করোনার ভয়াবহতার সময়ে লকডাউন উপেক্ষা করে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই লাখো মানুষ আল্লামা মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় অংশ নিয়েছে। তাকিয়ে দেখা ছাড়া প্রশাসন পুলিশের কিছুই করার ছিল না। কারণ তাদের পরিকল্পনা এবং পূর্বপ্রস্তুতি কোনটাই ছিল না। তারা হয়তো ভাবতেই পারেন নাই এমন কিছু হবে। কিংবা ভেবেই নিয়েছিলেন সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ ( ২০১৮ সনের ৬১ নং আইন ) এর ১১(১) ধারার ক্ষমতাবলে মহাপরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করার পর মানুষ স্বেচ্ছায় সেটি মেনে চলবে। কিংবা তাদেরকে জানিয়েই এই আয়োজন হয়েছে!
জানাযার নামাজ ‘ফরজে কেফায়া’। একজন কেউ আদায় করলেই সকলের আদায় হয়ে যাবে। সেই জানাযার নামাজ পড়তে লক্ষ লোকের জমায়েত! অথচ এই দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে জানাজা পড়ানোর জন্য হুজুরদের পাওয়া যায় না। ইউএনও, ওসি জানাজা পড়ান। পুলিশ আনসার প্রশাসনের কর্মীরা দাফন করেন! সাবাস বাংলাদেশ!
দিল্লিতে তাবলীগ জামাতের সদর দফতরে একটি সমাবেশে যোগ দিয়ে ঘরে ফেরা অন্তত সাতজন, কারও কারও মতে দশজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর ওই মসজিদটিকে ভারতে মহামারি ছড়ানোর অন্যতম ‘হটস্পট’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই সমাবেশে যোগ দিয়ে নিজেদের রাজ্যে ফিরে যাওয়ার পর তেলেঙ্গানাতে ছ’জন ব্যক্তি করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন। নিজামুদ্দিন থেকে ফিরে গিয়ে কাশ্মীরের এক ধর্মীয় নেতাও শ্রীনগরে মারা যান।
ভার্জিনিয়ার বিশপ জেরাল্ড গ্রেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি বলতেন- করোনার চেয়ে নিশ্চয় ঈশ্বর শক্তিশালী। আমি করোনার ভয়ে চার্চ ছেড়ে কেন পালাব ? ১১ এপ্রিল বিশপ সাহেব করোনা সংক্রমণ নিয়ে মারা যান দুঃসহ শ্বাসকষ্টে ভুগে। সেই বেদনার্ত মৃত্যুর পর বিশপের মেয়ে বলেছেন, বাবা ঈশ্বরের উপর আস্থা রেখে করোনাকে অবজ্ঞা করে জীবন দেওয়ার মতো মহা ভুল করলেন। অন্যরা যেন এ ভুল না করেন।
আমেরিকা, ইরান, বাংলাদেশ, ভারত সহ অনেক দেশেই করোনার ক্ষমতার চেয়ে আল্লাহ-ঈশ্বরের ক্ষমতাকে বড় করে তুলে ধরার কাজটি করেছেন ধর্মান্ধ আলেম, পাদ্রি-পুরোহিত-হুজুর শ্রেণী। কেউ বলেছেন- অজু করে পাঁচ বার নামাজ আদায় করলে করোনা হবে না। কেউ বলেছেন- তিন শ টাকার মাস্ক না কিনে ত্রিশ টাকার টুপি কিনে মসজিদে গেলে করোনা ভয়ে পালিয়ে যাবে। কেউ বলেছেন করোনা বাংলাদেশে আসবেই না কারণ এখানে সারা বছর ওয়াজ মাহফিল হয়। ম্যাসেঞ্জারে এক মুমিন দিয়েছেন, কুলহু আল্লা সুরার ফজিলত। রোগবালাই দূর হবে। এমনকি এই সুরা (সুরা ইখলাস) সেইভাবে আমল করলে নাকি আমলকারীর জানাজায় এক লক্ষ দশ হাজার ফেরেশতা অংশ নিবে। আল্লামা মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় এক লক্ষ দশ হাজার ফেরেশতা অংশ নিয়ে থাকলে খুব ভাল! সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁকি নেই। কিন্তু তা যদি না হয় তাহলে কি হবে আমরা কি ভাবতে পারছি!
কোরানে বাইবেল সহ সব ধর্মগ্রন্থেই সৃষ্টিকর্তার আসীম ক্ষমতার বিশদ বিররণ আছে। মহামারীর সময়ে কি কি করণীয় সে সম্পর্কে বিশদ নির্দেশনা আছে। কিন্তু কে শুনে কার কথা।
কি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য!
আবু আলম মোঃ শহীদ খান
সাবেক সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় ।

