বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুল মঞ্জুর করে রায় দেন।
বুধবার (২৮ আগস্ট) তার জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায়ের জন্য এদিন ধার্য করা হয়।
বুধবার আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসাইন বাপ্পী।
এ সময় আদালত কক্ষে থাকা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসরুল হক চৌধুরী জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানিতে আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, কিছু দিন আগে (মিন্নির) বিয়ে হয়। তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। সে একজন নারী। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ পর্যায়ে। তাই জামিন চাইছি। জামিন দিলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা কোনো সুযোগ নেই।
নয়ন বন্ডের সঙ্গে টেলিফোনে মিন্নির কথোপকথনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বিষয়ে এ আইনজীবী বলেন,পত্রিকায় এসেছে, নয়ন বন্ডের সঙ্গে পুলিশের ৭৭ বার কথা হয়েছে। একজন এসআই আসাদের সঙ্গে ১০১ মিনিট ২৪ সেকেন্ড কথা হয়েছে নয়ন বন্ডের। নয়ন বন্ড তো পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের সৃষ্টি। অথচ এখন সেই দোষ আমাদের ওপর চাপানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত সব আসামিকে এখনো গ্রেফতার করেনি পুলিশ। অথচ মিন্নিকে নিয়ে তাদের যত তোড়জোড়।
এ আইনজীবী শুনানিকালে রিফাতকে কোপানোর ভিডিও ফুটেজ আদালতে দাখিল করে বলেন, এই ভিডিও ফুটেজ পুলিশ ১১টি খণ্ডে ভাগ করেছে। সিসিটিভি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা। সেই ফুটেজ কীভাবে ভাইরাল ও প্রচার হলো? এটা একটা অপরাধ। এজন্যতো তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, এটা স্পর্শকাতর মামলা। তার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করার পর সে (মিন্নি) নয়ন বন্ডের সঙ্গে মোবাইলে পাঁচ বার কথা বলেছে। ঘটনার আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নয়ন বন্ডের সঙ্গে ৮ বার কথা বলেছে। এটা কি প্রমাণ করে না যে সে জড়িত? তিনি বলেন, সেই ষড়যন্ত্রকারী।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরীর বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা বললেন, তদন্ত শেষ পর্যায়ে। টিভিতে দেখেছি, মিন্নির বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত করার অভিযোগ নেই।
তিনি বলেন, মেয়েটির বয়স কম। বলা হচ্ছে ১৯ বছর। ভালোভাবে পরীক্ষা করলে হয়তো দেখা যাবে ১৮ বছরের কম। তাছাড়া মেয়েটি তার স্বামীকে হারিয়েছে। তাই এ পর্যায়ে তাকে জামিন দিলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করি না।
শুদ্ধস্বর/আইপি

