দাবাং লেডির সংগ্রামের গল্প

চোখের সামনে দিন-রাত বাবা-মাকে ঝগড়া করতে দেখেছেন শিরীন। শেষ পর্যন্ত বাবা মার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিয়ে করেন মা। কিন্তু সমাজ সে বিয়ে মেনে নেয়নি।

সন্তানের সামনেই তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অপমান-অপদস্ত করেছে। সেই গ্লানি মেনে নিতে না পেরে মা গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

মায়ের পর সবচেয়ে কাছের মানুষ বোনকে বিষ খাইয়ে মেরেছিল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। স্বামীর ভালোবাসাও পাননি শিরীন। তিন সন্তানের দায়ভার তার কাঁধে তুলে দিয়ে সম্পর্কের ইতি টেনে দিয়েছেন।

তিন সন্তানের মা শিরিনের গল্প এখন অনুপ্রাণিত করছে সবাইকে। মুম্বাইয়ের রাস্তায় শিরীন এখন অটোরিকশা চালান। শুরুতে তাকেও নানা বাধার সম্মুখীন হতে হতো। পুরুষ চালকরা তাকে যাত্রী নিতে দিত না। ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো। কিন্তু সেসব তেমন গায়ে মাখেননি শিরীন। তিন সন্তানদের স্বপ্ন পূরণে শিরীন এগিয়ে গেছেন। আজ শিরীন তৃপ্ত কারণ সন্তানদের চাওয়া পূর্ণ করতে তার এখন বেগ পেতে হয় না। সন্তানদের জন্য শিরীন এখন রোজ নতুন করে স্বপ্ন বুনেন।

যাত্রীরাও এখন শিরীনকে বাহবা দেন। কেউ ভাড়া বাড়িয়েও দেন।  যাত্রী তাকে উপাধি দিয়েছে ‘মুম্বাইয়ের দাবাং লেডি’ (সাহসী নারী) হিসেবে। এই সমর্থন ভালোবাসা পেয়ে শিরীন এখন আরও বেশি আত্মপ্রত্যয়ী। শিরীন চান তার মতো অন্য নারীরাও ঘুরে দাঁড়াক যারা নীরবে অপমান-অবহেলা মুখ বুঝে সহ্য করছে। শিরীন বলেন, এই লড়াই আমি শুধু নিজের জন্য লড়ছি না, সেই সব নারীদের জন্যও যারা নিরবে মুখ বুঝে সব অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছে।  তারাও আমার মতো একজন হতে পারে।

শুদ্ধস্বর/এন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.