অ্যাডভোকেট আনসার খান :গণমাধ্যম হলো জনগণের কণ্ঠস্বর। তাই জনগণের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ না করে জনগণের কল্যাণের বিষয় বিবেচনায়-শাসকদের গণবিরোধী কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভবের সাথে সাথে মুক্ত, স্বাধীন ও স্বচ্ছ-দল নিরপেক্ষ গণমাধ্যম ব্যবস্থার অপরিহার্যতার বিষয়টা আলোচনায় এসেছিলো এবং এক সময় মুক্ত-সরকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন গণমাধ্যমের দাবি ওঠতে থাকে দেশে দেশে। স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যমের দাবি এখন প্রতিটা মানুষের প্রাণের দাবি। এ দাবি পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষের দাবি।
মানুষ স্বাধীনভাবে মুক্ত মতামত প্রকাশ করতে চায়, কথা বলতে চায় স্বীয় দেশের শাসকের কার্যক্রম নিয়ে, নিয়ন্ত্রণ করতে চায় শাসক ও শাসক নির্বিশেষে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে এবং এজন্য দরকার হলো মুক্ত ও স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের জন্য স্বাধীন গণমাধ্যম-যেখানে শাসকের থাকবে না নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ।
শাসক কর্র্তৃক গণমাধ্যমের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ বা গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার অর্থ দাঁড়ায়-জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করা, জনগণের মুক্ত ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়া, শাসনে শাসকগোষ্ঠীকে অবাধ সুবিধা দেওয়া-যার অর্থ হলো শাসক ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিহীন অবস্থায় কর্তৃত্বপরায়ণ রাষ্ট্র ও সমাজ কায়েম করা। আর কর্তৃত্ববাদী শাসন জনকল্যাণধর্মী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতে পারে না। একটা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভই হলো স্বাধীন-মুক্ত গণমাধ্যম।
মুক্ত-স্বাধীন গণমাধ্যম কী করতে পারে-প্রশ্ন এসেই যায়। গণমাধ্যম জনস্বার্থের একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজের বিকাশ সাধনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার ও শাসন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দুর্নীতি এবং অপশাসন নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারি কর্তৃপক্ষের অগণতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী নীতির যে কোনো উদ্যোগকে প্রতিহত করতে জনগণকে সচেতন করে তোলে বলে গণতন্ত্র সচল ও সজিব থাকে। সরকারী নীতি-নির্ধারনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে জনকল্যাণধর্মী নীতি নির্ধারণে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করতে পারে এবং এভাবে জনস্বার্থ-সুরক্ষা, গণতন্ত্রের সুরক্ষা, সরকারের আগ্রাসী কর্তৃত্ববাদী আচরণ থেকে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমগুলোকে বলা হয়ে থাকে-‘গণতন্ত্রের সেইফগার্ড এবং জনস্বার্থ ও জবাবদিহিমূলক শাসনের সুরক্ষায় এক অতন্ত্র প্রহরী।’
সরকার কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহ বা অন্য যেকোনো পক্ষের নিকট হতে ভয়ভীতি মুক্ত অবস্থায় স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার একটা মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে গ্রহণীয় অতি প্রাচীনকাল থেকেই। নানা দেশে এবং এমনকি আন্তর্জাতিক নানা সনদেও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৬৮৯ সালে ইংল্যান্ডের ‘বিল অব রাইটস’-সনদে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিলো।
১৭৮৯ সালের ফরাসী বিপ্লব স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতার অধিকার দিয়ে ঐতিহাসিক-‘দ্য ডিকলারেশন অব দ্য রাইটস অব ম্যান এন্ড দ্য সিটিজেন চার্টার’ শিরোনামে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছিলো এবং এ চার্টারের ১১নং অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিলো, ‘স্বাধীনভাবে নিজস্ব ধারণা ও ভাব প্রকাশ করার এবং নিজস্ব মতামত মুক্তভাবে প্রকাশ করার স্বাধীনতার অধিকার মানুষের একটা মূল্যবান ব্যক্তিগত অধিকার। প্রতিটা নাগরিক কথা বলায়, লেখায় এবং প্রিন্ট আকারে তার মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার অধিকার সংরক্ষণ করে।’
মধ্যযুগের প্রখ্যাত রাষ্ট্র দার্শনিক জন মিল্টন স্বাধীন মত প্রকাশের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে যুক্তি দেখান যে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টা বহুমুখি একটা অধিকার-যা তিনটা ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। যেমন : (ক) তথ্য জানার অধিকার, (খ) তথ্য ও ধারণাসমূহ পাওয়ার অধিকার এবং (গ) তথ্য ও ধারণাসমূহ প্রদান বা জ্ঞাপন করার অধিকার।
অন্যদিকে, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারকে জাতিসংঘ ঘোষিত ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার সনদে একটা মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ল’ ইন দ্য ইন্টারন্যাশনাল কভন্যান্ট অন সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইটস (আইসিসিপিআর) সনদে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকারের বিষয়টার স্বীকৃতি দিয়ে ১৯নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘প্রতিটা মানুষ হস্তক্ষেপ মুক্তভাবে মতামত প্রকাশের অধিকারী। প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের অধিকার সংরক্ষণ করে।’
মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টা অনেক ব্যাপক ও প্রাচীন। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অধিকারের স্বীকৃতি দিলেও যুগে যুগে, দেশে দেশে শাসকগোষ্ঠী তার নিজস্ব স্বার্থে ও প্রয়োজনে নানা আইনের বেড়াজালে ফেলে মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করেছে, খর্ব করেছে এ অধিকারের অবাধ ক্ষমতা। তবে মানুষ বসে থাকেনি কোনো যুগেই, সে তার অধিকারের জন্য উচ্চ কণ্ঠ থেকেছে এবং এখনো দেশে দেশে মানুষ তার স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারের সুরক্ষার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে চলেছে শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে।
রাষ্ট্রচিন্তকদের মতে, স্বাধীন ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলার ও মতামত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষার সাথে মানুষের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সকল মৌলিক অধিকারের যোগসূত্র রয়েছে। অর্থাৎ সকল অধিকারের কেন্দ্রীয় বা মূল অধিকারই হলো-স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার। মূলতঃ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে অন্যান্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা থাকে বলেই স্বাধীন মতামত প্রকাশের অধিকারকে সকল মৌলিক অধিকারের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে।
মতামত প্রকাশের স্বাধীন অধিকার একটা উদারনৈতিক, প্রগতিশীল উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য, যেখানে মানুষ মুক্ত পরিসরে জীবন ধারণের সুযোগ পেয়ে থাকে। তাই অবাধ ও মুক্ত তথ্য প্রবাহ গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোর অন্যতম একটা উপাদান। স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারের নিশ্চয়তা ব্যতীত গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না; গণতন্ত্র কাজ করতে পারে না।
গণতান্ত্রিক শাসনে ও সমাজে অবাধ তথ্য প্রবাহ ও মুক্ত কণ্ঠে কথা বলার ও মতামত প্রকাশের অধিকার থাকে বলে জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে তথা সরকারি নীতি নির্ধারণে অংশ গ্রহণের সুযোগ পেয়ে থাকে। পক্ষান্তরে শাসনে ও সরকারী নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশ গ্রহণের নিশ্চয়তা থাকে বলে শাসক কর্তৃপক্ষের দ্বারা গণবিরোধী কার্যকলাপ সম্পাদন করা সম্ভব হয় না বা জনমত উপেক্ষা করে কোনো ধরনের নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে রাষ্ট্রে ও সমাজে সুশাসন নিশ্চিত করা যায়। স্বাধীন মতামত প্রকাশের অধিকার থাকে বলেই সরকারের পক্ষে স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী শাসক হয়ে ওঠা সম্ভব হয় না।
মতামত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতার কারণে সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো মর্যাদা জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য হয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতার কারণেই শাসিত জনগণ শাসকের নিকট থেকে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিতা আদায়ে সমর্থ হয়। জনগণের ভয়ে শাসক জনমতের পরিপন্থী কোনো কর্মকান্ড করা থেকে বিরত থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার ফলে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা সমুন্নত থাকে এবং ব্যক্তি তার ক্ষমতার পরিধি উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় বিধায় শাসক গোষ্ঠী ও ব্যক্তিকে সেভাবে মূল্যায়ন করে থাকে। আর ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং সেভাবেই নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সক্রিয় ও সচেতন থাকে। অর্থাৎ সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করলে এটা বলতেই হয় যে, স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা গণমানুষকে ক্ষমতায়িত করে।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এ অভিমত পোষণ করেন যে, ‘স্বাধীন গণমাধ্যম হচ্ছে দরিদ্র মানুষের কণ্ঠস্বর।’ জনগণের আশা-আকাঙ্খার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে স্বাধীন গণমাধ্যম ও জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারের স্বীকৃতির কারণে।
মুক্ত, স্বাধীন বহুমুখি গণমাধ্যম, জনগণের মুক্ত অবস্থায় মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, সুশাসন, গণমানুষের ক্ষমতায়ন এবং গণতন্ত্রের শাসন ও জাতীয় উন্নয়নের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তাই কোনো অজুহাতেই যাতে গণমাধ্যমও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হতে পারে তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে আরো কীভাবে প্রসারিত করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করে চলেছে নানা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।
স্বাধীন গণমাধ্যম ও গণমানুষের মুক্ত মত প্রকাশের বিষয়টা পরস্পর-পরস্পরের পরিপূরক বলে মনে করা হয়ে থাকে। কেননা, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে সমর্থ না হলে গণমানুষের মুক্ত মতামত প্রকাশ বা প্রচার করতে পারবে না। আবার জনগণের মতামতের ওপর যদি নানা ধরনের বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে গণমাধ্যম ইচ্ছা করলেও জনগণের প্রকৃত স্বাধীন মত প্রকাশ বা প্রচার করতে পারবে না। এ কারণে দু’টারই; অর্থাৎ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণমানুষের মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা থাকতে হবে। তাই একটা মুক্ত রাষ্ট্র ও সমাজের স্বার্থে এ দু’টোর পরিচার্যা দরকার। মানুষের মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য বাধাহীনভাবে মানুষের প্রকৃত মতামত প্রকাশ, প্রচার ও তুলে ধরার জন্য স্বাধীন মিডিয়ার কোনো বিকল্প নেই। কাজেই কোনো অজুহাতেই মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বারিত করা যায় না ততক্ষণ পর্যন্ত-যতক্ষণ না তা রাষ্ট্রের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আঘাত করে।
রাষ্ট্র ও সরকার সমার্থক কোনো বিষয় না। সরকারের যে কোনো জনস্বার্থ বিরোধী অগণতান্ত্রিক কার্যক্রমের বিরোধীতা করার অর্থ রাষ্ট্রের বিরোধীতা বোঝায় না। একটা আদর্শ গণতান্ত্রিক-সুশাসন ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের এবং এর প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা থাকা দরকার। যেখানেই এর ব্যত্যয় হয়ে থাকে বা সরকার ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে, জনস্বার্থ পরিপন্থী অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে-সেখানে গণমাধ্যম এগিয়ে আসবে-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলবে-সরকারকে তার অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ড সম্পর্কে সতর্ক করে দেবে। গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে জনগণের মতামত, বক্তব্য ও চিন্তা ভাবনাগুলোকে প্রচার ও প্রকাশ করে সরকারের অগণতান্ত্রিক দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে এবং সে সাথে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দায়িত্বশীল, দুর্নীতিমুক্ত, জনস্বার্থে নিবেদিত শাসন ও প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।
বিশ্বব্যাপী একটা বিষয় স্বীকৃত যে, মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি শাসক কর্তৃপক্ষের বৃহত্তর জবাবদিহিতা, সেবামূলক কর্মকান্ডের নিশ্চয়তা বিধান ও অর্থনৈতিক উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধি সাধনের নিশ্চিত ভ্যানগার্ড হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ, গণমাধ্যম ও জনমতকে হিসেবের মধ্যে রেখেই সরকার ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসন ভিত্তিক জবাবদিহিমূলক শাসন নিশ্চিত করার জন্য মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা সহ স্বাধীন গণমাধ্যম একান্ত অপরিহার্য।
মুক্ত স্বাধীন মানুষের জন্য স্বাধীন গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। এর ফলে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের ঝুঁকি ও প্রবণতা রোধ করে মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য মৌলিক মানবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমূহের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। মনে রাখা দরকার যে, স্বাধীন গণমাধ্যম ও মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রকে সচল ও গতিশীল রাখা সম্ভব হয়-মানুষকে রাষ্ট্র পরিচালনায় উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়। এতে করে রাষ্ট্র সত্যিকারভাবেই জনগণের রাষ্ট্র হয়ে ওঠে।
লেখক : কলামিস্ট।

