রাজ্যে আসা ইস্তক বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তাঁর। কখনও রাজ্যের সঙ্গে সংঘাত, কখনও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথা পড়ুয়াদের সঙ্গে বিবাদ। আবার কখনও বঙ্গভঙ্গের স্মৃতি উসকে দিয়ে কটাক্ষের স্বীকার হয়েছেন। বারবার ব্যথিত হওয়ার প্রবণতাও সংবাদের শিরোনামে রেখেছে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে । বিতর্ককে সঙ্গী করে চলা ধনকড়, এবার কল্পবিজ্ঞানের নতুন গল্প ফাঁদলেন। মহাভারতের যুগে পরমাণু শক্তির সন্ধান পেলেন তিনি। ধনকড়ের দাবি, মহাভারতে অর্জুনের তিরে পরমাণু শক্তি ছিল।
মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বলেন, “বিংশ শতাব্দীর অনেক আগেও রামায়ণে উড়ন্তযানের ব্যবহার ছিল। অর্জুনের তিরে ছিল পরমাণু অস্ত্র। মহাভারতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের বর্ণনা করেছিলেন সঞ্জয়। তাও আবার ঘটনাস্থল থেকে নয়।” ধনকড়ের এই মন্তব্যের সঙ্গে এই মহাকাব্যগুলির কোনও মিল অবশ্য খুঁজে পাচ্ছেন না নেটিজেনরা। রামায়ণে পক্ষীরাজ ঘোড়া এবং পুষ্পক রথের মতো উড়ন্তযানের উল্লেখ থাকলেও, মহাভারতে পরমাণু অস্ত্রের কোনও উল্লেখ নেই। অর্জুন মহাশক্তশালী হলেও তিনিও পরমাণু শক্তির মালিক ছিলেন কিনা, তার কোনও উল্লেখ নেই। রাজ্যপালের এই মন্তব্যে বেজায় চটেছে বিজ্ঞানমহল। বিজ্ঞানী বিকাশ সিংহ বলছেন, “রাজ্যপালের মস্তিষ্ক বিকৃতি হয়েছে। চিন্তাধারার মধ্য এই ধরনের কল্পনা ঢুকিয়ে দেওয়া বেশ বিপজ্জনক। এর অর্থ হল আমরা আগে থেকেই সব জানতাম। নতুন কিছু করছি না। ওঁর এখন এসব না করে অন্য কাজ করা উচিত।”
রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় একসময় বিজেপিরই নেতা ছিলেন। আর বিজেপি নেতাদের মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে বিতর্কিত ও হাস্যকর মন্তব্য করা নতুন কিছু নয়। এর আগে বিপ্লব দেব থেকে শুরু করে পীযূষ গোয়েল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এ নিয়ে হাসির খোরাক হয়েছেন। যাঁর সাম্প্রতিকতম উদাহরণ দিলীপ ঘোষ। কদিন আগেই তিনি গরুর দুধে সোনার সন্ধান পেয়েছিলেন। তা নিয়ে হাসাহাসি কম হয়নি। এবার দিলীপদের তালিকায় নাম লেখালেন ধনকড়ও।
শুদ্ধস্বর/আইপি

