ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিংহ ধোনি এখন সাম্মানিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল

লেফটেন্যান্ট কর্নেলেক্রিকেট থেকে দূরে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির নতুন ভূমিকা শুরু হচ্ছে আজ, বুধবার থেকে। জম্মু ও কাশ্মীরে তিনি টেরিটোরিয়াল আর্মির সাম্মানিক লেফটেন্যান্ট কর্নেলের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। সীমান্তে সেনাবাহিনীর সঙ্গে টহল দেবেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

বিরাট কোহালির ভারতীয় দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ রওনা হয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ অন্য মঞ্চে প্রবেশ করছেন ধোনি। আপাতত তিনি নির্বাচকদের জানিয়েছেন, ক্যারিবিয়ান সফরে থাকবেন না। তার পরিবর্তে টেরিটোরিয়াল আর্মির সাম্মানিক কর্নেল হিসেবে সীমান্তে কাজ করবেন। ধোনির বরাবরই ইচ্ছা, অলঙ্কারিক পদে আটকে না থেকে মাঠে নেমে দেশের সেবা করা। সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে এ বার।

টেরিটোরিয়াল আর্মির সদস্যরা প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে সাহায্য করতে পারেন। ধোনি যে দলের সঙ্গে সীমান্তে টহল দেবেন, তাদের নাম ‘ভিক্টর ফোর্স’। যাদের কাজের মধ্যে জঙ্গি দমনের কৌশল শেখা। ধোনি যদিও যুদ্ধ বা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লড়াইয়ের পর্বে এখনই থাকছেন না। তবে  পনেরো দিন জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে থাকার সময় সেনাদের মতোই পুরোপুরি থাকতে হবে তাঁকে। সেনার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টহল এবং পোস্ট ডিউটি করবেন ধোনি।

এর আগে সেনার সঙ্গে প্যারাট্রুপার হিসেবে ট্রেনিং সম্পূর্ণ করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে সব চেয়ে বিখ্যাত উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। উড়ান থেকে লাফিয়ে পড়ে প্যারাট্রুপারের পরীক্ষায় তিনি পাশ করেছেন। এক সেনা কর্তার কথায়, ‘‘এ বারের টহলদারির ভূমিকা পালন ট্রেনিংয়েরই অঙ্গ।’’ মনে করা হচ্ছে, ধোনির মতো তারকার উপস্থিতি সেনাবাহিনী সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে আরও উৎসাহিত করে তুলতে পারে।

তাঁর সেনাবাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধার কথাও সকলের জানা। বিশ্বকাপের সময়ে বিশেষ ফৌজি চিহ্ন গ্লাভসে ব্যবহার করা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। আইসিসি থেকে বার্তা আসে সেই চিহ্ন সরানোর জন্য। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের মধ্যে বিতর্ক বাড়াতে চাননি বলে ধোনি তা সরিয়ে দেন।  সেই সময় টেরিটোরিয়াল আর্মির প্রতীকই ব্যবহার করেছিলেন ধোনি। তারও আগে পুরো ভারতীয় দল রাঁচীতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে ম্যাচে ফৌজি টুপি পরে মাঠে নামে। নিজের ঘরের মাঠে সে দিন কোহালিদের হাতে ফৌজি টুপি তুলে দেন সাম্মানিক কর্নেল ধোনিই।

বিশ্বকাপে ধোনির উইকেটকিপিং ভাল হলেও তাঁর ব্যাটিং নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অতিরিক্ত মন্থর ব্যাটিং এবং খুব বেশি বল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনও দাবি তুলেছে কোনও কোনও মহল যে, তাঁকে সরিয়ে নতুন প্রজন্মকে তুলে ধরার সময় হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, নির্বাচকেরাও ঋষভ পন্থকে সামনে রেখে এগোতে চাইছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে পন্থকে তিনটি ফর্ম্যাটেই দলে রেখেছেন নির্বাচকেরা। ধোনি এই সফরে যাচ্ছেনই না।

সাম্মানিক কর্নেল হিসেবে সীমান্তে ‘ডিউটি’ সেরে আসার পরে তাঁর ক্রিকেট ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাও দেখার। তিনি কি খেলা চালিয়ে যাবেন? নাকি অবসর ঘোষণা করে ব্যাটন তুলে দেবেন ঋষভদের হাতে? সীমান্তে তিনি টহল দেওয়ার সময়েও সম্ভবত এই প্রশ্ন ঘুরতে থাকবে ভারতীয় ক্রিকেট জনতার মাথায়।

শুদ্ধস্বর/আইপি

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.