গোয়েবলসের মন্ত্রশিষ্যা রুমিন ফারহানা ও উত্তেজিত জাতীয় সংসদ

সংসদে এযাবত অনেকের বক্তৃতা শুনে  উত্তেজিত হয়েছি, যাদের বক্তৃতা শুনে উত্তেজিত হয়েছি তাদের মাঝে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, চট্রগ্রাম-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাসদ একাংশের নেতা মইন উদ্দিন খান বাদল এমপি, তরুন নেতা ভোলা-১ আসনের সাবেক এমপি বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।এমন কি একসময় বিএনপিদলীয় সাংসদ পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম সাহেবের বক্তৃতা শুনেও উত্তেজিত হয়েছি। তবে এবার বিএনপি নেত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপি থেকে রুমিন ফারহানের বক্তব্য শুনে সত্যই আমি অতী উত্তেজিত না হয়ে পারলাম না।

20190619_213906

যদিও লম্বা বক্তৃতা করার সুযোগ এখনো তিনি পাননি কিন্ত যেটুকু পেয়েছেন এতে করে তার সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যায়, ব্যক্তিত্বে, রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় এখনো তিনি আন্দালিব রহমানের কাছে নিতান্তই নাবালিকা মাত্র। মনে রাখতে হবে, একজন বাচাল আর সুবক্তা কখনোই এক নয়। রুমিন ফারহান কোন স্পর্ধায় সংসদে দাঁড়িয়ে বিগত সংসদ নির্বাচনে কোন ভোট হয়নি এবং এই সংসদ অবৈধ বলছেন? ৩০ ডিসেম্বর সকাল বেলায় আমার গ্রামের কেন্দ্রে আমি সহ সর্বস্তরের ভোটাররা সতস্ফুর্ত ভাবে লাইনে দাড়িয়ে ভোট দিয়েছি। আমার সেই লাইন ছাড়াও মোট চারটি লাইনে অন্তত শতাধিক ভোটারের সেই সকালটা ছিল বেশ জমজমাট। প্রতিটা লাইনে নৌকা সমর্থিত ভোটার ছাড়াও এই কেন্দ্রের অসংখ্য ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ও ভোটারা সুশৃঙ্খল ভাবে ভোট প্রদান করেছে। সেদিন বিএনপির উপরের নির্দেশ ও নির্বাচনী কৌশল ছিল তাদের ভোটাররা যাতে সকাল সকাল ভোট মারার জন্য কেন্দ্রে চলে আসে। যাতে নৌকা প্রতীকের কর্মীরা তাদের ভোট চুরি করতে না পারে। আমি যে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছিলাম ঘটনাক্রমে আমার পিছনে আমার এলাকার বিএনপির একজন বড় নেতা সহ তাদের অনেক কর্মী সমর্থকরা ভোট দেয়। আমি হলফ করে বলতে পারি, ঐ সময়টায় তাদের সেই মূল্যবান ভোট আগেভাগে নৌকার লোকরা দিয়ে দিয়েছে বা তখন দিতে বাধা দেয়া হচ্ছে, এমন একটা অভিযোগ শুনা যায়নি। একটানা ঘন্টা দুয়েক কেন্দ্রের আসে পাশে দাড়িয়ে ছিলাম এবং সেই সময় বিএনপির কর্মী সমর্থকদের ব্যপক উপস্থিতি থাকলেও কারন ছাড়াই সারাদিন আর তাদের তেমন সারা শব্দ ছিল না।সেদিন সারাদিন তাদের ভোট দানে বাধা দেয়া হয়েছে বা তাদের ভোটারদের মূল্যবান সেই ভোট আগেভাগে কেউ দিয়ে দিয়েছে এমন অভিযোগ একবারও শুনতে পাইনি। আমরা কয়েজন পায়ে হেটে পাশের গ্রাম চরবহর প্রাইমারী স্কুল কেন্দ্রে যাই সেখানেও বিএনপির কর্মী সমর্থকদের এধরনের কোন অভিযোগ শুনতে পাইনি। দুপুরের দিকে গাড়ী নিয়ে বরমী ইউনিয়ন এবং পাশের আসন কাপাসিয়ার সিংহশ্রী ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্র সহ মোট পাচ –সাতটি কেন্দ্র ঘুরে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমরা দেখেছি, প্রতিটা স্থানে নৌকা প্রতীকের নেতা কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের মাঝে সেদিন ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের মাঝে কোন সাড়া বা তৎপরতা দেখা যায়নি। আশা যাওয়ার পথে যাদের সাথে দেখা বা কথা হয়েছে তারা কেঊ বলেনি যে, কোথায়,তাদের ভোট দিতে দেয়া হয়নি বা তাদের ভোট আগে দেয়া হয়ে গেছে। আমার প্রশ্ন, তাহলে কেন তারা ভোটের পরদিন থেকে মহা ভরাডুবি ও পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে এই গোয়েবেলসিয় মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করেছে, যে তাদের ভোট রাতে বা আগেভাগে নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগের কর্মীরা দিয়ে দিয়েছে। সকাল আটটায় যখন ভোট শুরু হয় তখন নিয়ম অনুযায়ী প্রিজাইডিং অফিসার সকল দলের এজেন্টদের সামনেই ভোটের স্বচ্ছ বাক্স পরীক্ষা করে ভোট শুরু করে । আমার প্রশ্ন, তখন যদি কোন অনিয়ম ধরা পরত তাহলে বিএনপির এজেন্টরা কেন বলেনি বা সাথে সাথে প্রতিবাদ জানায়নি ? ভোটেরদিন দুপুর প্রায় ১ টা নাগাদ জাতীয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুজনেই টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন এখন পর্যন্ত সুষ্ট হচ্ছে, দেখা যাক বাকী সময়টায় কি হয় ? আমার প্রশ্ন ১ টা পর্যন্ত যদি তাদের কাছে নির্বাচন সুষ্ট হয়েছে বলে মনে হয়েছিল তাহলে রাতের বেলায় কখন কিভাবে নৌকার নেতা-কর্মীরা ভোটের বাক্স ভরে রেখেছিল ? দেশে এত বড় একটা ভোট মহা চুরির মহাঘঠনা গঠল আর তাদের টের পেতে ভোট শেষ হয়ে ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল? তার মানে একটা পর্যন্ত তারা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পেরেছে বলেই টেলিভিশনে বলেছিল, যে এখন পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে তবে দেখা যাক বাকী সময়টায় কি হয় ? ফলাফল আসতে শুরু করলে যখন নিশ্চিত ভরাডুবির মুখোমুখী তখন তাদের সুর আস্তে আস্তে পাল্টাতে থাকে। তাঁরা এক অদ্ভুত অভিযোগ আবিষ্কার করল, আওয়ামী লীগ তাদের ভোট রাতের বেলায় চুরি করে নিয়ে গেছে। আসলে এদেশে তাদের কিভাবে জন্ম হয়েছে, তাদের জন্মের পর কিভাবে তারা দেশের শাসন ব্যবস্থা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের আড়ালে সামরিক স্বৈরতন্ত্র, বিচার বিভাগের উপর অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং হাঁ অথবা না ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবাস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের সেই নির্বাচন ছিল “পাস করলেও আমি প্রেসিডেন্ট না করলেও আমিই প্রেসিডেন্ট”। গোয়েবলস বলতেন, একটা মিথ্যা অনর্গল বলতে থাকলে একসময় সত্যে পরিগণিত হয় এবং তা ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। রুমিন ফারহানাকে গোয়েবলস তত্ত্ব ও ফরমুলা দিয়ে সংসদে পাঠানো হয়েছে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। এই গোয়েবলসের অনুসারী রুমিন ফারহানাকে নির্বাচন নিয়ে আমার প্রশ্ন, নৌকার কর্মীরা ভোট দিয়ে আগের রাতে ব্যালট বক্স ভর্তি করে রেখেছিল তা আপনাদের ধানের শীষের কর্মীরা কেন সারা রাত ঘুমিয়েছিল? আগের দিনের বাক্স ভরতির কথাটা দেশের মানুষকে জানাতে কেন ভটের দিন রেজাল্ট প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত সময় লেগেছিল? এই ব্যর্থতা কার? স্বাধীনতার পর জয় পরাজয় যাই হোক না কেন প্রতিটা নির্বাচনে ৪০ থেকে ৪৫ % জনগন আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। যে যাই হিসেব নিকেষ কষুক না কেন, আওয়ামী লীগের এই নিজস্ব ভোট ব্যাংক এবং জনসমর্থন যে বেড়েছে বই এক শতাংশও কমেনাই তা ১০০ ভাগ নিশ্চিত। আমার প্রশ্ন আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের এই ৪০ থেকে ৪৫ % জনসমর্থন কোথায় গেছে? রুমিন ফারহানকে আমার প্রশ্ন, যদি আপনাদের এতই জনসমর্থন থেকে থাকে তার বিপরীতে জনসমর্থনহীন এই ভুয়া সরকারের বিরুদ্ধে কঠিন এবং কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলে আপনার “মা’ তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারছেন না কেন? রুমিন ফারহান, চাপাবাজি সব জায়গায় খাটেনা। এই সংসদে পাঁচবার /ছয়বারের এমপি মন্ত্রীরাও আছেন।কোন সামরিক উর্দি পরা রাতের অন্ধকারে ক্ষমতা দখল করা জেনারেলের পকেট থেকে বানানো মন্ত্রী তারা নয়। অবিরাম মিথ্যাচারের একটা সীমা আছে, বেয়াদবি সব যায়গায় খাটেনা। কাজেই সামনে সংযত হয়ে কথা বলবেন, সত্য কথা বলবেন। আর যদি সৎ সাহস থাকে তাহলে নীচের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিবেন এবং এই কয়টি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে পারলে ভাবব আপনি সংসদে বসার উপযুক্ত। আপনার রাজনৈতিক বোধজ্ঞান হয়েছে ততপরবর্তী দেশের সমসাময়ীক রাজনীতিতে আপনার নেতা তারেক রহমান এবং দলের অপ রাজনীতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন রেখে আমার লেখা শেষ করছি, ২০১৫ সালের শুরুতে নেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে টানা ৯০ দিনের অবরোধের নামে কয়েকশত মানুষকে পুড়িয়ে মারা ও যে নাশকতা হয়েছিল তার কি জবাব দিবেন, এটা কি গণতন্ত্র ছিল? গোয়েবল তত্ত টেনে হয়ত বলবেন, এটা আওয়ামীলীগ নিজেরা করেছিল। আমার প্রশ্ন, তাহলে আপনার দেশনেত্রী কেন তখন অবরোধ প্রত্যাহার করে অন্য কোন আন্দোলনের ডাক দেয়নি? আপনার মনে আছে ? ৫ই মে ২০১৩, আপনার নেত্রী খালেদা জিয়ার হেফাজতের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির নামে সহিংস বিক্ষোভের মাধ্যমে সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জরীত থেকে রাত সাড়ে আটটায় ঐ বিবৃতির কথা? সেদিনও কি আওয়ামী লীগ অবৈধ সরকার ছিল? এবং সেই দিন যা ঘটেছিল এটা কোন গনতন্ত্র ছিল? গ্রেনেড মেরে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন, আইভি রহমানকে হত্যা করেছেন তখন দেশে কোন গনতন্ত্র ছিল ? পাঁচ কিলোমিটার হাঁটার পরেও শেখ হাসিনাকে সিএমএইচ এ প্রবেশ করতে দেননি তখন দেশে কোন গনতন্ত্র ছিল ? বোমা মেরে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করেছেন, শাহ এম এস কিবরিয়াকে হত্যা করেছেন তখন দেশে কোন গনতন্ত্র ছিল? পাঁচ বছর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামীলীগ নেতাদের আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে ডুকতে দেননি, রাজপথে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, আসদুজ্জামান নুর সহ ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাদের জামাতী পুলিশ দিয়ে গরুর মত পিটিয়ে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিলেন তখন দেশে গনতন্ত্র ছিল ? পার্টি অফিসের ভেতর নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকল নেতাকর্মীকে পুলিশ দিয়ে পিটিয়েছেন তখন দেশে কোন গণতন্ত্র ছিল ? শব্দ-দূষণ হবে – এই অজুহাতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে মাইক ব্যবহার করতে দেননি শেখ হাসিনার বক্তব্য রেকর্ড করায় সাংবাদিকদের কাছ থেকে ক্যামেরা কেড়ে নিয়েছেন, তখন দেশে কোন গনতন্ত্র ছিল ? ক্ষমতায় বসেই একুশে টিভিকে বন্ধ করেছিলেন তখন দেশে কোন গনতন্ত্র ছিল ? সাংবাদিক মানিক সাহা, হুমায়ূন কবিরদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন, তখন দেশে কোন গনতন্ত্র ছিল ? সংখ্যালঘু প্রতিটি গোষ্ঠীর উপর পাকিস্তানি কায়দায় নির্যাতন করেছেন, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন নিয়ে রিপোর্ট করায় শাহরিয়ার কবিরদেরকে ধরে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছেন তখন দেশে কোন গনতন্ত্র ছিল ?

20190619_214040

MOSTAQUE AHMED

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.