনব্যবস্থা, সেবাখাত, পর্যটন শিল্প সহ প্রধান প্রধান সেক্টর গুলো মূলত বন্ধ নভেল করোনা ভাইরাসের কভিড-১৯ রোগের কারণে। আমাদের প্রত্যেক দিনের খাবার থেকে শুরু করে সকল ভোগ্যপন্যের ব্যবহারে মিতব্যয়ী হোন। প্রতিনিয়ত উৎপাদন ও আমদানি থেকেই ভোক্তার চেহিদাটা পূরণ হয়। এই বৈশ্বিক দূর্যোগে পৃথিবীর সব দেশেই উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে কম বেশি। এখন আমদানি ও রপ্তানি বন্ধ। এসব কারণে অবশ্যই বিশ্বমন্দা শুরু হবে। মনে রাখবেন আমাদের দেশে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য মজুদ থাকে। আমার অনেক টাকা আছে আমি ইচ্ছামত মন যা চায় খরচ করবো এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসুন। কোন ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন না হলে টাকা খেয়ে তো বাঁচতে পারবেন না! সবাই বাসায় বসে আছি বলে পোলাও গোস্ত খেয়ে পেট ভরে বিলাসিতা করবেন না। সামনে যে দিন আসছে আলু বাজারে পাবেন কিনা গ্যারান্টি নেই! সো কিপ্টা হোন। সচেতন হোন খরচের ব্যাপারে, কিছু সঞ্চয় রাখুন, সামনের অনাগত দিনে বেঁচে থাকলে হয়ত বৃহৎ সংকট মোকাবিলা করতে হতে পারে। এখন থেকে ৩/৪ টা আইটেমের বেশি রান্না করা বন্ধ করে দিন। তা না হলে এমন দিন আসবে যখন আমাদের পকেটে পয়সা নিয়ে ঘুরব কিন্তু কেনার জন্য বাজারে পন্য থাকবে না। সেজন্য যেসব পন্য আমদানি করতে হয় সেগুলো কম খান। যেসব পন্য আমাদের দেশে উৎপাদন হচ্ছে কিন্তু ক্রেতার অভাবে বিক্রি হচ্ছে না সেগুলো বেশি করে খান, যেমন- টমেটো, বিভিন্ন রকম দেশি সবজি ও ফল, ডিম, মুরগী ইত্যাদি। প্রোটিন আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই খাবারের মেন্যুতে প্রোটিন ও সবজি বেশি রাখুন। যাদের বাড়িতে গাছপালা লাগানোর সুযোগ আছে তারা নিজেদের সবজি কিছু হলেও নিজেরা উৎপাদন করার সুযোগ পাচ্ছেন, কাজে লাগান। আমরা সবাই যেন টিকে থাকতে পারেন, যেন কারোর কাছে হাত পাততে না হয় তাই খরচ কমান। এই সময়ে সবারই আর্থিক সংকট তাই ইচ্ছে থাকলেও কেউ হয়তো আপনাকে ধার দিতে পারবে না। রাজকীয় খাবার নয় যতটুকু প্রয়োজন ততটুক রান্না করুন। অনেক মানুষের কাছেই এখন ডাল সেদ্ধ আলু সেদ্ধ ভাত পাওয়া টাও কিন্ত রাজকীয় খাবার। সবশেষে যা না বললেই নয়, তাহলো পরিস্কার–পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। আর একেবারেই জরুরি দরকার ছাড়া বাইরে যাবেন না। বিপদে একে অন্যর পাশে দূর থেকে হলেও দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন। পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের যত্ন করুন। সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন,ঘরে থাকুন,নিরাপদে থাকুন

20181210_131841

লেখক: আবু জাফর শিহাব(এল এল বি)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.