যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসাধীন ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলেও দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করবেন না। খোকা দেশে ফেরার জন্য ‘ব্যাকুল’ হয়ে পড়েছেন, গণমাধ্যমের এমন খবর ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে ইশরাক হোসেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খোকা তার পরিবারের সদস্যদের একথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন তার পুত্র ইশরাক হোসেন।
ইশরাক বলেন আমার বাবা দেশে ফেরার জন্য ‘ব্যাকুল’ হয়ে পড়েছেন, এসব ভুয়া খবর। আমার বাবা আমাদের বলেছেন তোমরা তোমার বাবাকে নিয়ে গর্ব করতে পারবে। সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে অথবা ম্যাডামের নির্দেশ ছাড়া দেশে ফেরার কোনো পদক্ষেপ নেবেন না।
জীবন-যুদ্ধের সঙ্গে লড়াই করা খোকা হাসপাতালের বেডে শুয়ে অক্সিজেনের মাধ্যমে শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা হয়েছে বলে জানান ইশরাক। সেখানে ইশরাক ছাড়াও তার মা, এক ভাই ও বোন আছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাদেক হোসেন খোকার পরিবার তার আশু রোগমুক্তি কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। আজ শুক্রবার সাদেক হোসেন খোকার জন্য মিলাদ মাহফিল কর্মসূচি করবে আয়োজন করেছে বিএনপি।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগতে থাকা বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার গত সোমবার হঠাৎ অসুস্থতা বেড়ে যায়। এর পর দ্রুত তাকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্লোশেন ক্যাটারিং ক্যানসার ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে অক্সিজেনের মাধ্যমে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৪ মে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র গমন করেন। সেখানে তার কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। এরপর সেখানে থেকেই তিনি চিকিৎসা নেওয়া শুরু করেন। তবে বিদেশে থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকটি দুর্নীতি মামলায় সাজা হয় সাদেক হোসেন খোকার।
২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন খোকা। ২৯ নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঢাকা মহানগরের মেয়র ছিলেন তিনি। বিএনপিতে বর্তমান কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান তিনি। ঢাকার মেয়র হয়ে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করেন।বিএনপির ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি একাধিকবার মন্ত্রিসভার সদস্যও হন।
রাজধানীর বনানী সুপার মার্কেটের কার পার্কিংয়ের ইজারা দুর্নীতির মামলায় সাদেক হোসেন খোকাসহ ৪ জনের ১০ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড হয়। গত বছরের ২৮ নভেম্বর ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।রায় ঘোষণার সময় খোকাসহ আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।রায় ঘোষণার পর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
শুদ্ধস্বর/আইকে

