ঢাকা সিটি নির্বাচন: যারা পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন

ঢাকার দুই সিটিতে বর্তমান মেয়রের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আরো কিছু বড় নেতা আলোচনায় রয়েছে। তারা মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) থেকে শুরু করে তিন দিন মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে। শুক্রবার পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলবে। শনিবার গণভবনে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা থেকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। দুই সিটির বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন ও আতিকুল ইসলাম মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও অন্যরাও মাঠে রয়েছেন মনোনয়নের প্রত্যাশায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দক্ষিণে রয়েছে- আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন। অন্যদিকে উত্তরে সাবেক মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক আলোচনায় রয়েছেন।

জানা যায়, ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ মনোনয়ন ফরম বিতরণ বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে। শুক্রবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়া হবে। শনিবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ। গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তরে আতিকুল ইসলাম আতিক অল্প সময় পাওয়ার কারণে তাকে আরেকবার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড। কারণ নিজেকে প্রমাণ করার জন্য এক বছর খুব বেশি সময় নয়, তাছাড়া গেল এক বছরে তেমন কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার খবরও সামনে আসেনি। সব মিলিয়ে উত্তরে বিকল্প প্রার্থী নিয়ে তেমন কোনো চিন্তা হচ্ছে না। যদিও দলের একটি অংশ তার স্থলে নানক বা মায়াকে প্রার্থী করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে দক্ষিণে প্রার্থী পরিবর্তনের একটা গুঞ্জন রয়েছে। এ বছর রাজধানীতে ডেঙ্গুর বিস্তারকে কেন্দ্র করে মেয়র সাঈদ খোকনের ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। এজন্য অনেকেই মনে করছে দক্ষিণে পরিবর্তন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নজিবুল্লাহ হিরুকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় আওয়ামী লীগের একটি অংশ। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যম ও তরুণ নেতারা প্রার্থী পরিবর্তন করে হিরুকে প্রার্থী করার পক্ষে রয়েছে বলে দলটির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তবে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটিতে আইন সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার পর তাকে আবার মেয়র পদ নাও দেওয়া হতে পারে এমনটা মনে করা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীনও এ পদে আসতে আগ্রহী। যদিও আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে তাদের কাউকে কোনো ধরনের গ্রিন সিগনাল দেওয়া হয়নি। তাই শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা জানার জন্য। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অনেকেই প্রার্থী পরিবর্তন চাচ্ছে। কিন্তু প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বর্তমান দুই মেয়রই আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী কারা হচ্ছেন জানতে চাইলে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, যারা মানুষের ভালোবাসা অর্জনে সক্ষম হবেন তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এখন যারা মেয়র আছেন তারা কেমন কাজ করেছেন তা মূল্যায়ন করব। শনিবার স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.